Friday, August 21, 2026

Creating liberating content

৩৩৫ কোটিতে আয়ারল্যান্ডে দুর্গ...

# মার্ক জাকারবার্গের নতুন ঠিকানা আয়ারল্যান্ডের ঐতিহাসিক দুর্গ বিশ্বের অন্যতম ধনী প্রযুক্তি উদ্যোক্তা এবং...

পশ্চিমবঙ্গে বদলাল পেশাগত করের...

পশ্চিমবঙ্গে পেশাগত কর বা Professional Tax-এর কাঠামো নিয়ে ফের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে।...

অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে ফের...

পশ্চিমবঙ্গের অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হল। রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল...

পুজোর ভিড় সামলাতে আগাম...

দুর্গাপুজো এখনও বেশ কিছুটা দূরে। কিন্তু বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসবকে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে...
Homeবাংলামিয়ানমারে বৌদ্ধ মঠে...

মিয়ানমারে বৌদ্ধ মঠে সেনার বিমানহানা, মৃত ১৪

মিয়ানমারের চলমান সংঘাতের মধ্যেই ফের ভয়াবহ বিমানহানার অভিযোগ উঠল দেশের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে। শুক্রবার কেন্দ্রীয় মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চলে একটি বৌদ্ধ মঠে সামরিক বিমান থেকে বোমা হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। সেই হামলায় অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও প্রায় ২০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিরোধী পক্ষের একটি সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে। নিহতদের মধ্যে তিনজন মহিলা ছিলেন বলেও জানা গিয়েছে। 

ঘটনাটি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে কারণ হামলার সময় ওই মঠে শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা সেখানে এক সপ্তাহের ধ্যান ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে জড়ো হয়েছিলেন। বৌদ্ধ লেন্ট বা ধর্মীয় উপবাসের সময় ওই আয়োজন চলছিল। আচমকা বিমানহানায় গোটা এলাকা আতঙ্কে ছুটোছুটি শুরু হয়ে যায়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, হামলার পর বহু মানুষ নিরাপদ জায়গায় পালিয়ে যান।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চলের মিয়াউং টাউনশিপের সোয়েল লে ওহ গ্রামে। এলাকাটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয়ের প্রায় ৭৫ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। স্থানীয় সময় শুক্রবার সকাল ৯টা নাগাদ হামলা চালানো হয় বলে জানা যাচ্ছে। 

## মঠে চলছিল সপ্তাহব্যাপী ধ্যানের অনুষ্ঠান

হামলার সময় ওই বৌদ্ধ মঠে সপ্তাহব্যাপী একটি ধ্যানের অনুষ্ঠান চলছিল। শতাধিক মানুষ সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য এই ধরনের ধ্যান ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধর্মীয় পরিবেশে মানুষ যখন প্রার্থনা ও ধ্যানের মধ্যে ছিলেন, সেই সময়েই বিমানহানার ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় এক বাসিন্দা সংবাদ সংস্থা Associated Press-কে জানিয়েছেন, একটি যুদ্ধবিমান থেকে পরপর দুটি বোমা ফেলা হয়। দুই হামলার মধ্যে ব্যবধান ছিল প্রায় ১৫ মিনিট। প্রথম বোমাটি মঠের চত্বরে পড়ে বলে অভিযোগ। দ্বিতীয় বোমার আঘাতে মঠের কাছাকাছি একটি বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেই বাড়ির কাছেও বহু মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন। 

## মৃত ১৪, আহত আরও ২০

মিয়াউং টাউনশিপের Civil Defence and Security Organization-এর মুখপাত্র নওয়ে ওও-র বক্তব্য অনুযায়ী, হামলায় ১৪ জন নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন মহিলা ছিলেন। আরও প্রায় ২০ জন আহত হয়েছেন।

তবে মিয়ানমারের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে হতাহতের সংখ্যা পরবর্তী সময়ে পরিবর্তিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। প্রত্যন্ত এলাকায় দ্রুত উদ্ধারকাজ এবং চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছনো কঠিন হওয়ায় অনেক সময় প্রথম দিকে পাওয়া তথ্য অসম্পূর্ণ থাকে।

এই ঘটনায়ও স্থানীয় সূত্র এবং বিরোধী সংগঠনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই প্রাথমিক হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ্যে এসেছে। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে হামলা নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। 

## কীভাবে ঘটল বিমানহানা?

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, একটি যুদ্ধবিমান মঠের উপর বোমা ফেলে। স্থানীয় বাসিন্দার দাবি, প্রায় ১৫ মিনিটের ব্যবধানে দুটি বোমা ফেলা হয়েছিল।

প্রথম বোমাটি মঠের চত্বরে আঘাত করে। এরপর দ্বিতীয় বোমাটি কাছাকাছি একটি বাড়িতে গিয়ে পড়ে। হামলার ফলে মঠ এবং আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

হামলার পর উপস্থিত মানুষজন দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। স্থানীয় এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, হামলায় তাঁর এক আত্মীয়ও মারা গিয়েছেন। পরে স্থানীয়রা মৃতদেহ সরিয়ে অন্য এলাকায় চলে যান। 

## ঘটনাস্থল মান্দালয়ের কাছে

সাগাইং অঞ্চল মিয়ানমারের চলমান গৃহযুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। মিয়াউং টাউনশিপ মান্দালয়ের পশ্চিমে অবস্থিত এবং সামরিক বাহিনী ও জান্তা-বিরোধী গোষ্ঠীগুলির সংঘাতের প্রভাব এই অঞ্চলেও রয়েছে।

সোয়েল লে ওহ গ্রামটি মান্দালয় থেকে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার দূরে। ফলে এই হামলা শুধুমাত্র একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় অংশেও সামরিক সংঘাত এবং বিমান হামলার ঝুঁকি কতটা বেড়েছে, তা নতুন করে সামনে এনেছে।

## ধর্মীয় স্থানে হামলা নিয়ে উদ্বেগ

বৌদ্ধ মঠ মিয়ানমারের সামাজিক ও ধর্মীয় জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দেশটির বহু মানুষ ধর্মীয় শিক্ষা, ধ্যান, প্রার্থনা এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের জন্য মঠের সঙ্গে যুক্ত থাকেন।

এই পরিস্থিতিতে একটি মঠে বিমানহানার অভিযোগ স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে যখন সেখানে কোনও সশস্ত্র সংঘর্ষের বদলে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্র দাবি করছে।

তবে হামলার সময় ওই এলাকায় কোনও সামরিক বা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য উপস্থিত ছিলেন কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

## মিয়ানমারে বিমানহানার ঘটনা নতুন নয়

২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকেই মিয়ানমারে সেনাবাহিনী এবং জান্তা-বিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সংঘাত দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে।

সামরিক বাহিনী নিয়মিত বিমান হামলা চালিয়ে বিদ্রোহী ও প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলির অবস্থান লক্ষ্য করে বলে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন ক্ষেত্রে সেই হামলায় সাধারণ মানুষেরও মৃত্যু হয়।

সাম্প্রতিক ঘটনাটিও সেই বৃহত্তর সংঘাতের প্রেক্ষাপটেই ঘটেছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলি উল্লেখ করেছে। 

## সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি বিপদে

মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধের অন্যতম বড় সমস্যা হল বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তাহীনতা। সংঘর্ষের এলাকা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রাম, ধর্মীয় স্থান এবং সাধারণ মানুষের বসতিও হামলার ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।

সাগাইং অঞ্চল বিশেষভাবে এই সংঘাতের প্রভাব অনুভব করছে। বহু মানুষকে নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হয়েছে।

যাঁরা ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা স্থানীয় কোনও সমাবেশে অংশ নিতে বেরিয়েছেন, তাঁরাও অনেক সময় নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পাচ্ছেন না।

## হামলার সময় মঠে শতাধিক মানুষ

এই ঘটনার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিকগুলির একটি হল হামলার সময় মঠে শতাধিক মানুষের উপস্থিতি। তাঁরা সপ্তাহব্যাপী ধ্যানের অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছিলেন।

ধর্মীয় অনুষ্ঠান চলাকালীন এমন হামলা সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে মিয়ানমারের গ্রামাঞ্চলে মঠগুলি অনেক সময় আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।

ফলে কোনও মঠে বিমান হামলা হলে শুধু ধর্মীয় স্থাপনাই নয়, সেখানে আশ্রয় নেওয়া বহু মানুষের জীবনও বিপন্ন হয়ে পড়ে।

## দ্বিতীয় বোমায় ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি

স্থানীয় বাসিন্দার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথম বোমার পরও মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এরপর প্রায় ১৫ মিনিটের ব্যবধানে দ্বিতীয় বোমা ফেলা হয়।

এই দ্বিতীয় বিস্ফোরণে মঠের কাছের একটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেখানে মঠের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বেশ কিছু মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।

ফলে হামলার প্রভাব মঠের মূল চত্বরের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে।

## মৃতদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়

হামলার পর পরিস্থিতি এতটাই আতঙ্কজনক হয়ে ওঠে যে স্থানীয়রা দ্রুত মৃতদেহ সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে যান বলে এক বাসিন্দা জানিয়েছেন। নিরাপত্তার কারণে অনেকে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।

সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে হামলার পর উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন। দ্বিতীয় হামলার আশঙ্কা, যোগাযোগ ব্যবস্থার সমস্যা এবং চিকিৎসা পরিষেবার অভাব উদ্ধারকাজকে আরও জটিল করে তোলে।

এই ঘটনাতেও আহতদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা কতটা করা সম্ভব হয়েছে, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি।

## সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া নেই

হামলার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর হলেও মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে এই ঘটনার বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। 

অতীতে অবশ্য মিয়ানমারের সেনাবাহিনী জানিয়েছে যে তাদের বিমান হামলা সাধারণত বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তুকে কেন্দ্র করেই পরিচালিত হয় এবং তারা বিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে অভিযান চালায়।

তাই এই হামলার ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য সামনে এলে ঘটনার সামরিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

## জান্তা-বিরোধী গোষ্ঠীর দাবি

হামলার খবর প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় বিরোধী সংগঠনগুলি মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীকেই দায়ী করেছে। Civil Defence and Security Organization of Myaung-এর পক্ষ থেকে হতাহতের তথ্যও প্রকাশ করা হয়েছে।

তবে সংঘাতপূর্ণ মিয়ানমারে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য অনেক সময় পরস্পরবিরোধী হয়। তাই কোনও একটি পক্ষের বক্তব্যের উপর নির্ভর করে হামলার উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো কঠিন।

স্বাধীন তদন্ত এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজন রয়েছে।

## ২০২১ সালের পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে ক্ষমতা দখল করার পর থেকেই দেশজুড়ে ব্যাপক রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হয়। পরবর্তীকালে সেই রাজনৈতিক বিরোধ গৃহযুদ্ধে পরিণত হয়।

গণতন্ত্রপন্থী প্রতিরোধ গোষ্ঠী, জাতিগত সশস্ত্র সংগঠন এবং সামরিক বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ ক্রমশ বাড়তে থাকে।

এই সংঘাতের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল বিমান হামলার ব্যবহার। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা এলাকায় বিমানশক্তি ব্যবহার করেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

## সাগাইং কেন গুরুত্বপূর্ণ?

সাগাইং মিয়ানমারের এমন একটি অঞ্চল যেখানে সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ শক্তিশালী। গ্রামাঞ্চলের বহু এলাকায় স্থানীয় প্রতিরোধ গোষ্ঠীর সক্রিয়তা রয়েছে।

এই কারণে সামরিক বাহিনী এবং প্রতিরোধ বাহিনীর মধ্যে নিয়মিত সংঘর্ষ হয়। অনেক সময় সামরিক অভিযান চালানোর সময় আশপাশের বেসামরিক এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সাম্প্রতিক মঠে হামলার ঘটনাও সেই সংঘাতপূর্ণ পরিবেশের মধ্যে ঘটেছে।

## এর আগেও মঠে হামলার অভিযোগ

মিয়ানমারে বৌদ্ধ মঠে সামরিক হামলার অভিযোগ এই প্রথম নয়। ২০২৫ সালেও সাগাইং অঞ্চলের একটি বৌদ্ধ মঠে বিমান হামলায় অন্তত ২৩ জন নিহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছিল। সেই ঘটনায় প্রায় ৩০ জন আহত হয়েছিলেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছিল।

২০২৬ সালেও মিয়ানমারের বিভিন্ন এলাকায় ধর্মীয় স্থানকে ঘিরে বিমান হামলা এবং সংঘর্ষের খবর সামনে এসেছে। ফলে ধর্মীয় স্থানগুলির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে।

## মানবাধিকার নিয়ে নতুন প্রশ্ন

এই ধরনের হামলা মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি করছে। বেসামরিক মানুষের উপস্থিতি থাকা এলাকায় বিমান হামলা চালানো হয়ে থাকলে তা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

তবে এই নির্দিষ্ট ঘটনায় হামলার লক্ষ্যবস্তু কী ছিল, সেটি এখনও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

সুতরাং তদন্তের আগে আইনি দায় সম্পর্কে চূড়ান্ত মন্তব্য করা উচিত নয়।

## আহতদের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২০ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর কি না, তা এখনও বিস্তারিতভাবে জানা যায়নি।

মিয়ানমারের সংঘাতপূর্ণ এলাকাগুলিতে চিকিৎসা পরিষেবা সীমিত হওয়ায় আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া কঠিন হতে পারে। বিমানহানার পর চিকিৎসাকেন্দ্রগুলিতেও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

## ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ভয়াবহ পরিণতি

যে সময় হামলা হয়েছে, তখন মঠে ধর্মীয় ধ্যানের অনুষ্ঠান চলছিল। অংশগ্রহণকারীরা কয়েকদিন ধরে সেখানে অবস্থান করছিলেন।

এমন একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া মানুষদের মধ্যে শিশু বা বৃদ্ধ ছিলেন কি না, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি। তবে স্থানীয় সূত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে অন্তত তিনজন মহিলা ছিলেন।

এই তথ্য থেকেই বোঝা যায় যে হামলায় সাধারণ মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল অত্যন্ত বেশি।

## মিয়ানমারের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ

দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতির কোনও দ্রুত সমাধান না হওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগও শেষ হচ্ছে না। প্রতিদিনই নতুন করে সংঘর্ষ, বিমান হামলা, বাস্তুচ্যুতি এবং প্রাণহানির খবর সামনে আসছে।

সাগাইংয়ের এই ঘটনা সেই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের আরেকটি উদাহরণ।

যতদিন না সামরিক বাহিনী, বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির মধ্যে কোনও কার্যকর রাজনৈতিক সমাধানের পথ তৈরি হচ্ছে, ততদিন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাবে।

## আন্তর্জাতিক মহলের নজর

মিয়ানমারে বেসামরিক মানুষের উপর হামলার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক মহলের নজরে রয়েছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা দেশটির মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

বিমান হামলার সংখ্যা এবং বেসামরিক হতাহতের ঘটনা নিয়ে নিয়মিত রিপোর্ট প্রকাশিত হচ্ছে। নতুন এই ঘটনাও আন্তর্জাতিক মহলে মিয়ানমারের সংঘাত নিয়ে আলোচনাকে আরও বাড়াতে পারে।

## তথ্য যাচাই কেন জরুরি?

বর্তমানে মিয়ানমারে স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং সংঘাতপূর্ণ এলাকায় সরাসরি প্রবেশের সুযোগ সীমিত। ফলে স্থানীয় বাসিন্দা, বিরোধী সংগঠন এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার তথ্যের উপর অনেকাংশে নির্ভর করতে হয়।

এই কারণেই হতাহতের সংখ্যা বা হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রাথমিক রিপোর্টকে চূড়ান্ত তথ্য হিসেবে না দেখে পরবর্তী তদন্ত ও স্বাধীন যাচাইয়ের অপেক্ষা করা জরুরি।

## একটি ধর্মীয় স্থানকে ঘিরে ভয়

মিয়ানমারের মতো বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে একটি বৌদ্ধ মঠে হামলার খবর মানুষের মধ্যে বিশেষ আবেগ তৈরি করতে পারে। ধর্মীয় স্থানগুলি সাধারণত নিরাপদ জায়গা হিসেবে বিবেচিত হয়।

কিন্তু যুদ্ধের পরিস্থিতিতে সেই নিরাপত্তাবোধও ভেঙে যাচ্ছে।

সাগাইংয়ের এই হামলা সেই বাস্তবতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে।

## শেষ কথা

মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চলে একটি বৌদ্ধ মঠে সামরিক বিমানহানায় অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু এবং প্রায় ২০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। শুক্রবার সকাল ৯টা নাগাদ মিয়াউং টাউনশিপের সোয়েল লে ওহ গ্রামে এই হামলা হয় বলে স্থানীয় সূত্র ও বিরোধী সংগঠন জানিয়েছে। 

হামলার সময় ওই মঠে এক সপ্তাহব্যাপী ধ্যানের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে শতাধিক মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। স্থানীয় এক বাসিন্দার দাবি, একটি যুদ্ধবিমান থেকে প্রায় ১৫ মিনিটের ব্যবধানে দুটি বোমা ফেলা হয়। প্রথমটি মঠের চত্বরে এবং দ্বিতীয়টি কাছাকাছি একটি বাড়িতে আঘাত করে। নিহতদের মধ্যে তিনজন মহিলা ছিলেন বলে জানানো হয়েছে। 

এই হামলার দায় মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর উপর চাপিয়েছে স্থানীয় বিরোধী সংগঠন। তবে সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে হামলার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য নিয়ে এখনও নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারে যে দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধ চলছে, তার মধ্যে বিমান হামলা একটি নিয়মিত সামরিক কৌশলে পরিণত হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালেও সাগাইং অঞ্চলের একটি বৌদ্ধ মঠে বিমানহানায় অন্তত ২৩ জন নিহত হওয়ার খবর সামনে এসেছিল। 

সাম্প্রতিক ঘটনাটি তাই শুধু একটি গ্রামের মঠে হামলার ঘটনা নয়। এটি মিয়ানমারে চলমান সংঘাতের মধ্যে বেসামরিক মানুষের ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তাহীনতা এবং ধর্মীয় স্থানগুলির সুরক্ষা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজর থাকবে হতাহতের চূড়ান্ত সংখ্যা, হামলার প্রকৃত লক্ষ্য এবং মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের দিকে।

Get notified whenever we post something new!

spot_img

Create a website from scratch

Just drag and drop elements in a page to get started with Newspaper Theme.

Continue reading

৩৩৫ কোটিতে আয়ারল্যান্ডে দুর্গ কিনলেন জাকারবার্গ

# মার্ক জাকারবার্গের নতুন ঠিকানা আয়ারল্যান্ডের ঐতিহাসিক দুর্গ বিশ্বের অন্যতম ধনী প্রযুক্তি উদ্যোক্তা এবং Meta-র CEO মার্ক জাকারবার্গ এবার কিনে ফেলেছেন আয়ারল্যান্ডের একটি ঐতিহাসিক দুর্গ। স্ত্রী প্রিসিলা চ্যানকে সঙ্গে নিয়ে তিনি County Waterford-এর বিখ্যাত **Strancally Castle** অধিগ্রহণ করেছেন। দুর্গটির সঙ্গে...

পশ্চিমবঙ্গে বদলাল পেশাগত করের তালিকা, কার কত টাকা?

পশ্চিমবঙ্গে পেশাগত কর বা Professional Tax-এর কাঠামো নিয়ে ফের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। নবান্নের তরফে রাজ্য সরকারের সংশোধিত পেশাগত করের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ফলে চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন পেশার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি এবং নিয়োগকর্তাদের ক্ষেত্রে...

অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে ফের সরব অগ্নিমিত্রা

পশ্চিমবঙ্গের অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হল। রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ফের এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন এবং উপভোক্তা নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্যতার বিষয়টি যথাযথভাবে দেখা হচ্ছে না এবং বেছে বেছে অযোগ্যদের...

Enjoy exclusive access to all of our content

Get an online subscription and you can unlock any article you come across.