Wednesday, November 4, 2026

Creating liberating content

यूईएम जयपुर ने मानवता...

जयपुर में आयोजित मानवता के लिए दौड़ के दसवें संस्करण में यूनिवर्सिटी ऑफ...

अक्टूबर 2026 में पड़ेंगी...

सनातन हिंदू धर्म में एकादशी तिथि का विशेष धार्मिक महत्व माना जाता है।...

इंफोसिस और विप्रो में...

देश की प्रमुख सूचना प्रौद्योगिकी सेवा कंपनियों में शामिल इंफोसिस और विप्रो के...

स्वर्ग में कर्ण को...

महाभारत के महान योद्धाओं में कर्ण का नाम केवल उनकी वीरता और संघर्ष...
Homeবাংলাচাকরির টোপে বাংলাদেশে...

চাকরির টোপে বাংলাদেশে পাচার কলকাতার বধূ, দুই মাস পর দেশে ফেরা

সংসারে অভাব। পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি সামলাতে কাজের সন্ধানে বেরিয়েছিলেন কলকাতার এক বধূ। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক ব্যক্তির দেওয়া চাকরির প্রস্তাবকে বিশ্বাস করেছিলেন তিনি। প্রতিশ্রুতি ছিল তামিলনাড়ুর একটি ওয়ার্কশপে মোটা বেতনের কাজ। কিন্তু সেই চাকরির আশ্বাসই শেষ পর্যন্ত তাঁকে নিয়ে যায় সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশে। প্রায় দু’মাস পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে দেশে ফিরলেন উত্তর কলকাতার শ্যামপুকুরের বাসিন্দা মধুমিতা মিস্ত্রি মণ্ডল। তাঁর অভিযোগ, চাকরি দেওয়ার নাম করে তাঁকে বাংলাদেশে পাচার করে দেওয়া হয়েছিল।

ঘটনাটি সামনে আসার পর ফের প্রশ্ন উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো চাকরির প্রস্তাব এবং তার আড়ালে সক্রিয় মানবপাচার চক্র নিয়ে। বিশেষ করে আর্থিকভাবে সমস্যায় থাকা মানুষদের কীভাবে আকর্ষণীয় বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে ফাঁদে ফেলা হচ্ছে, তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

## সংসারে অভাব, কাজের খোঁজে মধুমিতা

মধুমিতা আদতে উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালির বাসিন্দা। বেশ কয়েক বছর আগে তাঁর বিয়ে হয়। পরে পারিবারিক অশান্তির কারণে তিনি ভাইয়ের কাছে চলে আসেন। তাঁর ভাই দীপঙ্কর মিস্ত্রিই পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন।

এর মধ্যেই মধুমিতা এবং তাঁর সন্তান ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে আশ্রয় নেন। ফলে পরিবারের আর্থিক চাপ আরও বাড়ে। সংসারের এই পরিস্থিতিতেই মধুমিতা নিজে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন। শুরু হয় চাকরির খোঁজ।

এই সময়ই সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়। ওই ব্যক্তি তাঁকে কাজের প্রস্তাব দেন বলে অভিযোগ। তামিলনাড়ুর একটি ওয়ার্কশপে ভালো বেতনের চাকরির কথা বলা হয়েছিল। আর্থিক সমস্যার মধ্যে সেই প্রস্তাব মধুমিতার কাছে যথেষ্ট আকর্ষণীয় মনে হয়।

## ১ জুলাই বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন

চাকরির আশ্বাসে মধুমিতা গত **১ জুলাই** শ্যামপুকুরের গালিফ স্ট্রিটের বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। পরিবারের কাছে তাঁর ধারণা ছিল, তিনি তামিলনাড়ুতে কাজ করতে যাচ্ছেন।

কিন্তু বাড়ি থেকে বেরনোর পর আর তাঁর সঙ্গে পরিবারের কোনও যোগাযোগ হয়নি। তাঁর মোবাইল ফোনও বন্ধ হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। কোথায় রয়েছেন, কী অবস্থায় রয়েছেন—কোনও তথ্যই পাওয়া যাচ্ছিল না।

পরিবারের কাছে বিষয়টি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে কারণ মধুমিতা যে চাকরির জন্য বেরিয়েছিলেন, তার সঙ্গে বাস্তবে কী ঘটছে, সে সম্পর্কে কোনও তথ্যই মিলছিল না।

## ১৭ দিন পর বাংলাদেশ থেকে ফোন

নিখোঁজ হওয়ার **১৭ দিন পর** আচমকাই ভাই দীপঙ্করের কাছে ফোন করেন মধুমিতা। তখনই সামনে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

মধুমিতা জানান, তামিলনাড়ুতে চাকরি দেওয়ার কথা বলে তাঁকে আসলে বাংলাদেশে পাচার করে দেওয়া হয়েছে। কোনওভাবে সেখান থেকে পালিয়ে তিনি গোপালগঞ্জের একটি হাসপাতালে আশ্রয় নিয়েছেন বলেও জানান।

পরিবারের কাছে এই ফোন কার্যত নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করে। কীভাবে তিনি সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছলেন, কারা তাঁকে সেখানে নিয়ে গেল এবং সেখানে তাঁর সঙ্গে কী ঘটেছিল—এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে শুরু করে পরিবার।

## শ্যামপুকুর থানায় অভিযোগ

বোনের কাছ থেকে বাংলাদেশে থাকার খবর পাওয়ার পর আর দেরি করেননি দীপঙ্কর। তিনি শ্যামপুকুর থানায় গিয়ে ডায়েরি করেন।

শুধু স্থানীয় থানাতেই অভিযোগ জানানো হয়নি। বিষয়টি জানানো হয় রাজ্য পুলিশের ডিজি, সিআইডির অতিরিক্ত ডিজি, মানবপাচার দমন শাখা, কলকাতা পুলিশের কমিশনার এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককেও।

অর্থাৎ ঘটনাটি স্থানীয় নিখোঁজের ঘটনা হিসেবে সীমাবদ্ধ না রেখে আন্তঃসীমান্ত মানবপাচারের সম্ভাব্য অভিযোগ হিসেবেও প্রশাসনের নজরে আনা হয়।

## হাসপাতালেই আশ্রয় নিয়েছিলেন মধুমিতা

বাংলাদেশে পৌঁছনোর পর কোনওভাবে পালিয়ে গোপালগঞ্জের একটি হাসপাতালে আশ্রয় নেন মধুমিতা বলে তাঁর পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে। সেখান থেকেই তিনি নিজের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন।

এই পর্যায়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে তাঁকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা। কারণ সীমান্তের ওপারে আটকে থাকা অবস্থায় তাঁর নিরাপত্তা এবং দেশে ফেরার আইনি প্রক্রিয়া—দুটিই ছিল বড় বিষয়।

শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

## ঘোজাডাঙা সীমান্ত দিয়ে দেশে ফিরলেন

প্রায় দু’মাস পর বুধবার ভারতে ফিরলেন মধুমিতা। আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে বাংলাদেশ থেকে তাঁকে ঘোজাডাঙা আউটপোস্ট হয়ে ভারতে ফেরানো হয়।

ঘোজাডাঙা আউটপোস্টে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের পবন কুমার এবং সেকেন্ড সেক্রেটারি (ভিসা) চন্দ্রজিৎ মুখোপাধ্যায় মধুমিতাকে তাঁর ভাই দীপঙ্কর মিস্ত্রির হাতে তুলে দেন। সেই সময় উপস্থিত ছিলেন বিএসএফের ঘোজাডাঙা আউটপোস্টের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড্যান্ট সুজিত কুমার, বসিরহাট থানার এএসআই গোপাল মণ্ডল এবং কলকাতা পুলিশের অ্যান্টি হিউম্যান ট্র্যাফিকিং ইউনিটের সদস্যরা।

সেখান থেকে ভাইয়ের সঙ্গে কলকাতায় ফিরে আসেন মধুমিতা।

## সোশ্যাল মিডিয়ার চাকরির বিজ্ঞাপন কতটা নিরাপদ?

এই ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় পাওয়া চাকরির প্রস্তাব কতটা যাচাই করে নেওয়া উচিত?

বর্তমানে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে দ্রুত চাকরির সুযোগ, মোটা বেতন, থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা বা কোনও অভিজ্ঞতা ছাড়াই কাজের মতো নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। আর্থিক সমস্যায় থাকা চাকরিপ্রার্থীদের কাছে এই ধরনের প্রস্তাব আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।

কিন্তু কোনও অপরিচিত ব্যক্তি যদি ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে চাকরির প্রস্তাব দেন, বিশেষ করে অন্য রাজ্য বা অন্য দেশে যাওয়ার কথা বলেন, তাহলে নিয়োগকর্তা, প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা, চাকরির চুক্তি, বেতন, যাতায়াতের ব্যবস্থা এবং পরিচয়পত্র সংক্রান্ত বিষয়গুলি যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।

## সীমান্ত পেরিয়ে পাচারের অভিযোগে উদ্বেগ

মধুমিতার ঘটনা আরও একবার দেখিয়ে দিল, চাকরির প্রলোভনকে ব্যবহার করে কীভাবে মানুষকে বিপদের মধ্যে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠতে পারে। বিশেষ করে মহিলা চাকরিপ্রার্থীদের ক্ষেত্রে অপরিচিত নিয়োগদাতার সঙ্গে যোগাযোগ এবং অজানা জায়গায় একা যাত্রার আগে বাড়ির লোককে বিস্তারিত তথ্য জানানো জরুরি।

তবে মধুমিতার ক্ষেত্রে ঠিক কারা তাঁকে বাংলাদেশে নিয়ে গিয়েছিল, কীভাবে সীমান্ত পার করানো হয়েছিল এবং এই ঘটনায় কোনও সংগঠিত চক্র যুক্ত কি না—সেই সব প্রশ্নের উত্তর তদন্তের বিষয়। আপাতত তাঁর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতেই ঘটনাটি মানবপাচারের সম্ভাব্য ঘটনা হিসেবে সামনে এসেছে।

## প্রশাসনের একাধিক সংস্থা যুক্ত

ঘটনাটির গুরুত্ব বোঝা যায়, কারণ কলকাতা পুলিশের অ্যান্টি হিউম্যান ট্র্যাফিকিং ইউনিট থেকে শুরু করে বিএসএফ এবং ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের প্রতিনিধিরাও মধুমিতাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন।

সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে একজন ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশ থেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। সেই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয় তাঁকে।

## পরিবারের কাছে এখন স্বস্তি, তদন্তে নজর

দীর্ঘ অপেক্ষার পর মধুমিতা নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরেছেন—এটাই আপাতত সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর। তবে তাঁকে চাকরির প্রস্তাব দেওয়া ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের পরিচয়, কীভাবে তাঁকে সীমান্তের ওপারে পাঠানো হল এবং এই ঘটনার পিছনে কোনও পাচারচক্র রয়েছে কি না, তা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

মধুমিতার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত এগোলে সেই প্রশ্নগুলির উত্তর সামনে আসতে পারে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে আর কাউকে একই ধরনের বিপদের মধ্যে পড়তে না হয়, সেদিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।

### সতর্ক থাকুন

চাকরির সন্ধানে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করলেও অপরিচিত ব্যক্তির দেওয়া প্রস্তাব যাচাই না করে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে অন্য রাজ্য বা বিদেশে চাকরির ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তার পরিচয়, অফিসের ঠিকানা, লিখিত নিয়োগপত্র এবং বৈধ ভিসা বা যাতায়াতের নথি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

মধুমিতার ঘটনা সেই সতর্কবার্তাই আরও একবার সামনে আনল—**চাকরির প্রতিশ্রুতি যত আকর্ষণীয়ই হোক, যাচাই ছাড়া বিশ্বাস করা বিপজ্জনক হতে পারে।**

Get notified whenever we post something new!

spot_img

Create a website from scratch

Just drag and drop elements in a page to get started with Newspaper Theme.

Continue reading

ঔরঙ্গজেবের আমলের ৩৩৪ বছরের বনেদি পুজোর অমলিন ঐতিহ্য

পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুজোর ইতিহাসে বনেদি পুজোর আলাদা মর্যাদা রয়েছে। সেই ঐতিহ্যের অন্যতম উজ্জ্বল অধ্যায় পূর্ব বর্ধমানের পানাগড়ের সোঁয়াই গ্রামের মুখোপাধ্যায় পরিবারের দুর্গাপুজো। এ বছর এই পুজো ৩৩৪ বছরে পা দিয়েছে। শুধু প্রাচীনত্ব নয়, এই পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে স্বপ্নাদেশ, বর্ধমানের...

বাংলায় পথচলা শুরু বিজয় থলপতির টিভিকের নতুন অধ্যায়

তামিলনাড়ুতে রাজনৈতিক সাফল্যের পর এবার পশ্চিমবঙ্গে সাংগঠনিক বিস্তার শুরু করল বিজয় থলপতি-র দল তামিলাগা ভেট্রি কাজাগম (TVK)। পূর্ব বর্ধমান জেলার ফাগুপুরে দলের প্রথম কার্যালয় খোলার মাধ্যমে বাংলায় আনুষ্ঠানিকভাবে পথচলা শুরু হয়েছে। এই পদক্ষেপের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—তাহলে...

সন্ত্রাসে শীর্ষে পাকিস্তান, হাক্কানির বিস্ফোরক আত্মসমালোচনা ভাইরাল

সন্ত্রাসবাদে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় পাকিস্তানের শীর্ষে উঠে আসার দাবি ঘিরে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিস (IEP)-এর প্রকাশিত Global Terrorism Index 2026-এর তথ্য সামনে আসার পর পাকিস্তানের প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রদূত হুসেন হাক্কানি ইসলামাবাদের দীর্ঘদিনের...

Enjoy exclusive access to all of our content

Get an online subscription and you can unlock any article you come across.