ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক তৈরি হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের আমেঠিতে তৈরি হয়েছে দেশের প্রথম সম্পূর্ণ দেশীয় **AK-203 ‘Sher’ assault rifle**। এই রাইফেলের প্রথম সম্পূর্ণ ভারতীয় উপাদানে তৈরি প্রোটোটাইপ সফলভাবে তৈরি ও পরীক্ষা করা হয়েছে। ফলে ছোট অস্ত্র উৎপাদনে আত্মনির্ভরতার ক্ষেত্রে ভারতের অগ্রগতি আরও এক ধাপ এগোল।
ইন্দো-রাশিয়ান রাইফেলস প্রাইভেট লিমিটেড বা **IRRPL**-এর আমেঠির কোরওয়া কারখানায় এই রাইফেল তৈরি হয়েছে। সংস্থাটি ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগ। এতদিন AK-203 উৎপাদনে বিদেশি উপাদানের উপর নির্ভরতা ছিল। এবার সেই নির্ভরতা কাটিয়ে সম্পূর্ণ ভারতীয় কাঁচামাল ও উপাদান দিয়ে রাইফেল তৈরির সক্ষমতা অর্জন করেছে সংস্থা।
## সম্পূর্ণ দেশীয় AK-203 ‘Sher’
নতুন এই রাইফেলটির নাম দেওয়া হয়েছে **‘Sher’**। নামের মতোই ভারতীয় সেনার জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি সংযোজন হতে চলেছে। সাম্প্রতিক পরীক্ষায় সম্পূর্ণ ভারতীয় উপাদানে তৈরি রাইফেলটির firing trials সফল হয়েছে। automatic এবং burst firing-সহ বিভিন্ন পরীক্ষা করা হয়েছে বলে রিপোর্টে জানানো হয়েছে।
এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল এর localisation। অর্থাৎ রাইফেলটির উৎপাদনে ব্যবহৃত উপাদান এবং কাঁচামাল দেশেই তৈরি করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে এই ধরনের সম্পূর্ণ দেশীয় উৎপাদন ভারতের আমদানি নির্ভরতা কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
## আমেঠির কারখানায় তৈরি হচ্ছে ‘শের’
উত্তরপ্রদেশের আমেঠির কোরওয়া অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরিতে তৈরি হচ্ছে এই রাইফেল। Indo-Russian Rifles Private Limited এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত। ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি সংস্থাটির মাধ্যমে AK-203-এর স্থানীয় উৎপাদন শুরু হয়েছিল কয়েক বছর আগেই।
প্রথম দিকে রাইফেলটির ভারতীয় উপাদানের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম ছিল। ধাপে ধাপে সেই indigenous content বাড়ানো হয়েছে। এবার ১০০ শতাংশ ভারতীয় উপাদান ব্যবহার করে প্রোটোটাইপ তৈরি এবং সফল পরীক্ষার মাধ্যমে সম্পূর্ণ দেশীয় উৎপাদনের লক্ষ্য পূরণ হয়েছে।
## ২০২৭ সালের এপ্রিলকে ঘিরে বড় প্রত্যাশা
সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে ভারতীয় সেনার হাতে এই দেশীয় সংস্করণের রাইফেল পৌঁছনোর পরিকল্পনার কথা উঠে এসেছে। তবে সাম্প্রতিক আপডেট অনুযায়ী, সম্পূর্ণ দেশীয় প্রোটোটাইপের আনুষ্ঠানিক সেনা ট্রায়াল আরও আগে শুরু হওয়ার কথা। রিপোর্ট অনুযায়ী, আগামী মাসেই ভারতীয় সেনার আনুষ্ঠানিক পরীক্ষার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
অর্থাৎ প্রোটোটাইপ তৈরি থেকে সেনার ব্যবহারের উপযোগী পর্যায়ে পৌঁছতে আরও কয়েকটি ধাপ রয়েছে। সামরিক সরঞ্জামের ক্ষেত্রে এই পরীক্ষাগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বাস্তব পরিস্থিতিতে নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করার পরেই বড় আকারে অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
## পুরনো INSAS-এর জায়গা নেবে
ভারতীয় সেনার অস্ত্রভাণ্ডারে দীর্ঘদিন ধরে থাকা **INSAS 5.56 mm rifle**-এর পরিবর্তে ধীরে ধীরে AK-203 ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন AK-203 7.62×39 mm cartridge ব্যবহার করে এবং পুরনো INSAS-এর তুলনায় আধুনিক assault-rifle platform হিসেবে তৈরি হয়েছে।
INSAS রাইফেল ১৯৯০-এর দশক থেকে ভারতীয় সেনার সঙ্গে যুক্ত। সময়ের সঙ্গে আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের প্রয়োজন বদলেছে। সেই কারণে সেনার infantry units-এর জন্য আরও আধুনিক এবং নির্ভরযোগ্য assault rifle প্রয়োজন হয়ে পড়ে।
AK-203 সেই প্রয়োজন পূরণের অন্যতম প্রধান অস্ত্র হিসেবে উঠে এসেছে।
## ৭.৬২ মিমি কার্তুজে শক্তিশালী ফায়ারপাওয়ার
AK-203-এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল এর **7.62×39 mm cartridge**। এই cartridge বিশ্বজুড়ে AK family-এর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত। রাইফেলটির firing rate প্রায় ৭০০ rounds per minute এবং বিভিন্ন সূত্রে এর কার্যকর firing range প্রায় ৮০০ মিটার পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে effective range বিভিন্ন পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে। আবহাওয়া, লক্ষ্যবস্তুর ধরন, firing position এবং ব্যবহার করা sight-এর মতো বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।
## প্রতি ১০০ সেকেন্ডে একটি রাইফেল তৈরির লক্ষ্য
দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে কারখানাটির production capacity-ও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, IRRPL প্রতি **১০০ সেকেন্ডে একটি রাইফেল** তৈরির সক্ষমতা অর্জনের দিকে এগোচ্ছে।
এই উৎপাদন ক্ষমতা বাস্তবায়িত হলে ভারতীয় সেনার জন্য প্রয়োজনীয় বিপুল সংখ্যক assault rifle দ্রুত তৈরি করা সম্ভব হবে।
এতে বিদেশ থেকে অস্ত্র আমদানির প্রয়োজন কমবে এবং দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদন ব্যবস্থাও গড়ে উঠবে।
## বড় অর্ডার রয়েছে সেনার জন্য
AK-203 প্রকল্পের আওতায় ভারতীয় সেনার জন্য বিপুল সংখ্যক রাইফেল উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে প্রায় **৬ লক্ষেরও বেশি রাইফেল** উৎপাদনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রথম দিকে রাশিয়া থেকে কিছু রাইফেল আমদানি করা হলেও পরবর্তী পর্যায়ে ভারতে উৎপাদনের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ধীরে ধীরে ভারতীয় manufacturing ecosystem-এর সঙ্গে এই প্রকল্পকে যুক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
## Make in India-র বড় উদাহরণ
AK-203 ‘Sher’ শুধু একটি নতুন রাইফেল নয়, ভারতের **Make in India** এবং আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা উৎপাদন নীতিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
ভারত বহু বছর ধরে প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের ক্ষেত্রে আমদানির উপর নির্ভরশীল ছিল। বিমান, ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধজাহাজের পাশাপাশি ছোট অস্ত্রের ক্ষেত্রেও দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।
সম্পূর্ণ ভারতীয় উপাদানে AK-203 তৈরি হওয়া সেই বৃহত্তর পরিবর্তনেরই অংশ।
## ভারত-রাশিয়া যৌথ উদ্যোগের সাফল্য
এই প্রকল্পের পিছনে রয়েছে ভারত ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা। Indo-Russian Rifles Private Limited-এর মাধ্যমে দুই দেশের প্রযুক্তিগত ও শিল্প সহযোগিতায় AK-203 উৎপাদন শুরু হয়।
প্রথম পর্যায়ে প্রযুক্তি ও উৎপাদন প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে রাশিয়ার সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু লক্ষ্য ছিল ধীরে ধীরে ভারতীয় অংশ বাড়িয়ে সম্পূর্ণ দেশীয় উৎপাদনে পৌঁছনো।
বর্তমান মাইলফলক সেই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল।
## দেশীয় উপাদানের জোগানদার বাড়ছে
সম্পূর্ণ দেশীয় উৎপাদনের জন্য শুধু একটি কারখানা যথেষ্ট নয়। রাইফেলের বিভিন্ন component তৈরির জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তে supplier network গড়ে তুলতে হয়।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, AK-203-এর বহু critical component এখন দেশীয় সংস্থাগুলির মাধ্যমে সরবরাহ করা হচ্ছে এবং স্থানীয়ভাবে তৈরি অংশগুলির সংখ্যা ক্রমশ বেড়েছে।
এর ফলে শুধু IRRPL নয়, দেশের আরও বহু ছোট ও মাঝারি manufacturing company এই প্রতিরক্ষা উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
## প্রতিরক্ষা শিল্পে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা
দেশে সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন বাড়লে তার সঙ্গে সরাসরি ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানও বাড়তে পারে। অস্ত্র উৎপাদনের পাশাপাশি engineering, quality control, metallurgy, electronics, machining এবং logistics-এর মতো ক্ষেত্রে দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন হয়।
AK-203 প্রকল্পের স্থানীয়করণ তাই শুধুমাত্র সেনার অস্ত্রভাণ্ডার আধুনিক করার বিষয় নয়। এর সঙ্গে দেশের industrial ecosystem-এর সম্প্রসারণও জড়িত।
## আমদানি নির্ভরতা কমবে
সম্পূর্ণ দেশীয় উৎপাদনের সবচেয়ে বড় সুবিধাগুলির একটি হল বিদেশি supply chain-এর উপর নির্ভরতা কমানো।
যুদ্ধ বা আন্তর্জাতিক উত্তেজনার সময়ে কোনও দেশের কাছ থেকে অস্ত্র বা গুরুত্বপূর্ণ components আমদানি করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। দেশেই যদি প্রয়োজনীয় অস্ত্র তৈরি করা যায়, তাহলে supply chain অনেক বেশি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
এই কারণেই প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে indigenous production-কে কৌশলগত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
## সেনার জন্য দ্রুত সরবরাহের সুবিধা
ভারতের মতো বড় সেনাবাহিনীর ক্ষেত্রে বিপুল সংখ্যক রাইফেলের প্রয়োজন হয়। একটি নির্দিষ্ট model দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহার করতে হলে শুধু অস্ত্র কেনাই যথেষ্ট নয়—তার spare parts, maintenance এবং replacement-এর ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হয়।
দেশে উৎপাদন হলে এই logistics অনেক সহজ হতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী production বাড়ানো এবং maintenance support দেওয়ার ক্ষেত্রেও সুবিধা পাওয়া সম্ভব।
## আধুনিক যুদ্ধের প্রয়োজন মাথায় রেখে ডিজাইন
AK-203 মূলত AK family-এর আধুনিক সংস্করণ। এর design-এ আধুনিক accessories এবং optics ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে। ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন sight এবং equipment সংযুক্ত করা যায়।
বর্তমান যুদ্ধক্ষেত্রে শুধু রাইফেলের firing capability নয়, তার সঙ্গে night vision, optical sight, aiming device এবং অন্যান্য tactical equipment ব্যবহারের সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ।
## ‘Sher’ কেন গুরুত্বপূর্ণ?
‘Sher’-এর গুরুত্ব মূলত তিনটি জায়গায়।
প্রথমত, এটি ভারতীয় সেনার assault rifle modernisation-এর অংশ। দ্বিতীয়ত, সম্পূর্ণ দেশীয় উপাদানে তৈরি হওয়ার ফলে এটি প্রতিরক্ষা আত্মনির্ভরতার উদাহরণ। তৃতীয়ত, বড় আকারে উৎপাদনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে ভারত নিজস্ব ছোট অস্ত্রের manufacturing capacity আরও বাড়াতে পারবে।
এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
## শুধু সেনা নয়, ভবিষ্যতে আরও ব্যবহার
AK-203 মূলত ভারতীয় সেনার জন্য উৎপাদন করা হলেও দেশে স্থানীয়ভাবে এমন অস্ত্র তৈরির ক্ষমতা তৈরি হলে ভবিষ্যতে অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর প্রয়োজন মেটানোর সুযোগও তৈরি হতে পারে।
তবে কোন বাহিনী কী অস্ত্র ব্যবহার করবে, তা সংশ্লিষ্ট সরকারি সিদ্ধান্ত এবং operational requirements-এর উপর নির্ভর করবে।
## রপ্তানির সম্ভাবনাও রয়েছে
দেশীয় উৎপাদন স্থিতিশীল হলে ভবিষ্যতে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানির ক্ষেত্রেও ভারতের সুযোগ বাড়তে পারে। ইতিমধ্যেই ভারত বিভিন্ন ধরনের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিদেশে রপ্তানি করছে।
AK-203-এর মতো অস্ত্রের সম্পূর্ণ স্থানীয় manufacturing capability ভারতের defence manufacturing brand-কে আরও শক্তিশালী করতে পারে। তবে রপ্তানির বিষয়টি ভবিষ্যতের নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং আন্তর্জাতিক চুক্তির উপর নির্ভর করবে।
## সেনার পুরনো অস্ত্র বদলের প্রক্রিয়া
ভারতীয় সেনায় অস্ত্র আধুনিকীকরণ একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। একসঙ্গে সমস্ত পুরনো রাইফেল বদলে ফেলা সম্ভব নয়। ধাপে ধাপে নতুন অস্ত্র units-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পুরনো অস্ত্র সরিয়ে নেওয়া হয়।
AK-203-এর ক্ষেত্রেও একই ধরনের phased induction হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
## পরীক্ষা সফল হলেও আরও ধাপ বাকি
সম্পূর্ণ দেশীয় প্রোটোটাইপের firing test সফল হওয়া নিঃসন্দেহে বড় সাফল্য। কিন্তু prototype test এবং final military induction এক বিষয় নয়।
সেনার নিজস্ব trial, quality assurance এবং operational evaluation-এর মতো ধাপের পরেই চূড়ান্তভাবে ব্যাপক ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, পরবর্তী পর্যায়ে সেনার আনুষ্ঠানিক পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
## আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষায় নতুন অধ্যায়
ভারত গত কয়েক বছরে দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদনের উপর জোর বাড়িয়েছে। যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার, ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধজাহাজ এবং artillery systems-এর পাশাপাশি ছোট অস্ত্র উৎপাদনেও স্থানীয় সক্ষমতা বাড়ছে।
AK-203 ‘Sher’-এর ১০০ শতাংশ indigenous version তৈরি সেই ধারাবাহিকতার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।
## আগামী দিনের লক্ষ্য
আগামী দিনে এই প্রকল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হবে উৎপাদন আরও দ্রুত করা এবং সেনার চাহিদা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে রাইফেল সরবরাহ করা।
যদি উৎপাদনের গতি পরিকল্পনা অনুযায়ী বাড়ানো যায়, তাহলে AK-203 ধীরে ধীরে ভারতীয় সেনার গুরুত্বপূর্ণ standard assault rifle হিসেবে আরও ব্যাপকভাবে জায়গা করে নিতে পারে।
## শেষ কথা
আমেঠির কোরওয়া কারখানায় ১০০ শতাংশ ভারতীয় উপাদান দিয়ে AK-203 ‘Sher’ তৈরি এবং সফলভাবে পরীক্ষা ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদনে বড় মাইলফলক।
এই রাইফেলটি পুরনো INSAS-এর জায়গা নেওয়ার জন্য তৈরি করা হচ্ছে এবং 7.62×39 mm cartridge ব্যবহার করে। এর production capacity বাড়িয়ে দ্রুত সেনার কাছে সরবরাহ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
২০২৭ সালের এপ্রিল নাগাদ দেশীয় ‘Sher’ নিয়ে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তার আগে সেনার আনুষ্ঠানিক পরীক্ষা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই ধাপগুলি সফলভাবে পেরোতে পারলে ‘Sher’ শুধু ভারতীয় সেনার অস্ত্রভাণ্ডার আধুনিক করবে না, বরং দেশের **defence self-reliance**-এর ক্ষেত্রেও নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে।


