অযোধ্যার রাম মন্দিরকে ঘিরে অনুদান সংক্রান্ত বিতর্কের মধ্যেই নতুন করে সামনে এসেছে মন্দির নির্মাণ ও পরিচালনার অন্দরের নানা তথ্য। এবার চম্পত রাইয়ের একটি দীর্ঘ চিঠিকে কেন্দ্র করে আলোচনায় উঠে এসেছে রাম মন্দির নির্মাণ কমিটির চেয়ারম্যান তথা প্রাক্তন আমলা নৃপেন্দ্র মিশ্রের ভূমিকা। ১৮ আগস্টের তারিখে লেখা ওই ন’পাতার চিঠিতে মন্দির নির্মাণের ক্ষেত্রে নৃপেন্দ্র মিশ্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণ, বিভিন্ন সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া এবং নির্মাণ কমিটির কার্যপ্রণালী নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য রাখা হয়েছে।
চম্পত রাই, যিনি শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক, অনুদান চুরির অভিযোগ সামনে আসার পর পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁর পদত্যাগ ৬ জুলাই ট্রাস্টের বৈঠকে গ্রহণ করা হয়। এর পরেই ১৮ আগস্ট তিনি একটি বিস্তারিত নোট প্রকাশ করেন, যেখানে রাম মন্দির নির্মাণের গোটা প্রক্রিয়ায় নৃপেন্দ্র মিশ্রের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। একই সময়ে অনুদান সংক্রান্ত মামলায় উত্তরপ্রদেশের বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT চম্পত রাই এবং অনিল মিশ্রের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পায়নি বলে জানা গিয়েছে।
## নৃপেন্দ্র মিশ্রকে ঘিরে চম্পত রাইয়ের বক্তব্য
চম্পত রাইয়ের চিঠির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল রাম মন্দির নির্মাণ কমিটিতে নৃপেন্দ্র মিশ্রের ভূমিকা। রাইয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, ১৫ জন ট্রাস্টিকে নিয়ে গঠিত ট্রাস্টের অধীনে মন্দির নির্মাণ কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছিল নৃপেন্দ্র মিশ্রকে। মন্দির নির্মাণ সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত তাঁর নেতৃত্বাধীন কমিটির মাধ্যমে নেওয়া হয়েছিল বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাই আরও জানিয়েছেন, মন্দির নির্মাণের জন্য Larsen & Toubro বা L&T-কে বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে নৃপেন্দ্র মিশ্রের পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মন্দিরের পাশাপাশি ৭০ একর জুড়ে বিস্তৃত গোটা কমপ্লেক্সের অন্যান্য নির্মাণকাজের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়ায় তাঁর ভূমিকা ছিল বলে চিঠিতে দাবি করা হয়েছে।
তবে চিঠিটি শুধুমাত্র সমালোচনামূলক ছিল না। বরং রাম মন্দির নির্মাণ সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে নৃপেন্দ্র মিশ্রের অবদানও স্বীকার করেছেন চম্পত রাই। তিনি জানিয়েছেন, নির্মাণকাজে কোনও প্রযুক্তিগত বা প্রশাসনিক সমস্যা তৈরি হলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে এসে তাঁদের পরামর্শ নেওয়া হত। সেই পরামর্শের ভিত্তিতে সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করা হয়েছে।
## নির্মাণ কমিটিতে কারা ছিলেন?
চম্পত রাইয়ের ন’পাতার চিঠিতে নির্মাণ কমিটির সদস্য এবং তাঁদের ভূমিকা নিয়েও কিছু তথ্য রয়েছে। রাইয়ের দাবি, নৃপেন্দ্র মিশ্র তাঁর পছন্দের কয়েকজন ব্যক্তিকে কমিটিতে যুক্ত করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজন ছয় বছরে মাত্র এক বা দু’বার অযোধ্যায় এসেছিলেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য একজনকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে পরামর্শ নেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হত বলে দাবি রাইয়ের।
প্রাক্তন NBCC চেয়ারম্যান অনুপ মিত্তলও নিয়মিত নির্মাণ কমিটির বৈঠকে নৃপেন্দ্র মিশ্রের সঙ্গে উপস্থিত থাকতেন বলে চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে। রাইয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, মিত্তল ইঞ্জিনিয়ারিং সংক্রান্ত বিষয়ে মিশ্রকে পরামর্শ দিতেন এবং নির্মাণ কমিটির বৈঠকের জন্য লিখিত কাজও প্রস্তুত করতেন।
মিত্তলের ছেলে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার যশ মিত্তলও নিয়মিত বৈঠকে উপস্থিত থাকতেন এবং নিজের ল্যাপটপে বৈঠকের কার্যবিবরণী টাইপ করতেন বলে চিঠিতে দাবি করা হয়েছে।
## নিয়মিত বৈঠকে নেওয়া হত নির্মাণের সিদ্ধান্ত
চম্পত রাই জানিয়েছেন, মন্দির নির্মাণ কমিটির বৈঠক নিয়মিত হত। অনেক সময় মাসে একবার, আবার কোনও কোনও পর্যায়ে ১৫ দিন অন্তরও বৈঠক হয়েছে বলে তাঁর বক্তব্য।
রাইয়ের দাবি, মন্দির নির্মাণ সংক্রান্ত প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ওই কমিটিতে আলোচনা করা হত। তাঁর বর্ণনায় নৃপেন্দ্র মিশ্র নিজেকে নির্মাণ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে প্রধান ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করতেন। ফলে রাম মন্দির নির্মাণের প্রশাসনিক কাঠামোয় মিশ্রের প্রভাব কতটা ছিল, চম্পত রাইয়ের চিঠি সেই বিষয়টিকে সামনে এনেছে।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। চম্পত রাইয়ের চিঠিতে নৃপেন্দ্র মিশ্রের ভূমিকা নিয়ে যে বক্তব্য রয়েছে, তা তাঁর নিজের বিবরণ। অন্যদিকে, নৃপেন্দ্র মিশ্র নিজেই সংবাদমাধ্যমের সামনে এই ধরনের বিরোধের খবরকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। ফলে বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যের পার্থক্যও সামনে এসেছে।
## L&T এবং TCE-কে দায়িত্ব দেওয়ার প্রসঙ্গ
রাম মন্দির নির্মাণের সঙ্গে দেশের অন্যতম বড় পরিকাঠামো সংস্থা L&T-র নাম সরাসরি জড়িয়ে রয়েছে। চম্পত রাইয়ের চিঠি অনুযায়ী, মন্দির নির্মাণের দায়িত্ব L&T-কে দেওয়ার ক্ষেত্রে নৃপেন্দ্র মিশ্রের ভূমিকা ছিল। একইসঙ্গে Tata Consulting Engineers বা TCE-কে প্রকল্প ব্যবস্থাপনা পরামর্শদাতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, প্রয়াত VHP নেতা অশোক সিঙ্ঘলের পরামর্শ নৃপেন্দ্র মিশ্রের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল এবং সেই পরামর্শের ভিত্তিতেই L&T এবং TCE-কে বেছে নেওয়া হয়।
অন্যদিকে, মন্দিরের মূল নকশার সঙ্গে যুক্ত স্থপতি চন্দ্রকান্ত সোমপুরাকে প্রকল্পে রাখা হয়। তাঁকে ১৯৮৬ সালেই মন্দিরের নকশার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। মন্দিরের বাইরের বিভিন্ন ভবনের জন্য আলাদা Design Associate-কে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
## করোনার মধ্যেও চলেছিল মন্দির নির্মাণ
রাম মন্দির নির্মাণের বড় অংশের কাজ শুরু হয়েছিল ২০২০ সালে। সেই সময় গোটা দেশ করোনা মহামারির সঙ্গে লড়াই করছিল। এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও নির্মাণকাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নৃপেন্দ্র মিশ্রের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন চম্পত রাই।
রাইয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, নির্মাণকাজে কোনও জটিলতা তৈরি হলে বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের ডেকে তাঁদের পরামর্শ নেওয়া হত। সেই পরামর্শ কাজে লাগিয়ে নির্মাণ সংক্রান্ত সমস্যাগুলি সমাধান করা হত। তাঁর দাবি, অনেক বিশেষজ্ঞই সেবার মনোভাব নিয়ে কাজ করতেন এবং ট্রাস্টের কাছ থেকে পারিশ্রমিক নিতেন না।
Times of India-র প্রতিবেদনেও চম্পত রাইয়ের নোটকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ২০২০ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে বড় পাথরের মন্দির নির্মাণের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং নৃপেন্দ্র মিশ্র পুরো প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ভূমিকা পালন করেন।
## ৭০ একরের মন্দির কমপ্লেক্সে বড় পরিকল্পনা
চম্পত রাইয়ের চিঠিতে শুধু মূল মন্দিরের নির্মাণ নয়, গোটা ৭০ একরের কমপ্লেক্সের পরিকল্পনার কথাও রয়েছে। এই বিশাল এলাকায় মন্দিরের পাশাপাশি একাধিক ছোট মন্দির, দর্শনার্থীদের জন্য পরিষেবা, রাস্তা, নিকাশি ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ পরিকাঠামোর মতো নানা প্রকল্প রয়েছে।
প্রকল্পের একটি অংশে রয়েছে মূল মন্দির এবং তার আশপাশের পরিকাঠামো। সেখানে ছয়টি মন্দির, শেশাবতার ও সপ্তর্ষি মন্দির, তীর্থযাত্রীদের সুবিধা এবং বিভিন্ন নাগরিক পরিকাঠামোর কাজ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এই অংশের নির্মাণকাজ L&T করেছে এবং TCE পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করেছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় অংশে রয়েছে ২৩ কক্ষের অতিথিশালা, ৫০০ আসনের অডিটোরিয়াম, ট্রাস্ট অফিস এবং পার্কিং ব্যবস্থা। এই অংশের নির্মাণের দায়িত্ব উত্তরপ্রদেশ রাজকীয় নির্মাণ নিগমকে দেওয়া হয়েছিল এবং Engineers India Limited-কে পরামর্শদাতা করা হয়েছিল।
## রামকথা মিউজিয়াম নিয়েও পরিকল্পনা
মন্দির কমপ্লেক্সের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মধ্যে রামকথা মিউজিয়ামও গুরুত্বপূর্ণ। চম্পত রাইয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, নৃপেন্দ্র মিশ্র উত্তরপ্রদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে মিউজিয়ামের জন্য একটি ভবন পুনর্নির্মাণের সুযোগ তৈরি করেছিলেন।
এর পর মিউজিয়াম প্রকল্পের জন্য বিশেষজ্ঞদের দায়িত্ব দেওয়া হয়। বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে পুনর্গঠন ও সম্প্রসারণের কাজ এগিয়ে নেওয়ার কথাও চিঠিতে বলা হয়েছে। মিউজিয়ামটি ২০২৭ সালে দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থাৎ মন্দির নির্মাণ শেষ হওয়ার পরেও অযোধ্যার রাম মন্দির কমপ্লেক্সকে কেন্দ্র করে একাধিক বড় পরিকাঠামোগত কাজ চলতে থাকবে।
## ভক্তদের জন্য কী কী পরিষেবা রয়েছে?
চম্পত রাই তাঁর চিঠিতে মন্দিরে আগত ভক্তদের জন্য বিভিন্ন পরিষেবার কথাও তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে বিনামূল্যে হুইলচেয়ার পরিষেবা, পানীয় জল, শৌচাগার, লকার এবং বয়স্ক মানুষদের জন্য সহায়তা রয়েছে।
এছাড়া প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, গর্ভবতী মহিলা এবং পাঁচ বছরের কম বয়সি সন্তানসহ মায়েদের জন্যও বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই পরিষেবাগুলির উদ্দেশ্য হল বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর ভিড়ের মধ্যেও যাতে ভক্তদের ন্যূনতম অসুবিধা হয় তা নিশ্চিত করা।
## অনুদান নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই চিঠি
চম্পত রাইয়ের এই চিঠির গুরুত্ব আরও বেড়েছে কারণ এটি প্রকাশ্যে এসেছে রাম মন্দিরের অনুদান সংক্রান্ত বিতর্কের পর। কয়েক মাস আগে মন্দিরের প্রণামী ও অনুদানের টাকা নিয়ে চুরির অভিযোগ সামনে আসে। অভিযোগটি প্রকাশ্যে আসার পর উত্তরপ্রদেশ পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং পরে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়।
এই মামলায় চম্পত রাই এবং অনিল মিশ্রের নামও আলোচনায় আসে। পরিস্থিতির মধ্যে চম্পত রাই সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে ইস্তফা দেন। পরে SIT-এর চূড়ান্ত তদন্তে তাঁদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে রিপোর্টে জানানো হয়েছে।
ফলে তাঁর পদত্যাগের পর প্রকাশিত এই ন’পাতার চিঠিকে অনেকেই মন্দির ট্রাস্টের অভ্যন্তরীণ কার্যপ্রণালী সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ নথি হিসেবে দেখছেন।
## নৃপেন্দ্র মিশ্রের পালটা বক্তব্য
চম্পত রাইয়ের চিঠি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ার পর নৃপেন্দ্র মিশ্রও প্রকাশ্যে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন। ২১ আগস্ট সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি চম্পত রাইয়ের সঙ্গে তাঁর কোনও অভ্যন্তরীণ বিরোধের খবর অস্বীকার করেন। এমনকি রাইয়ের ন’পাতার চিঠির বিষয়েও তিনি বলেন, তিনি এমন কোনও চিঠি দেখেননি এবং সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিরোধের গল্পকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।
অর্থাৎ একদিকে চম্পত রাইয়ের চিঠিতে নির্মাণ কমিটিতে নৃপেন্দ্র মিশ্রের প্রভাব এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভূমিকা বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে, অন্যদিকে মিশ্র নিজে কোনও বিরোধ বা সমালোচনার দাবি অস্বীকার করেছেন। এই দুই বক্তব্যকে ঘিরেই নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
## মন্দির নির্মাণের অগ্রগতি নিয়েও বড় তথ্য
বিতর্কের পাশাপাশি নৃপেন্দ্র মিশ্র রাম মন্দির প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতির কথাও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মন্দির ও কমপ্লেক্সে মোট প্রায় ৭০টি নির্মাণ প্রকল্প রয়েছে। তার মধ্যে প্রায় ৬০টি প্রকল্প ইতিমধ্যে সম্পূর্ণ হয়ে ট্রাস্টের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বাকি প্রকল্পগুলির মধ্যে অডিটোরিয়াম, ট্রাস্ট অফিস এবং মিউজিয়ামের কাজ রয়েছে। অডিটোরিয়াম এবং ট্রাস্ট অফিসের কাজ শেষ হতে আরও প্রায় চার মাস সময় লাগতে পারে বলে মিশ্র জানিয়েছেন।
বর্ষার সময়ে মন্দির চত্বরে জল জমার সমস্যাও সামনে এসেছে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য পুরসভার নিকাশি ব্যবস্থার সঙ্গে সংযোগ তৈরি করার কাজ করার কথা জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই কাজ প্রায় দুই মাসের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
## অনুদানেই তৈরি মন্দির, সরকারি টাকা নয়: মিশ্র
নৃপেন্দ্র মিশ্র আরও জানিয়েছেন, রাম মন্দির নির্মাণে কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের কোনও অর্থ ব্যবহার করা হয়নি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মন্দির নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ট্রাস্টের মাধ্যমে সংগৃহীত অনুদান থেকেই এসেছে।
চম্পত রাইয়ের চিঠিতেও ট্রাস্টের আর্থিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে কিছু তথ্য দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, ট্রাস্টের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট State Bank of India, Punjab National Bank এবং Bank of Baroda-তে রয়েছে এবং অর্থপ্রদানের ক্ষেত্রে অনলাইন ব্যাংক ট্রান্সফার ব্যবহার করা হয়। GST, TDS, stamp duty, labour cess, PF এবং ESI-সহ বিভিন্ন সরকারি নিয়ম মেনে চলা এবং internal ও statutory audit হওয়ার কথাও তিনি জানিয়েছেন।
ফলে অনুদান নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি ট্রাস্টের আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং নির্মাণ প্রকল্পের প্রশাসনিক কাঠামো নিয়েও জনসমক্ষে আলোচনা আরও বাড়তে পারে।
## বিতর্কের মাঝেও শেষের পথে রাম মন্দির প্রকল্প
বর্তমান পরিস্থিতিতে একদিকে যেমন অনুদান নিয়ে তদন্ত ও রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে, অন্যদিকে মন্দির কমপ্লেক্সের বাকি নির্মাণকাজও এগিয়ে চলেছে। ৭০টি প্রকল্পের মধ্যে প্রায় ৬০টি শেষ হওয়া এবং অডিটোরিয়াম, অফিস ও মিউজিয়ামের মতো বাকি কাজ দ্রুত শেষ করার পরিকল্পনা সেই অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
চম্পত রাইয়ের চিঠি এই গোটা প্রক্রিয়ার নেপথ্যের প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও সামনে এনেছে। বিশেষ করে নৃপেন্দ্র মিশ্রের ভূমিকা, নির্মাণ কমিটির বৈঠক, বিভিন্ন agency নির্বাচন এবং ৭০ একরের কমপ্লেক্সের পরিকল্পনা নিয়ে তাঁর বক্তব্য এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
তবে একইসঙ্গে মনে রাখতে হবে, চিঠিতে থাকা অভিযোগ বা দাবি এবং নৃপেন্দ্র মিশ্রের পালটা বক্তব্য—দুটিই আলাদা অবস্থান। তাই এই বিষয়গুলিকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখার আগে সংশ্লিষ্ট তদন্ত, নথি এবং ভবিষ্যতের প্রশাসনিক বা আইনি পদক্ষেপের দিকে নজর রাখা প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে, অযোধ্যার রাম মন্দিরের অনুদান বিতর্ক নতুন একটি মোড় নিয়েছে। চম্পত রাইয়ের ন’পাতার চিঠি নির্মাণ কমিটির অন্দরমহল এবং নৃপেন্দ্র মিশ্রের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সামনে এনেছে। আবার নৃপেন্দ্র মিশ্র সেই চিঠিকে ঘিরে বিরোধের খবর অস্বীকার করেছেন। এর মধ্যেই SIT-এর তদন্তে চম্পত রাই ও অনিল মিশ্রের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ না পাওয়ার খবর প্রকাশ্যে এসেছে।
ফলে এখন নজর থাকবে তিনটি বিষয়ের দিকে—অনুদান সংক্রান্ত তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ, চম্পত রাইয়ের চিঠি নিয়ে ট্রাস্টের অবস্থান এবং রাম মন্দির কমপ্লেক্সের বাকি নির্মাণকাজ। একইসঙ্গে এই বিতর্কের মধ্যে মন্দির পরিচালনা ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে ভবিষ্যতে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


