সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকা নেওয়ার অভিযোগে ফের চাপে পড়লেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক তথা ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) সুমিত রায়। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই একের পর এক বিতর্ক এবং অভিযোগের কারণে শিরোনামে উঠে এসেছেন তিনি। ইতিমধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। এমনকি তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা এবং লুক আউট নোটিশ জারির খবরও প্রকাশ্যে এসেছে। এর মধ্যেই নতুন করে দায়ের হওয়া অভিযোগ তাঁর আইনি জটিলতা আরও বাড়িয়ে দিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ডেবরা থানায় সম্প্রতি একটি লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাঁর কাছ থেকে কয়েক লক্ষ টাকা নেওয়া হয়েছিল। অভিযোগে সরাসরি সুমিত রায়ের নাম উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
অভিযোগকারী জানিয়েছেন, তিনি সরাসরি সুমিত রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। একজন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপিত হয়। ওই মধ্যস্থতাকারী দাবি করেছিলেন যে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় এবং তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করার সুবাদে সুমিত রায়ের সরকারি দফতরে প্রভাব রয়েছে। সেই প্রভাব খাটিয়ে সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়া সম্ভব বলেই তাঁকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল।
অভিযোগ অনুযায়ী, চাকরির প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদান করেন ওই ব্যক্তি। টাকা দেওয়ার পর তাঁকে কিছু নথিপত্রও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, চাকরির প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাঁর মেডিক্যাল পরীক্ষাও সম্পন্ন করা হয়। ফলে তিনি প্রায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিলেন যে খুব শীঘ্রই সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পাবেন।
কিন্তু দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও চাকরির কোনও নিয়োগপত্র তাঁর হাতে পৌঁছায়নি। বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও সন্তোষজনক উত্তর না পাওয়ায় তাঁর সন্দেহ আরও গভীর হয়। অবশেষে প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই তিনি ডেবরা থানার দ্বারস্থ হন এবং লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তকারীরা অভিযোগকারীর কাছ থেকে বিভিন্ন নথি, লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য এবং যোগাযোগের বিবরণ সংগ্রহ করছেন বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগে উল্লিখিত মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে আর কারও নাম উঠে আসে কি না, সেদিকেও নজর রাখছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, এর আগেও সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের আর্থিক অনিয়ম এবং প্রতারণার অভিযোগ সামনে এসেছে। সেইসব অভিযোগের তদন্ত এখনও চলছে। নতুন এই অভিযোগ সামনে আসার পর রাজনৈতিক মহলেও চর্চা শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলি বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকারের ভূমিকা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে।
তবে এখনও পর্যন্ত এই নতুন অভিযোগের বিষয়ে সুমিত রায় বা তাঁর আইনজীবীর তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের সত্যতা এবং এর পেছনের বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করাই শ্রেয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এখন দেখার বিষয়, পুলিশের তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে এবং সরকারি চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ লেনদেনের এই অভিযোগ কতটা সত্য প্রমাণিত হয়। তবে নতুন অভিযোগ যে সুমিত রায়ের আইনি ও রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।

