হরিয়ানায় সরকারি অর্থ তছরুপের অভিযোগ ঘিরে তদন্তে বড়সড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা CBI। প্রায় **৫০৪ কোটি টাকার সরকারি তহবিল তছরুপের মামলায় ৬ জন IAS আধিকারিক-সহ মোট ১৯ জনের বিরুদ্ধে তৃতীয় চার্জশিট পেশ করেছে CBI**। গত ২ সেপ্টেম্বর পঞ্চকুলার বিশেষ CBI আদালতে এই চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। নতুন ১৯ জনকে যুক্ত করার পর এই মামলায় এখনও পর্যন্ত চার্জশিটভুক্ত অভিযুক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭।
মামলাটি মূলত হরিয়ানা সরকারের বিভিন্ন দফতর ও সংস্থার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রাখা বিপুল সরকারি অর্থের কথিত বেআইনি লেনদেন এবং তছরুপকে কেন্দ্র করে। তদন্তে সরকারি আধিকারিকদের পাশাপাশি ব্যাংকের কয়েকজন কর্মীর ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হয়েছে।
### কারা রয়েছেন নতুন চার্জশিটে?
CBI-এর তৃতীয় চার্জশিটে নাম রয়েছে হরিয়ানা ক্যাডারের **৬ জন IAS আধিকারিকের**। তাঁদের পাশাপাশি **IDFC First Bank-এর ৩ জন আধিকারিক, AU Small Finance Bank-এর ১ জন আধিকারিক এবং হরিয়ানা সরকারের আরও ৯ জন আধিকারিকের** নাম রয়েছে। অর্থাৎ সরকারি প্রশাসন এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার একাধিক স্তরের ব্যক্তির বিরুদ্ধে তদন্তের অভিযোগ সামনে এসেছে।
CBI-এর অভিযোগ, সরকারি বিভিন্ন দফতরের অর্থ পরিচালনার ক্ষেত্রে নিয়মবহির্ভূত লেনদেন এবং তহবিল স্থানান্তরের মাধ্যমে বিপুল অর্থ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্র হয়েছিল। তবে চার্জশিটে নাম থাকা মানেই আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে—এমন নয়। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিচার এখনও বাকি।
### আটটি সরকারি দফতরের অর্থ নিয়ে প্রশ্ন
তদন্তে হরিয়ানা সরকারের **আটটি দফতর ও সংস্থার** তহবিলের গতিবিধি খতিয়ে দেখা হয়েছে। সরকারি অর্থ নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার বদলে কীভাবে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অন্যত্র সরানো হয়েছিল, সেই পথ অনুসরণ করছে CBI।
প্রাথমিক তদন্তে সরকারি তহবিলের ব্যাংকিং ব্যবস্থাপনা, ফিক্সড ডিপোজিট এবং অর্থ স্থানান্তরের নথিপত্রের উপর বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সরকারি সংস্থার নামে থাকা অর্থ কীভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রাখা হয়েছিল এবং পরে সেই অর্থের গতিপথ কী ছিল, তা তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
### ব্যাংক আধিকারিকদের ভূমিকাও তদন্তের আওতায়
মামলায় শুধু সরকারি আধিকারিকদেরই নয়, বেসরকারি ব্যাংকের কর্মীদের ভূমিকাও সামনে এসেছে। নতুন চার্জশিটে IDFC First Bank-এর তিন আধিকারিক এবং AU Small Finance Bank-এর একজন আধিকারিকের নাম রয়েছে।
CBI-এর তদন্ত অনুযায়ী, সরকারি অর্থের লেনদেনে ব্যাংকিং প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হয়েছিল কি না এবং সেই প্রক্রিয়ায় কোনও আধিকারিক নিয়ম ভেঙে সাহায্য করেছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হয়েছে। সরকারি তহবিলের সঙ্গে সম্পর্কিত নথি, অ্যাকাউন্ট এবং লেনদেনের রেকর্ড তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
### তৃতীয় চার্জশিটে আরও বিস্তৃত হল তদন্ত
এটি এই মামলায় CBI-এর **তৃতীয় চার্জশিট**। অর্থাৎ তদন্ত এক ধাপে শেষ হয়নি; বরং নতুন তথ্য ও নথি সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গে আরও ব্যক্তির নাম যুক্ত হয়েছে। এর আগে দায়ের করা চার্জশিটগুলির পর এবার আরও ১৯ জনকে অভিযুক্ত করা হল।
নতুন চার্জশিটের পর মামলাটি আরও বিস্তৃত হয়েছে। মোট ৩৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা পড়ায় সরকারি অর্থের কথিত তছরুপের পরিধি এবং এর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
### IAS আধিকারিকদের নাম ঘিরে বাড়ল চর্চা
মামলায় একসঙ্গে ছয় IAS আধিকারিকের নাম ওঠায় প্রশাসনিক মহলেও বিষয়টি নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। সাধারণত সরকারি অর্থের ব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন দফতরের আর্থিক প্রশাসনে উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। ফলে তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
CBI-এর অভিযোগের ভিত্তি হিসেবে সরকারি নথি, ব্যাংক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট দফতরের আর্থিক ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের দোষী বলা যাবে না। মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়াতেই অভিযোগের সত্যতা যাচাই হবে।
### কীভাবে হয়েছিল সরকারি অর্থের কথিত অপব্যবহার?
তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে সরকারি অর্থের স্থানান্তর এবং তার পরবর্তী গতিপথ। CBI-এর অভিযোগ অনুযায়ী, বিভিন্ন সরকারি দফতরের অর্থ ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে এমনভাবে সরানো হয়েছিল, যার ফলে সরকারি তহবিলের অপব্যবহার বা তছরুপের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
তদন্তকারীরা অর্থের উৎস থেকে শুরু করে বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর, সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও ব্যক্তিদের সঙ্গে লেনদেন এবং শেষ পর্যন্ত সেই অর্থ কোথায় গিয়েছে—সবকিছু খতিয়ে দেখছেন। এর ফলে মামলাটি শুধু একটি আর্থিক অনিয়মের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অভিযোগের দিকে এগিয়েছে।
### এবার আদালতে কী হবে?
চার্জশিট পেশ হওয়ার পর মামলাটি এখন বিচারিক প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপে এগোবে। আদালত CBI-এর জমা দেওয়া নথি ও অভিযোগ খতিয়ে দেখবে। এরপর আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ হবে।
তদন্তকারী সংস্থার চার্জশিটে কোনও ব্যক্তির নাম থাকা এবং আদালতে সেই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া—দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। ফলে ৫০৪ কোটি টাকার এই মামলায় CBI-এর অভিযোগের পাশাপাশি আদালতের পর্যবেক্ষণ ও ভবিষ্যৎ বিচারপ্রক্রিয়াই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে কে কতটা দায়ী।
এই ঘটনায় সরকারি অর্থের নিরাপত্তা, ব্যাংকিং ব্যবস্থার নজরদারি এবং প্রশাসনিক স্তরে আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে। ৬ IAS-সহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে নতুন চার্জশিট সেই তদন্তকে আরও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে নিয়ে গেল।


