Monday, October 19, 2026

Creating liberating content

यूईएम जयपुर ने मानवता...

जयपुर में आयोजित मानवता के लिए दौड़ के दसवें संस्करण में यूनिवर्सिटी ऑफ...

अक्टूबर 2026 में पड़ेंगी...

सनातन हिंदू धर्म में एकादशी तिथि का विशेष धार्मिक महत्व माना जाता है।...

इंफोसिस और विप्रो में...

देश की प्रमुख सूचना प्रौद्योगिकी सेवा कंपनियों में शामिल इंफोसिस और विप्रो के...

स्वर्ग में कर्ण को...

महाभारत के महान योद्धाओं में कर्ण का नाम केवल उनकी वीरता और संघर्ष...
Homeবাংলাপুজোর ভিড় সামলাতে...

পুজোর ভিড় সামলাতে আগাম প্রস্তুতি কলকাতা পুলিশের

দুর্গাপুজো এখনও বেশ কিছুটা দূরে। কিন্তু বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসবকে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে কলকাতা পুলিশ। পুজোর সময় শহরের রাস্তায় মানুষের ঢল, যানজট, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা এবং মণ্ডপকেন্দ্রিক ভিড় নিয়ন্ত্রণ—সবকিছু সামলাতে আগেভাগেই পরিকল্পনা করতে চাইছে লালবাজার। সেই লক্ষ্যেই কলকাতা পুলিশের পুলিশ কমিশনারের পক্ষ থেকে শহরের সমস্ত ডিভিশনের ডিসি এবং ডিসি ট্রাফিকের কাছে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। 

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দুর্গাপুজোর বাকি আর মাত্র ৫৬ দিন। ইতিমধ্যেই শহরের বিভিন্ন প্রান্তে পুজোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। কোথাও মণ্ডপ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে, কোথাও প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত শিল্পীরা। বড় বড় পুজো কমিটিগুলিও থিম এবং অন্যান্য আয়োজন নিয়ে পরিকল্পনা শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও শহরের যান চলাচল স্বাভাবিক রাখাকে অগ্রাধিকার দিয়ে নিজেদের প্রস্তুতি শুরু করছে কলকাতা পুলিশ। 

## সব ডিভিশনের ডিসির কাছে বিস্তারিত তথ্য তলব

লালবাজারের তরফে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে ডিভিশনাল ডিসি এবং ডিসি ট্রাফিকদের নির্দিষ্ট কিছু তথ্য সংগ্রহ করে জমা দিতে বলা হয়েছে। তাঁদের অধীনে থাকা থানার ওসি এবং ট্রাফিক গার্ডের আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করেই এই তথ্য প্রস্তুত করতে হবে।

প্রথমেই জানতে চাওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট এলাকায় মোট কতগুলি দুর্গাপুজো হচ্ছে। তার মধ্যে কতগুলি বড় পুজো, কোথায় দর্শনার্থীদের ভিড় বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং কোন কোন পুজোকে কেন্দ্র করে বিশেষ প্রস্তুতি প্রয়োজন হতে পারে—সেই তথ্যও চাওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি পুজো মণ্ডপের তালিকায় কোনও পরিবর্তন হয়েছে কি না, অর্থাৎ নতুন কোনও পুজো যুক্ত হয়েছে অথবা কোনও পুজো বন্ধ হয়ে গিয়েছে কি না, সেই বিষয়েও বিস্তারিত রিপোর্ট দিতে হবে। 

## ভিড় নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজর

দুর্গাপুজোর সময় কলকাতার অন্যতম বড় সমস্যা হল বিপুল দর্শনার্থীর চাপ। উত্তর থেকে দক্ষিণ কলকাতা—শহরের প্রায় প্রতিটি বড় পুজোকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত মানুষের ঢল নামে।

কোন মণ্ডপে কোন দিক দিয়ে দর্শনার্থীরা প্রবেশ করবেন, কোথা দিয়ে তাঁদের বের করে দেওয়া হবে এবং কোথায় একসঙ্গে বেশি মানুষ জমায়েত হতে পারেন—এই তথ্য আগে থেকেই সংগ্রহ করতে চাইছে পুলিশ।

কারণ ভিড়ের গতিপথ সম্পর্কে আগাম ধারণা থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ মোতায়েন, ব্যারিকেড তৈরি এবং পথ পরিবর্তনের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে।

## কোন রাস্তায় বেশি চাপ পড়তে পারে?

পুজোর সময় শুধু মণ্ডপের সামনে নয়, আশপাশের রাস্তাতেও ব্যাপক চাপ তৈরি হয়। অনেক ক্ষেত্রে একটি বড় পুজোর ভিড় কয়েক কিলোমিটার দূর পর্যন্ত যান চলাচলের উপর প্রভাব ফেলে।

এই কারণে কোন কোন রাস্তায় পথচারীদের চাপ বাড়তে পারে এবং কোথায় যানবাহনের অত্যধিক চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেই তালিকাও চাওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে যেসব জায়গায় রাস্তা তুলনামূলক সরু, সেখানেও নজর দিতে বলা হয়েছে। কারণ সংকীর্ণ রাস্তা দিয়ে একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক মানুষ চলাচল করলে যানজটের পাশাপাশি নিরাপত্তা সমস্যাও তৈরি হতে পারে। 

## থিম পুজো নিয়েও তথ্য সংগ্রহ

বর্তমানে কলকাতার দুর্গাপুজোর অন্যতম আকর্ষণ থিম মণ্ডপ। প্রতি বছর বিভিন্ন পুজো কমিটি নতুন নতুন ভাবনা নিয়ে মণ্ডপ তৈরি করে। কিছু কিছু থিম পুজোতে বিপুল দর্শনার্থী ভিড় করেন।

তাই কোন এলাকায় বড় থিম পুজো হচ্ছে এবং কোন মণ্ডপে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি মানুষের সমাগম হতে পারে, সেই তথ্যও পুলিশ সংগ্রহ করছে।

এমন মণ্ডপগুলিকে চিহ্নিত করা গেলে আগেভাগেই সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, যান নিয়ন্ত্রণ এবং দর্শনার্থীদের চলাচলের বিশেষ পরিকল্পনা করা সম্ভব হবে।

## পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে সমন্বয়

দুর্গাপুজো নির্বিঘ্নে পরিচালনার ক্ষেত্রে শুধু পুলিশের প্রস্তুতিই যথেষ্ট নয়। পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে সমন্বয়ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

লালবাজারের নির্দেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট পুজো কমিটিগুলিকে কোনও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও জানাতে হবে। অর্থাৎ মণ্ডপের অবস্থান, দর্শনার্থীদের প্রবেশ ও বেরোনোর ব্যবস্থা, রাস্তা ব্যবহারের পরিকল্পনা কিংবা অন্যান্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে পুলিশ কী ধরনের আলোচনা করেছে, সেই তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

পুলিশের সঙ্গে পুজো কমিটির আগাম সমন্বয় থাকলে উৎসবের সময় হঠাৎ তৈরি হওয়া সমস্যাগুলি অনেকটাই দ্রুত মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

## পুজো কমিটিতে অভ্যন্তরীণ বিবাদ আছে কি না

এবারের প্রস্তুতিতে একটি বিশেষ বিষয়েও নজর দিতে বলা হয়েছে। কোনও পুজো কমিটির সদস্যদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিবাদ রয়েছে কি না, থাকলে সেই বিবাদের কারণ কী—সেই তথ্যও চাওয়া হয়েছে।

বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পুজোর সময় কমিটির অভ্যন্তরীণ বিরোধ অনেক ক্ষেত্রে প্রকাশ্যে এসে পরিস্থিতি জটিল করতে পারে। বিশেষ করে পুজো পরিচালনা, অর্থনৈতিক বিষয়, মণ্ডপ নির্মাণ কিংবা কমিটির দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে কোনও সমস্যা থাকলে তা আগে থেকেই চিহ্নিত করতে চাইছে পুলিশ।

ফলে শুধু দর্শনার্থী বা যান চলাচল নয়, পুজো কমিটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও এবার পুলিশের নজরে রয়েছে। 

## গত বছরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চাইছে পুলিশ

প্রতি বছর দুর্গাপুজোর সময় কলকাতা পুলিশকে বিপুল সংখ্যক সমস্যা মোকাবিলা করতে হয়। কোথাও অতিরিক্ত ভিড়, কোথাও যানজট, কোথাও মণ্ডপের সামনে দর্শনার্থীদের দীর্ঘ লাইন—এমন নানা পরিস্থিতি তৈরি হয়।

গত বছরের পুজোয় কোথায় কী সমস্যা হয়েছিল, কোন ব্যবস্থায় ঘাটতি ছিল এবং কোন ক্ষেত্রে আরও উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে—সেই তথ্যও এবার সংগ্রহ করা হচ্ছে।

অর্থাৎ এবারের পরিকল্পনা শুধুমাত্র নতুন করে তৈরি করা হচ্ছে না। আগের বছরের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করে কোথায় পরিবর্তন প্রয়োজন, সেটিও চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।

## ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বাড়তি গুরুত্ব

দুর্গাপুজোর সময় কলকাতার ট্রাফিক ব্যবস্থা কার্যত সবচেয়ে বড় পরীক্ষার মুখে পড়ে। সাধারণ দিনের তুলনায় রাস্তায় যানবাহনের সংখ্যা যেমন বাড়ে, তেমনই বিপুল সংখ্যক মানুষ হেঁটে মণ্ডপ দর্শনে বেরিয়ে পড়েন।

ফলে কিছু রাস্তা সাধারণ যান চলাচলের জন্য বন্ধ রাখতে হতে পারে। কোথাও ওয়ান-ওয়ে ব্যবস্থা, কোথাও যানবাহনের রুট পরিবর্তন এবং কোথাও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন হতে পারে।

এই কারণে ডিসি ট্রাফিকদের কাছ থেকেও বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে।

কোন এলাকায় কী ধরনের যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন হতে পারে, তা আগে থেকেই চিহ্নিত করা হলে পুজোর দিনগুলিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে।

## দর্শনার্থীদের যাতায়াত নিয়েও পরিকল্পনা

পুজোর সময় শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ কলকাতার বড় মণ্ডপগুলিতে আসেন। শুধু কলকাতা নয়, শহরতলি এবং অন্যান্য জেলা থেকেও অনেকে ঠাকুর দেখতে আসেন।

ফলে মণ্ডপকেন্দ্রিক ভিড়ের পাশাপাশি স্টেশন, বাসস্ট্যান্ড, মেট্রো স্টেশন এবং গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথগুলিতেও মানুষের চাপ বাড়ে।

পুলিশের কাছে তাই দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সম্ভাব্য পথ সম্পর্কেও তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। কোন দিক থেকে বেশি মানুষ আসতে পারেন এবং কোন পথে তাঁদের বের করে দেওয়া সম্ভব—এসব বিষয় আগেভাগে পরিকল্পনার মধ্যে রাখা হচ্ছে।

## কোথায় সংকীর্ণ জায়গা রয়েছে?

বড় পুজোর মণ্ডপের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা অনেক সময় জায়গার অভাব। কোনও কোনও এলাকায় মণ্ডপের সামনে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় কয়েক হাজার মানুষ জমে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

এই কারণে যেসব এলাকায় সংকীর্ণ রাস্তা বা প্রবেশপথ রয়েছে, সেগুলির তালিকাও তৈরি করতে বলা হয়েছে।

এ ধরনের জায়গায় অতিরিক্ত পুলিশ, ব্যারিকেড এবং নির্দিষ্ট প্রবেশ-বাহির পথের ব্যবস্থা করা হতে পারে।

## বড় পুজোগুলির জন্য আলাদা পরিকল্পনা

কলকাতার বহু পুজো প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ দর্শনার্থী আকর্ষণ করে। ফলে সব পুজোর জন্য একই ধরনের পুলিশি ব্যবস্থা কার্যকর করা সম্ভব নয়।

যেসব মণ্ডপে বেশি মানুষের সমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলিকে আলাদা করে চিহ্নিত করে বিশেষ পরিকল্পনা করা প্রয়োজন।

লালবাজারের নির্দেশে কোন পুজো বড় এবং কোথায় বিশেষ ভিড় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে—সেই তথ্য সংগ্রহের বিষয়টি তাই বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। 

## নিরাপত্তার পাশাপাশি দুর্ঘটনা মোকাবিলাও গুরুত্বপূর্ণ

দুর্গাপুজোর সময় বিপুল মানুষের সমাগমের কারণে ছোটখাটো দুর্ঘটনাও বড় আকার নিতে পারে। ভিড়ের মধ্যে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়া, শিশু হারিয়ে যাওয়া, কোনও জায়গায় ধাক্কাধাক্কি বা হঠাৎ কোনও জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হওয়া—সবকিছুর জন্য প্রস্তুত থাকতে হয়।

যদিও প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিটি নির্দিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা উল্লেখ করা হয়নি, তবে ভিড়ের প্রবাহ, মণ্ডপের অবস্থান এবং রাস্তার চাপের আগাম তথ্য সংগ্রহ মূলত এই ধরনের পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার প্রস্তুতিরই অংশ।

## পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ কলকাতার পুজো

কলকাতার দুর্গাপুজো শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি শহরের অন্যতম বড় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ইউনেস্কোর স্বীকৃতিও কলকাতার দুর্গাপুজোর আন্তর্জাতিক গুরুত্ব বাড়িয়েছে।

ফলে পুজোর সময় কলকাতায় শুধু স্থানীয় মানুষ নয়, দেশ-বিদেশের পর্যটকরাও আসেন। এই বিপুল জনসমাগমের মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কলকাতা পুলিশের জন্য প্রতি বছরই বড় দায়িত্ব।

এবারও তাই পুজোর প্রায় দুই মাস আগে থেকেই পরিকল্পনা শুরু হয়েছে।

## আগেভাগে তথ্য সংগ্রহের কারণ কী?

সাধারণত বড় কোনও উৎসবের প্রস্তুতি শেষ মুহূর্তে করলে সমস্যা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। কোথায় ভিড় হবে, কোন রাস্তা বন্ধ রাখতে হবে বা কোথায় অতিরিক্ত পুলিশ প্রয়োজন—এসব সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগে।

তাই এবার অনেক আগে থেকেই মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ করতে চাইছে লালবাজার।

আগস্টেই তথ্য সংগ্রহ শুরু হলে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের মধ্যে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা তৈরি করার পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যাবে।

## নতুন পুজো যুক্ত হলে তার তথ্যও দিতে হবে

প্রতি বছর শহরের বিভিন্ন এলাকায় নতুন নতুন পুজো শুরু হয়। একইভাবে কোনও কোনও পুরনো পুজো বন্ধও হয়ে যেতে পারে।

তাই গত বছরের তালিকার উপর সম্পূর্ণ নির্ভর না করে এবার নতুন করে পুজোর তালিকা যাচাই করতে চাইছে কলকাতা পুলিশ।

কোনও পুজো কমিটি নতুন করে বড় আকারে আয়োজন করলে সেই তথ্যও পুলিশের পরিকল্পনার মধ্যে রাখতে হবে।

## দর্শনার্থীদের নিরাপত্তাই মূল লক্ষ্য

পুজোর সময় মানুষের আনন্দ যেন কোনওভাবেই নিরাপত্তার সমস্যায় পরিণত না হয়—এটাই পুলিশের মূল লক্ষ্য। সেই কারণেই ভিড়ের সম্ভাব্য উৎস, মানুষের চলাচলের পথ এবং যানবাহনের চাপ সম্পর্কে আগে থেকেই তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

যে কোনও বড় উৎসবের ক্ষেত্রে crowd management অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কলকাতার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে বিষয়টি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

## পুজো কমিটির ভূমিকা

পুলিশের পাশাপাশি পুজো কমিটিগুলিকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। দর্শনার্থীদের প্রবেশ ও বেরোনোর ব্যবস্থা, মণ্ডপের চারপাশে পর্যাপ্ত জায়গা রাখা, স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন এবং পুলিশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ—এসব ব্যবস্থা আগেভাগে করা গেলে সমস্যা কমবে।

লালবাজারের পক্ষ থেকে পুজো কমিটিগুলিকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে কি না, সেই তথ্যও চাওয়া হয়েছে। 

## থিমের সঙ্গে বাড়ছে দর্শনার্থীর চাপ

থিম পুজোর জনপ্রিয়তা যত বাড়ছে, ততই নির্দিষ্ট কিছু মণ্ডপে মানুষের চাপ বাড়ছে। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে একটি পুজোর থিম দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে গেলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সেখানে বিপুল ভিড় তৈরি হতে পারে।

তাই এবারের পরিকল্পনায় থিম পুজোর বিষয়টি আলাদা করে গুরুত্ব পাচ্ছে।

## যানজট এড়াতে আগাম রুট পরিকল্পনা

পুজোর সময় শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। কোথাও সাধারণ যান চলাচল বন্ধ রাখা, কোথাও বিকল্প পথ নির্ধারণ এবং কোথাও শুধুমাত্র পথচারীদের জন্য রাস্তা খুলে দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

এই সিদ্ধান্তগুলির জন্য আগাম তথ্য প্রয়োজন। সেই কারণেই ট্রাফিক ডিসিদের কাছ থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

## গত বছরের ভুল থেকে শিক্ষা

প্রতি বছরের পুজো পুলিশ প্রশাসনের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি করে। কোনও জায়গায় ব্যারিকেড কম পড়তে পারে, কোথাও দর্শনার্থীদের প্রবেশপথ যথেষ্ট প্রশস্ত নাও হতে পারে, আবার কোথাও যানবাহনের চাপ প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে।

এই ধরনের সমস্যাগুলি চিহ্নিত করে এবারের ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনতে চাইছে লালবাজার।

অর্থাৎ এবারের প্রস্তুতির অন্যতম লক্ষ্য হল গত বছরের ঘাটতিগুলি পুনরাবৃত্তি না করা।

## কলকাতার পুজো এবারও বড় চ্যালেঞ্জ

২০২৬ সালের দুর্গাপুজো ঘিরে শহরের প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। পুজোর আগে আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও বিস্তারিত পরিকল্পনা সামনে আসতে পারে।

কোন মণ্ডপে কী ধরনের ব্যবস্থা থাকবে, কোথায় যান নিয়ন্ত্রণ করা হবে, কোথায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন হবে এবং দর্শনার্থীদের জন্য কী কী নির্দেশিকা থাকবে—এসব ধাপে ধাপে নির্ধারিত হবে।

বর্তমানে তারই প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করছে লালবাজার।

## শেষ কথা

দুর্গাপুজোর এখনও প্রায় দুই মাস বাকি থাকলেও কলকাতা পুলিশ ইতিমধ্যেই উৎসবের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। পুলিশ কমিশনারের পক্ষ থেকে শহরের সমস্ত ডিভিশনের ডিসি এবং ডিসি ট্রাফিকের কাছে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। 

কোন এলাকায় কতগুলি পুজো হচ্ছে, কোথায় বড় থিম মণ্ডপ তৈরি হচ্ছে, কোথায় বেশি দর্শনার্থীর চাপ পড়তে পারে, কোন রাস্তায় যানজটের আশঙ্কা রয়েছে এবং কোথায় সংকীর্ণ রাস্তা রয়েছে—এসব তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। একইসঙ্গে পুজো কমিটিগুলির অভ্যন্তরীণ বিবাদ, পুলিশের দেওয়া পরামর্শ এবং গত বছরের ব্যবস্থাপনায় কোনও ঘাটতি ছিল কি না, সেই বিষয়েও রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। 

এই আগাম তথ্যের ভিত্তিতে কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে পুজোর সময় ভিড় ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি করা হবে। উৎসবের দিনগুলিতে শহরে লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগমের কথা মাথায় রেখে নিরাপত্তা ও যাতায়াত ব্যবস্থাকে যতটা সম্ভব মসৃণ রাখাই এখন লালবাজারের প্রধান লক্ষ্য।

Get notified whenever we post something new!

spot_img

Create a website from scratch

Just drag and drop elements in a page to get started with Newspaper Theme.

Continue reading

ঔরঙ্গজেবের আমলের ৩৩৪ বছরের বনেদি পুজোর অমলিন ঐতিহ্য

পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুজোর ইতিহাসে বনেদি পুজোর আলাদা মর্যাদা রয়েছে। সেই ঐতিহ্যের অন্যতম উজ্জ্বল অধ্যায় পূর্ব বর্ধমানের পানাগড়ের সোঁয়াই গ্রামের মুখোপাধ্যায় পরিবারের দুর্গাপুজো। এ বছর এই পুজো ৩৩৪ বছরে পা দিয়েছে। শুধু প্রাচীনত্ব নয়, এই পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে স্বপ্নাদেশ, বর্ধমানের...

বাংলায় পথচলা শুরু বিজয় থলপতির টিভিকের নতুন অধ্যায়

তামিলনাড়ুতে রাজনৈতিক সাফল্যের পর এবার পশ্চিমবঙ্গে সাংগঠনিক বিস্তার শুরু করল বিজয় থলপতি-র দল তামিলাগা ভেট্রি কাজাগম (TVK)। পূর্ব বর্ধমান জেলার ফাগুপুরে দলের প্রথম কার্যালয় খোলার মাধ্যমে বাংলায় আনুষ্ঠানিকভাবে পথচলা শুরু হয়েছে। এই পদক্ষেপের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—তাহলে...

সন্ত্রাসে শীর্ষে পাকিস্তান, হাক্কানির বিস্ফোরক আত্মসমালোচনা ভাইরাল

সন্ত্রাসবাদে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় পাকিস্তানের শীর্ষে উঠে আসার দাবি ঘিরে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিস (IEP)-এর প্রকাশিত Global Terrorism Index 2026-এর তথ্য সামনে আসার পর পাকিস্তানের প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রদূত হুসেন হাক্কানি ইসলামাবাদের দীর্ঘদিনের...

Enjoy exclusive access to all of our content

Get an online subscription and you can unlock any article you come across.