Saturday, August 22, 2026

Creating liberating content

বর্ধমানের শিক্ষকের অভিনব উদ্যোগে...

বর্ধমানের এক শিক্ষকের অভিনব উদ্যোগ এবং নিরলস পরিশ্রম এবার জাতীয় স্তরে স্বীকৃতি পেল।...

অন্নপূর্ণার টাকা নিয়ে বড়...

অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে রাজ্যজুড়ে যখন উপভোক্তাদের মধ্যে নানা প্রশ্ন এবং অপেক্ষা তৈরি হয়েছে,...

রোনাল্ডোর দেশ পর্তুগাল ক্রিকেটে...

ফুটবল বিশ্বে পর্তুগাল মানেই ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। কিন্তু এবার সেই দেশের নাম উঠে এল...

জিৎকে কটাক্ষ করে বিপাকে...

টলিউডের দুই জনপ্রিয় তারকা দেব এবং জিৎকে ঘিরে অনুরাগীদের মধ্যে তুলনা নতুন কিছু...
Homeবাংলাখেলাধুলাক্লান্তি সঙ্গী, তবু...

ক্লান্তি সঙ্গী, তবু ডুরান্ড ফাইনালে জয়ের আত্মবিশ্বাসী মোহনবাগান

তিন বছর পর আবারও ডুরান্ড কাপের ফাইনালে কলকাতা ডার্বি। রবিবারের মহারণে মুখোমুখি হতে চলেছে মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল। ম্যাচ ঘিরে ইতিমধ্যেই উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে কলকাতায়। তবে ফাইনালের আগে সবুজ-মেরুন শিবিরে যেমন আত্মবিশ্বাস রয়েছে, তেমনই রয়েছে ক্লান্তি এবং প্রস্তুতির সময় নিয়ে অসন্তোষ। শিলংয়ে সেমিফাইনাল খেলে কলকাতায় ফিরতে গিয়ে বিমান সংক্রান্ত সমস্যায় পড়তে হয়েছে মোহনবাগান ফুটবলারদের। ফলে ফাইনালের আগে পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং অনুশীলনের সুযোগ পাননি তাঁরা। এই পরিস্থিতিতেও ট্রফি জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী কোচ প্যানাজিওটিস দিলেমপেরিস। 

দুই দলই সেমিফাইনালে টাইব্রেকারের লড়াইয়ে জিতে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। তবে দুই দলের প্রস্তুতির পরিস্থিতি এক নয়। ইস্টবেঙ্গল নিজেদের মাঠে সেমিফাইনাল খেলেছে। অন্যদিকে মোহনবাগানকে শিলংয়ে গিয়ে শেষ চারের ম্যাচ খেলতে হয়েছে। এরপর কলকাতায় ফেরার পথেও তৈরি হয়েছে সমস্যা। ফলে ফাইনালের আগে সবুজ-মেরুন ফুটবলারদের শরীর ও মানসিকভাবে কতটা তরতাজা রাখা সম্ভব হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

## সূচি নিয়ে ক্ষোভ মোহনবাগান কোচের

ফাইনালের আগে সাংবাদিক বৈঠকে মোহনবাগান কোচ প্যানাজিওটিস দিলেমপেরিস সরাসরি সূচি নিয়ে তাঁর অসন্তোষের কথা জানিয়েছেন। তাঁর মতে, গ্রুপ পর্বে প্রথম এবং সেরা দল হওয়ার পরও তাঁর দলের সঙ্গে যেভাবে সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে, তা যথেষ্ট হতাশাজনক।

একজন কোচের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে ফুটবলারদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং অনুশীলনের সুযোগ পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু মোহনবাগানের ক্ষেত্রে সেই সুযোগ খুব একটা মেলেনি। কোচের বক্তব্য অনুযায়ী, মাত্র ছয় দিনের মধ্যে দলকে তিনটি ম্যাচ খেলতে হয়েছে। এর মধ্যে ভ্রমণও রয়েছে। 

এমন পরিস্থিতিতে ফুটবলারদের শারীরিক ক্লান্তি স্বাভাবিকভাবেই প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ডুরান্ড ফাইনালের মতো একটি ম্যাচে যেখানে প্রতিপক্ষ ইস্টবেঙ্গল এবং ম্যাচের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি, সেখানে প্রস্তুতির ঘাটতি চিন্তার কারণ হতে পারে।

## অনুশীলনের সুযোগও মেলেনি

প্যানাজিওটিস দিলেমপেরিসের সবচেয়ে বড় অভিযোগগুলির একটি হল অনুশীলনের সময়ের অভাব। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শিলং থেকে কলকাতায় ফেরার ব্যস্ততার মধ্যে আগের দিন দলের কোনও অনুশীলনই হয়নি।

শুধু এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় গিয়ে ম্যাচ খেললেই যে প্রস্তুতি সম্পূর্ণ হয় না, সেটিই বোঝাতে চেয়েছেন মোহনবাগান কোচ। তাঁর মতে, খেলোয়াড়দের ম্যাচের মধ্যে পর্যাপ্ত recovery time এবং training session প্রয়োজন।

একজন ফুটবলারের শরীরকে পরবর্তী ম্যাচের জন্য প্রস্তুত করতে বিশ্রাম, recovery এবং tactical training—তিনটিই গুরুত্বপূর্ণ। ডার্বির মতো ম্যাচের আগে এগুলির কোনও একটি কমে গেলেও দলের পারফরম্যান্সে তার প্রভাব পড়তে পারে।

## ছয় দিনে তিন ম্যাচ

মোহনবাগানের সামনে যে সূচি রয়েছে, সেটি কোচের কাছে যথেষ্ট কঠিন। ছয় দিনের মধ্যে তিনটি ম্যাচ খেলা এবং তার সঙ্গে এক শহর থেকে অন্য শহরে যাতায়াত ফুটবলারদের উপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিমান টিকিট সংক্রান্ত সমস্যা। শিলং থেকে কলকাতায় ফেরার পথে দলের সদস্যদের ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ফাইনালের আগে স্বাভাবিক recovery schedule ব্যাহত হয়েছে। 

এই পরিস্থিতিতে কোচের সামনে সবচেয়ে বড় কাজ হবে খেলোয়াড়দের যতটা সম্ভব তরতাজা রাখা।

## তবুও জয় ছাড়া কিছু ভাবছেন না কোচ

সূচি নিয়ে অসন্তোষ থাকলেও ফাইনালের আগে আত্মবিশ্বাস হারাচ্ছেন না প্যানাজিওটিস। বরং তাঁর বক্তব্য, পরিস্থিতি যতই কঠিন হোক, ফাইনালে লক্ষ্য একটাই—জয়।

তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ফাইনাল এমন একটি ম্যাচ যেখানে আগের ফলাফল বা পরের ম্যাচের হিসাবের কোনও জায়গা নেই। এখানে জিততেই হবে। 

এই মানসিকতাই মোহনবাগান শিবিরের আত্মবিশ্বাসের মূল জায়গা। দীর্ঘ ডুরান্ড অভিযানের শেষ ধাপে এসে সবুজ-মেরুন কোচ তাঁর ফুটবলারদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ পারফরম্যান্সই চান।

## আগের ডার্বির ফল কি বাড়তি আত্মবিশ্বাস দেবে?

এবারের ডুরান্ড কাপ অভিযান মোহনবাগান শুরু করেছিল ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়ে। স্বাভাবিকভাবেই ফাইনালের আগে সেই জয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

তবে কোচ দিলেমপেরিস অতীতের ম্যাচকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ। তাঁর মতে, গ্রুপ পর্বের ম্যাচ এবং ফাইনাল সম্পূর্ণ আলাদা পরিস্থিতির ম্যাচ।

গ্রুপ পর্বে একটি ম্যাচ জেতার পর সামনে আরও ম্যাচ থাকে। কিন্তু ফাইনালে সেই সুযোগ থাকে না। ট্রফি নির্ধারণ হয় এক ম্যাচেই। তাই আগের জয় ফাইনালে কোনও নিশ্চয়তা দেয় না। 

## মোমেন্টামকেই বড় অস্ত্র মনে করছেন কোচ

মোহনবাগান কোচের মতে, ডুরান্ড ফাইনালে ম্যাচের মোমেন্টাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। একটি দল শুরুতে ভালো খেলতে পারলে আত্মবিশ্বাস বাড়তে পারে। অন্যদিকে প্রতিপক্ষকে শুরু থেকেই চাপে রাখা গেলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও হাতে চলে আসতে পারে।

এই কারণেই ফাইনালের আগে দলের সঙ্গে মোমেন্টাম নিয়ে আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

তাঁর বিশ্বাস, প্রতিকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও মোহনবাগানের দল নিজেদের ১০০ শতাংশ দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। 

## বিদেশি ফুটবলারদের যোগে শক্তি বাড়ছে

মোহনবাগান দলে বিদেশি ফুটবলাররা যোগ দেওয়ায় দলের শক্তি বেড়েছে বলেও মনে করছেন কোচ। ফাইনালের মতো ম্যাচে অভিজ্ঞ এবং মানসম্পন্ন বিদেশি ফুটবলাররা বড় ভূমিকা পালন করতে পারেন।

তবে শুধু অভিজ্ঞতার উপর নির্ভর করতে চান না প্যানাজিওটিস। তাঁর মতে, দল হিসেবে ভালো পারফরম্যান্সই ফাইনালে সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।

ফুটবলে একাধিক তারকা থাকলেই সাফল্য নিশ্চিত হয় না। তাদের মধ্যে বোঝাপড়া এবং দলগত ভারসাম্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

## বিশাল কাইথকে নিয়ে কোচের প্রশংসা

ফাইনালের আগে মোহনবাগানের গোলপোস্টের নীচে বড় ভরসা বিশাল কাইথ। পরপর দুই ম্যাচে টাইব্রেকারে গুরুত্বপূর্ণ পেনাল্টি রুখে দলকে ফাইনালে তুলেছেন তিনি।

তাই বিশালকে নিয়ে প্রশংসায় পঞ্চমুখ কোচ। তাঁর মতে, বিশাল দেশের সেরা গোলরক্ষকদের একজন। 

টাইব্রেকারের সময় গোলরক্ষকের মানসিক দৃঢ়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিপক্ষের শটের দিক আন্দাজ করা, চাপ সামলানো এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মনোযোগ ধরে রাখা—সবকিছুই প্রয়োজন হয়।

বিশালের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স তাই ফাইনালের আগে মোহনবাগানকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে।

## ফাইনালে স্বচ্ছ রেফারিংয়ের দাবি

ফাইনালের আগে কোচ দিলেমপেরিস আরও একটি বিষয় সামনে এনেছেন—রেফারিং। এমন একটি ম্যাচে যেখানে দুই দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা অত্যন্ত তীব্র, সেখানে রেফারির সিদ্ধান্তও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

তাই তিনি ফাইনালে স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ রেফারিং চান। ডার্বির মতো হাইভোল্টেজ ম্যাচে কোনও বিতর্ক যেন ম্যাচের ফল বা আবহকে প্রভাবিত না করে, সেটিই স্বাভাবিক প্রত্যাশা।

## প্রথম ডার্বি খেলবেন সমীর জেলকোভিচ

মোহনবাগানের নতুন ফুটবলার সমীর জেলকোভিচের কাছে এই ফাইনাল আরও বিশেষ। কারণ এটাই হতে চলেছে তাঁর প্রথম কলকাতা ডার্বি।

দলের হয়ে এটি তাঁর তৃতীয় ম্যাচ হতে চলেছে। এত অল্প সময়ের মধ্যেই ভারতীয় ফুটবলের সবচেয়ে বড় ম্যাচে নামার সুযোগ পেয়ে তিনি খুশি এবং গর্বিত বলে জানিয়েছেন। 

নতুন পরিবেশে দ্রুত মানিয়ে নেওয়াটাই তাঁর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সতীর্থদের সঙ্গে দ্রুত বোঝাপড়া তৈরি করতে পেরেছেন বলে জানিয়েছেন সমীর।

## দানি রামিরেজকে আগে থেকেই চেনেন

ইস্টবেঙ্গলের দানি রামিরেজের সঙ্গেও সমীর জেলকোভিচের পূর্বপরিচয় রয়েছে। আগে তাঁর সঙ্গে খেলেছেন সমীর।

ফলে ডার্বির আগে দুই ফুটবলারের পরিচিতি ম্যাচটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। তবে ফাইনালে ব্যক্তিগত পরিচিতির জায়গা থাকবে না—দুই ফুটবলারই নিজেদের দলের হয়ে সেরাটা দিতে চাইবেন।

সমীরের লক্ষ্যও স্পষ্ট—দলের হয়ে ভালো খেলে ট্রফি জেতা।

## ডার্বির আবেগ নিয়ন্ত্রণের পরীক্ষা

কলকাতা ডার্বি শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ নয়। এই ম্যাচের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে সমর্থকদের আবেগ, ইতিহাস এবং দুই ক্লাবের দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

ফলে ফুটবলারদের জন্য আবেগ নিয়ন্ত্রণ করাও গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাচের উত্তেজনায় অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক হয়ে গেলে বা মনোযোগ হারালে তার সুযোগ নিতে পারে প্রতিপক্ষ।

মোহনবাগানের কাছে তাই tactical discipline এবং emotional control দুটিই গুরুত্বপূর্ণ হবে।

## তিন বছর পর ডুরান্ড ফাইনালে ডার্বি

তিন বছর পর আবার ডুরান্ড কাপের ফাইনালে কলকাতা ডার্বি। ফলে এবারের ফাইনাল নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই আগ্রহ অনেক বেশি।

মোহনবাগান এবং ইস্টবেঙ্গল—দুই দলের সমর্থকরাই ট্রফি নিজেদের ঘরে দেখতে চাইছেন। ফলে ম্যাচের আগে শহরের ফুটবল আবহাওয়াও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

একদিকে ইস্টবেঙ্গল নিজেদের মাঠে সেমিফাইনাল খেলে ফাইনালে এসেছে। অন্যদিকে মোহনবাগানের বাড়তি সমস্যা ভ্রমণ এবং ক্লান্তি। এই দুই ভিন্ন পরিস্থিতির দল যখন মুখোমুখি হবে, তখন মাঠের লড়াই আরও আকর্ষণীয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

## মোহনবাগানের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ক্লান্তি

ফাইনালে মোহনবাগানের জন্য প্রতিপক্ষের পাশাপাশি নিজেদের শরীরের সঙ্গেও লড়াই করতে হবে।

শিলং থেকে কলকাতায় ফেরার ধকল, অল্প সময়ের মধ্যে একাধিক ম্যাচ এবং অনুশীলনের ঘাটতি—সব মিলিয়ে ফুটবলারদের recovery নিয়ে চিন্তা থাকছেই।

তবে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে মানসিক শক্তি অনেক সময় শারীরিক ক্লান্তিকেও ছাপিয়ে যেতে পারে। কোচের আত্মবিশ্বাস এবং দলের মধ্যে ট্রফি জয়ের তাগিদ তাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

## ম্যাচের শুরুটা হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ

যেহেতু মোমেন্টামের কথা বিশেষভাবে বলেছেন মোহনবাগান কোচ, তাই ম্যাচের প্রথম দিকটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

প্রথম ১৫-২০ মিনিটে কোন দল নিয়ন্ত্রণ নেয়, তা ম্যাচের পরবর্তী গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে। মোহনবাগান যদি শুরুতেই নিজেদের ছন্দ খুঁজে পায়, তাহলে ক্লান্তির বিষয়টি কিছুটা আড়াল করা সম্ভব।

অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গল যদি দ্রুত চাপ তৈরি করতে পারে, তাহলে মোহনবাগানের দুর্বল জায়গাগুলি আরও স্পষ্ট হতে পারে।

## গোলরক্ষকের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ

ডুরান্ড কাপের নকআউট পর্বে টাইব্রেকারের অভিজ্ঞতা ইতিমধ্যেই দুই দলের রয়েছে। ফলে ফাইনাল নির্ধারিত সময়ে বা অতিরিক্ত সময়েও সমাধান না হলে পেনাল্টি শুটআউটের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

সেক্ষেত্রে বিশাল কাইথের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হবে। পরপর দুই ম্যাচে পেনাল্টি বাঁচিয়ে তিনি ইতিমধ্যেই নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন।

তবে ইস্টবেঙ্গলের গোলরক্ষকের ভূমিকাও সমান গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

## কৌশল বনাম আবেগ

কলকাতা ডার্বিতে আবেগের গুরুত্ব যতটা, tactical planning-এর গুরুত্বও ততটাই। ফাইনালে দুই কোচকেই প্রতিপক্ষের শক্তি ও দুর্বলতা বুঝে পরিকল্পনা করতে হবে।

মোহনবাগানের ক্ষেত্রে কোচের সামনে বিশেষ চ্যালেঞ্জ হল ক্লান্ত ফুটবলারদের দিয়ে সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স বের করে আনা।

কোন ফুটবলারকে কতক্ষণ খেলানো হবে, কখন পরিবর্তন করা হবে এবং ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী কৌশল কীভাবে বদলানো হবে—সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ।

## সমীরের সামনে বড় সুযোগ

দলে দেরিতে যোগ দিলেও দ্রুত মানিয়ে নেওয়া সমীর জেলকোভিচের সামনে এই ফাইনাল বড় সুযোগ। প্রথম ডার্বিতেই যদি তিনি ভালো পারফরম্যান্স করতে পারেন, তাহলে সবুজ-মেরুন সমর্থকদের কাছে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারেন।

নিজের বক্তব্যে তিনি জানিয়েছেন, ভারতীয় ফুটবলের সবচেয়ে বড় ম্যাচের অংশ হতে পেরে তিনি গর্বিত। ট্রফি জিতে সেই অভিজ্ঞতাকে স্মরণীয় করে রাখতে চান তিনি। 

## দলগত ফুটবলেই সাফল্যের বিশ্বাস

সমীরের মতে, মোহনবাগান দল হিসেবে নিজেদের সেরা ফুটবল খেলতে পারলে ডার্বি জেতা সম্ভব। এই বক্তব্যই আসলে কোচের ভাবনার সঙ্গে মিলে যায়।

ফাইনালের মতো ম্যাচে ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত দলগত সংহতিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

মোহনবাগান যদি রক্ষণে সংগঠিত থাকে, মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং আক্রমণে সুযোগ কাজে লাগায়, তাহলে ক্লান্তির সমস্যাও কিছুটা সামলে নেওয়া সম্ভব।

## ইস্টবেঙ্গলও ছাড়বে না কোনও সুযোগ

অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গলও ফাইনালে কোনওভাবেই পিছিয়ে থাকতে চাইবে না। নিজেদের মাঠে সেমিফাইনাল খেলার কারণে ভ্রমণের ধকল তুলনামূলকভাবে কম ছিল।

তবে কলকাতা ডার্বিতে কোনও দলকেই এগিয়ে রাখা যায় না। অতীতের ফলাফল বা সাম্প্রতিক ফর্ম নয়, মাঠের ৯০ মিনিটের পারফরম্যান্সই শেষ কথা বলবে।

## ট্রফির লড়াইয়ে মানসিক শক্তি

ডুরান্ড কাপের ফাইনাল এমন একটি ম্যাচ যেখানে ছোট ভুলেরও বড় মূল্য দিতে হতে পারে। তাই খেলোয়াড়দের concentration ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মোহনবাগানের ক্ষেত্রে ক্লান্তির পাশাপাশি মানসিক চাপও রয়েছে। কিন্তু কোচের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, দল পরিস্থিতিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে না।

বরং প্রতিকূলতার মধ্যেই নিজেদের সেরাটা দিতে চাইছে সবুজ-মেরুন শিবির।

## সমর্থকদের প্রত্যাশাও তুঙ্গে

ডুরান্ড ফাইনালে কলকাতা ডার্বি মানেই দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে বিপুল উত্তেজনা। মোহনবাগান সমর্থকরা যেমন ট্রফি জয়ের অপেক্ষায়, তেমনই ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরাও নিজেদের দলকে চ্যাম্পিয়ন দেখতে চাইছেন।

এই আবহে ফুটবলারদের উপর বাড়তি চাপ থাকলেও সেটিই অনেক সময় তাঁদের সেরাটা দিতে অনুপ্রাণিত করে।

## শেষ পর্যন্ত কার হাতে ট্রফি?

ফাইনালের আগে মোহনবাগানের সবচেয়ে বড় সমস্যা ক্লান্তি এবং প্রস্তুতির সময়ের অভাব। কিন্তু অন্যদিকে দলের আত্মবিশ্বাস যথেষ্ট বেশি। বিশাল কাইথের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, বিদেশি ফুটবলারদের উপস্থিতি এবং কোচের মানসিক দৃঢ়তা সবুজ-মেরুনকে আশাবাদী করছে।

ইস্টবেঙ্গলের সুবিধা হল নিজেদের মাঠে সেমিফাইনাল খেলার পর তুলনামূলকভাবে কম ভ্রমণ। কিন্তু ডার্বির ক্ষেত্রে কোনও সুবিধাই নিশ্চিত জয় এনে দেয় না।

শেষ পর্যন্ত যে দল চাপ সামলাতে পারবে, সুযোগ কাজে লাগাতে পারবে এবং ৯০ মিনিটে নিজেদের পরিকল্পনা সবচেয়ে ভালোভাবে প্রয়োগ করতে পারবে, তারাই ট্রফি হাতে তুলবে।

## শেষ কথা

তিন বছর পর ডুরান্ড কাপের ফাইনালে আবার কলকাতা ডার্বি। মোহনবাগান এবং ইস্টবেঙ্গলের এই মহারণ ঘিরে উত্তেজনা ইতিমধ্যেই তুঙ্গে। একদিকে ইস্টবেঙ্গল ঘরের মাঠে সেমিফাইনাল খেলে ফাইনালে এসেছে, অন্যদিকে শিলংয়ে সেমিফাইনাল জিতে কলকাতায় ফিরতে গিয়ে বিমান সংক্রান্ত সমস্যার মুখে পড়েছে মোহনবাগান। ফলে সবুজ-মেরুন ফুটবলারদের ক্লান্তি ফাইনালের আগে বড় চিন্তার বিষয়। 

মোহনবাগান কোচ প্যানাজিওটিস দিলেমপেরিস সূচি নিয়ে প্রকাশ্যেই হতাশা জানিয়েছেন। মাত্র ছয় দিনের মধ্যে তিনটি ম্যাচ এবং পর্যাপ্ত অনুশীলনের সুযোগ না পাওয়ায় দলের প্রস্তুতি ব্যাহত হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তবে একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন, প্রতিকূলতা নিয়ে ভাবলে চলবে না—ফাইনালে লক্ষ্য শুধু জয়। ম্যাচের মোমেন্টামকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন এবং তাঁর দল ১০০ শতাংশ দিতে প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন। 

ফাইনালের আগে মোহনবাগানের আরও একটি বড় ভরসা বিশাল কাইথ। পরপর দুই ম্যাচে টাইব্রেকারে পেনাল্টি রুখে দলকে ফাইনালে তোলায় কোচও তাঁর প্রশংসা করেছেন। পাশাপাশি বিদেশি ফুটবলারদের উপস্থিতি দলকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে মনে করছেন তিনি। ফাইনালে স্বচ্ছ রেফারিংয়েরও প্রত্যাশা জানিয়েছেন মোহনবাগান কোচ। 

অন্যদিকে প্রথমবার কলকাতা ডার্বি খেলতে চলেছেন সমীর জেলকোভিচ। দলের হয়ে তাঁর এটি তৃতীয় ম্যাচ হলেও ভারতীয় ফুটবলের সবচেয়ে বড় ম্যাচের অংশ হতে পেরে তিনি গর্বিত। ইস্টবেঙ্গলের দানি রামিরেজকে আগে থেকেই চেনেন তিনি। তবে ব্যক্তিগত পরিচিতির বাইরে গিয়ে দল হিসেবে সেরা ফুটবল খেলে ট্রফি জেতাই তাঁর লক্ষ্য। 

সব মিলিয়ে, ফাইনালের আগে মোহনবাগানের সামনে রয়েছে ক্লান্তি, কম প্রস্তুতি এবং ভ্রমণের ধকলের মতো একাধিক সমস্যা। কিন্তু সেই সমস্যার মধ্যেও কোচ এবং ফুটবলারদের বক্তব্যে আত্মবিশ্বাস স্পষ্ট। এখন দেখার, মাঠের ৯০ মিনিটে সেই আত্মবিশ্বাস কতটা কাজে লাগে এবং তিন বছর পর ডুরান্ড কাপের কলকাতা ডার্বিতে শেষ হাসি হাসে কোন দল।

Get notified whenever we post something new!

spot_img

Create a website from scratch

Just drag and drop elements in a page to get started with Newspaper Theme.

Continue reading

বর্ধমানের শিক্ষকের অভিনব উদ্যোগে জাতীয় পুরস্কার, বদলাল স্কুল

বর্ধমানের এক শিক্ষকের অভিনব উদ্যোগ এবং নিরলস পরিশ্রম এবার জাতীয় স্তরে স্বীকৃতি পেল। স্কুলকে শুধুমাত্র পঠনপাঠনের জায়গা হিসেবে না দেখে কীভাবে সেটিকে ছাত্রছাত্রীদের শেখার একটি জীবন্ত পরিসরে পরিণত করা যায়, তারই উদাহরণ তৈরি করেছেন বর্ধমানের শিক্ষক ড. সুভাষচন্দ্র দত্ত।...

অন্নপূর্ণার টাকা নিয়ে বড় আশ্বাস রচনার, মহিলাদের পাশে সাংসদ

অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে রাজ্যজুড়ে যখন উপভোক্তাদের মধ্যে নানা প্রশ্ন এবং অপেক্ষা তৈরি হয়েছে, তখন মহিলাদের পাশে থাকার বার্তা দিলেন সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর আশ্বাস, যাঁদের আবেদন অনুমোদিত হয়েছে এবং যাঁদের নাম তালিকাভুক্ত রয়েছে, তাঁরা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা অবশ্যই পাবেন।...

রোনাল্ডোর দেশ পর্তুগাল ক্রিকেটে বিশ্বকাপের পথে

ফুটবল বিশ্বে পর্তুগাল মানেই ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। কিন্তু এবার সেই দেশের নাম উঠে এল সম্পূর্ণ অন্য একটি খেলাকে কেন্দ্র করে। ক্রিকেটের ময়দানে বড় সাফল্য পেল পর্তুগাল। স্পেনকে হারিয়ে পুরুষদের **T20 World Cup qualifier**-এ জায়গা করে নিয়েছে রোনাল্ডোর দেশ। ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে...

Enjoy exclusive access to all of our content

Get an online subscription and you can unlock any article you come across.