দেশজুড়ে ব্যাংক কর্মীদের ডাকা ধর্মঘট ঘিরে বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে সাধারণ ব্যাংকিং পরিষেবায়। **শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬** দেশব্যাপী ব্যাংক ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে United Forum of Bank Unions বা UFBU। ব্যাংক কর্মীদের অন্যতম প্রধান দাবি সপ্তাহে পাঁচ দিন কাজের ব্যবস্থা চালু করা। এর পাশাপাশি Performance Linked Incentive বা PLI সংক্রান্ত নীতির পুনর্বিবেচনার দাবিও রয়েছে। ফলে শুক্রবার বহু ব্যাংকের শাখায় সরাসরি পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ধর্মঘটের কারণে টাকা জমা, নগদ তোলা, চেক সংক্রান্ত কাজ, গ্রাহক পরিষেবা এবং অন্যান্য শাখাভিত্তিক পরিষেবায় সমস্যা হতে পারে। তবে UPI, মোবাইল ব্যাংকিং, ইন্টারনেট ব্যাংকিং এবং ATM-এর মতো ডিজিটাল পরিষেবা সাধারণত চালু থাকার কথা। SBI-সহ একাধিক ব্যাংক ইতিমধ্যেই গ্রাহকদের জরুরি কাজ আগে সেরে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
### কেন ধর্মঘটের ডাক?
ব্যাংক কর্মী সংগঠনগুলির দীর্ঘদিনের অন্যতম দাবি হল সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যাংকিং পরিষেবা চালু করা। বর্তমানে ব্যাংকগুলিতে দ্বিতীয় এবং চতুর্থ শনিবার ছুটি থাকে। কর্মীদের দাবি, অন্যান্য বহু সরকারি ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানে ইতিমধ্যেই পাঁচ দিনের কর্মসপ্তাহ চালু রয়েছে। ব্যাংক কর্মীদের ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা কার্যকর করা হোক।
UFBU-র আন্দোলনের অন্যতম প্রধান বিষয় এই **five-day banking week**। কর্মীদের মতে, সপ্তাহে পাঁচ দিন কাজের ব্যবস্থা হলে কর্মীদের কাজের চাপ এবং ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে আরও ভালো ভারসাম্য তৈরি হতে পারে। একইসঙ্গে শনিবারের ব্যাংকিং পরিষেবা বন্ধ করার পরিবর্তে সপ্তাহের অন্য কর্মদিবসে পরিষেবা ও কাজের সময় আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব বলেও ইউনিয়নগুলির বক্তব্য।
### PLI নিয়েও আপত্তি ব্যাংক কর্মীদের
শুধু পাঁচ দিনের কর্মসপ্তাহ নয়, Performance Linked Incentive বা PLI নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে ব্যাংক ইউনিয়নগুলির। কর্মী সংগঠনগুলির অভিযোগ, PLI ব্যবস্থার সাম্প্রতিক পরিবর্তনে উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধা পাচ্ছেন এবং কর্মীদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি হচ্ছে।
এই বিষয়টি নিয়েও পুনর্বিবেচনার দাবি তুলেছে UFBU। সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, অর্থ মন্ত্রক PLI সংক্রান্ত ব্যবস্থাটি সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছে। কিন্তু তাতেও ইউনিয়নগুলি ১১ সেপ্টেম্বরের ধর্মঘট প্রত্যাহার করেনি।
অর্থাৎ শুক্রবারের ধর্মঘটের মূল দাবিগুলির মধ্যে পাঁচ দিনের কর্মসপ্তাহ যেমন রয়েছে, তেমনই কর্মীদের পারফরম্যান্স-ভিত্তিক প্রণোদনা সংক্রান্ত নীতির পরিবর্তনের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ থাকছে।
### শুক্রবার কোন পরিষেবায় সমস্যা হতে পারে?
ব্যাংক ধর্মঘটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে শাখাভিত্তিক পরিষেবায়। গ্রাহকদের নগদ টাকা জমা বা তোলা, পাসবুক আপডেট, চেক জমা, ডিমান্ড ড্রাফট, বিভিন্ন নথিপত্রের কাজ এবং সরাসরি কাউন্টার পরিষেবায় সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষ করে যাঁদের শুক্রবার ব্যাংকের শাখায় গিয়ে জরুরি কোনও কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে, তাঁদের আগে থেকেই কাজটি সেরে নেওয়া ভালো। SBI-সহ বিভিন্ন ব্যাংক ধর্মঘটের সম্ভাব্য প্রভাবের কথা জানিয়ে গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় লেনদেন আগে সম্পন্ন করার পরামর্শ দিয়েছে।
তবে সব ধরনের ব্যাংকিং পরিষেবা যে পুরোপুরি বন্ধ থাকবে, এমন নয়। অনলাইন ব্যাংকিং, মোবাইল অ্যাপ, UPI এবং ATM পরিষেবা চালু থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও ধর্মঘটের কারণে নগদ সরবরাহ বা কিছু পরিষেবায় বিলম্ব হলে ATM-এও স্থানীয়ভাবে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
### সামনে আরও ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি
১১ সেপ্টেম্বরের ধর্মঘটই শেষ নয়। ব্যাংক ইউনিয়নগুলি পরবর্তী সময়েও বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, **২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর** আরও তিন দিনের দেশব্যাপী ধর্মঘটের কর্মসূচি রয়েছে। এরপর **২৬ অক্টোবর থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের** হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
এর ফলে ব্যাংক কর্মীদের দাবি দ্রুত মীমাংসা না হলে আগামী সপ্তাহ ও মাসগুলিতেও ব্যাংকিং পরিষেবায় একাধিকবার বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে উৎসবের মরশুমের আগে এই ধরনের কর্মসূচি হলে গ্রাহকদের উপর তার প্রভাব আরও বেশি হতে পারে।
### গ্রাহকদের কী করা উচিত?
শুক্রবার ব্যাংকে কোনও জরুরি কাজ থাকলে তা সম্ভব হলে বৃহস্পতিবারের মধ্যেই সেরে নেওয়া নিরাপদ। বিশেষ করে নগদ টাকা তোলা, চেক জমা দেওয়া, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র জমা বা শাখায় গিয়ে কোনও পরিষেবা নেওয়ার প্রয়োজন থাকলে আগে থেকেই পরিকল্পনা করা ভালো।
অন্যদিকে সাধারণ ডিজিটাল লেনদেনের জন্য UPI, মোবাইল ব্যাংকিং এবং ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবহার করা যেতে পারে। ATM পরিষেবা চালু থাকার কথা থাকলেও জরুরি নগদের প্রয়োজন থাকলে আগে থেকেই কিছু টাকা তুলে রাখা যেতে পারে।
ব্যাংক ধর্মঘটের দিন কোনও ডিজিটাল লেনদেনে সমস্যা হলে গ্রাহকদের একই লেনদেন বারবার করার আগে transaction status যাচাই করার পরামর্শও দেওয়া যায়। কারণ ধর্মঘট সরাসরি UPI বা অনলাইন ব্যাংকিং বন্ধ না করলেও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ব্যাক-এন্ড পরিষেবায় বিলম্ব হলে কিছু লেনদেন প্রভাবিত হতে পারে।
### পাঁচ দিনের ব্যাংকিং ব্যবস্থা কি এবার চালু হবে?
পাঁচ দিনের কর্মসপ্তাহ নিয়ে ব্যাংক কর্মীদের দাবি নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই ইউনিয়নগুলি এই ব্যবস্থা কার্যকর করার দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু দাবি উঠলেই সঙ্গে সঙ্গে নিয়ম পরিবর্তন হয় না। ব্যাংকিং পরিষেবার সময়সূচি, কর্মীদের কাজের কাঠামো এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিষয়টি বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
তাই ১১ সেপ্টেম্বরের ধর্মঘটের পরেই দেশে পাঁচ দিনের ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু হয়ে যাবে—এমন কোনও সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। আপাতত এটি ব্যাংক ইউনিয়নগুলির অন্যতম প্রধান দাবি এবং সেই দাবিকে সামনে রেখেই আন্দোলন চলছে।
সব মিলিয়ে, **১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবারের ব্যাংক ধর্মঘট সাধারণ গ্রাহকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ**। পাঁচ দিনের কর্মসপ্তাহ, PLI নীতি পুনর্বিবেচনা-সহ বিভিন্ন দাবিতে UFBU-র ডাকা এই ধর্মঘটে শাখাভিত্তিক পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই জরুরি ব্যাংকিং কাজ আগে সেরে নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ডিজিটাল পরিষেবা ব্যবহার করাই আপাতত সবচেয়ে নিরাপদ পথ। সামনে ২৮–৩০ সেপ্টেম্বরের তিন দিনের ধর্মঘট এবং ২৬ অক্টোবর থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি থাকায় বিষয়টি আগামী দিনেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকতে পারে।


