Thursday, October 1, 2026

Creating liberating content

यूईएम जयपुर ने मानवता...

जयपुर में आयोजित मानवता के लिए दौड़ के दसवें संस्करण में यूनिवर्सिटी ऑफ...

अक्टूबर 2026 में पड़ेंगी...

सनातन हिंदू धर्म में एकादशी तिथि का विशेष धार्मिक महत्व माना जाता है।...

इंफोसिस और विप्रो में...

देश की प्रमुख सूचना प्रौद्योगिकी सेवा कंपनियों में शामिल इंफोसिस और विप्रो के...

स्वर्ग में कर्ण को...

महाभारत के महान योद्धाओं में कर्ण का नाम केवल उनकी वीरता और संघर्ष...
Homeবাংলাআফ্রিকার সাহেল অঞ্চলে...

আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলে কেন বাড়ছে জঙ্গি তৎপরতা, উদ্বেগ বিশ্বজুড়ে

আফ্রিকার সাহেল অঞ্চল বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম অস্থির নিরাপত্তা অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দারিদ্র্য, রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্বল প্রশাসন, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের ঘাটতি এবং স্থানীয় সংঘাতের মতো একাধিক সমস্যায় জর্জরিত এই বিস্তীর্ণ অঞ্চল এখন বিভিন্ন সশস্ত্র জঙ্গিগোষ্ঠীর সক্রিয়তার কারণে আন্তর্জাতিক মহলের নজরে। আফ্রিকার পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলের মধ্যে বিস্তৃত সাহেল অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি শুধু স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রাকেই বিপন্ন করছে না, বরং গোটা আফ্রিকা এবং তার বাইরেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সাহেল মূলত সাহারা মরুভূমির দক্ষিণ প্রান্ত বরাবর বিস্তৃত একটি বিশাল ভৌগোলিক অঞ্চল। পশ্চিমে আটলান্টিক উপকূল থেকে শুরু করে পূর্বে লোহিত সাগরের দিক পর্যন্ত এর বিস্তার রয়েছে। এই অঞ্চলের মধ্যে একাধিক দেশ রয়েছে, যাদের অনেকগুলিই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল। ফলে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির কার্যকলাপ বিস্তারের জন্য এখানে অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

### কেন সাহেল এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে?

সাহেল অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থানই তাকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। সাহারা মরুভূমির বিস্তীর্ণ অঞ্চল, দীর্ঘ ও কঠিন সীমান্ত এবং প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের কারণে এই অঞ্চলে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা অত্যন্ত কঠিন।

অনেক জায়গায় সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি সীমিত। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে প্রশাসনিক পরিষেবা পৌঁছয় না বললেই চলে। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলি নিজেদের প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করেছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে স্থানীয় সংঘাত। জমি, জল, পশুচারণ এবং কৃষিকাজকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ রয়েছে। দুর্বল প্রশাসনের কারণে সেই সংঘাতের স্থায়ী সমাধান না হলে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলি স্থানীয় অসন্তোষকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করার সুযোগ পায়।

### রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও জটিল করেছে পরিস্থিতি

সাহেল অঞ্চলের একাধিক দেশে গত কয়েক বছরে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটেছে। মালি, বুরকিনা ফাসো এবং নাইজারের মতো দেশগুলিতে রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের পর নিরাপত্তা নীতিতেও বড় পরিবর্তন এসেছে।

এই দেশগুলির সরকারগুলির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হল সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা করা। কিন্তু দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি অভিযান চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

সামরিক সরকারগুলি নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপের কথা বললেও বাস্তবে প্রত্যন্ত অঞ্চলে জঙ্গি হামলা পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। বরং কিছু ক্ষেত্রে সংঘাত আরও দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে।

### আল-কায়দা ও আইএস-ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীর সক্রিয়তা

সাহেল অঞ্চলে বিভিন্ন জিহাদি সংগঠন ও তাদের সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয়। আল-কায়দা ও ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে মতাদর্শগত বা সাংগঠনিকভাবে যুক্ত বিভিন্ন গোষ্ঠী এই অঞ্চলের অস্থিরতাকে কাজে লাগিয়েছে।

তবে সাহেলের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের সম্প্রসারণ হিসেবে দেখলে পরিস্থিতির পুরো চিত্র পাওয়া যায় না। স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যাও তাদের শক্তি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

কিছু গোষ্ঠী স্থানীয় জনগণের অসন্তোষকে নিজেদের প্রচারের অংশ হিসেবে ব্যবহার করে। কোথাও তারা সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের দাবি করে, আবার কোথাও স্থানীয় সংঘাতের মধ্যে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করে।

### দারিদ্র্য ও বেকারত্ব বড় কারণ

সাহেল অঞ্চলের বহু মানুষ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান এবং মৌলিক পরিষেবার অভাব বহু এলাকার মানুষের জীবনকে কঠিন করে তুলেছে।

যুবসমাজের মধ্যে বেকারত্বও একটি বড় সমস্যা। ভবিষ্যতের কোনও স্পষ্ট সুযোগ না থাকলে তরুণদের একটি অংশ সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রভাবের মধ্যে চলে যেতে পারে। অর্থনৈতিক দুর্বলতা এবং সামাজিক অসন্তোষ তাই নিরাপত্তা সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু সামরিক অভিযান চালিয়ে এই সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব নয়। স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী করা এবং শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

### জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব

সাহেল বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবপ্রবণ অঞ্চলগুলির মধ্যে অন্যতম। খরা, মরুকরণ এবং অনিয়মিত বৃষ্টিপাত কৃষি ও পশুপালনের উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলছে।

জল ও চাষযোগ্য জমির মতো সীমিত সম্পদকে কেন্দ্র করে কৃষক ও পশুপালকদের মধ্যে সংঘাত বাড়তে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মানুষের জীবিকা সংকটে পড়লে তাঁরা অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হন। এর ফলে স্থানীয় সামাজিক কাঠামো আরও দুর্বল হয়।

এই পরিস্থিতি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। তারা স্থানীয় বিরোধের মধ্যে মধ্যস্থতা বা সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে পারে।

### বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের পর নতুন সমীকরণ

সাহেল অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পশ্চিমা দেশগুলির ভূমিকা নিয়েও গত কয়েক বছরে বড় পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে ফরাসি সেনাবাহিনী বিভিন্ন অভিযানের মাধ্যমে জঙ্গি সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অংশ নিয়েছিল।

কিন্তু রাজনৈতিক পরিবর্তন ও স্থানীয় সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির পর ফ্রান্সকে একাধিক দেশ থেকে সেনা সরিয়ে নিতে হয়েছে। এর ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একটি নতুন শূন্যতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

পরবর্তীতে রাশিয়ার সঙ্গে কিছু সাহেল দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ে। তবে বিদেশি শক্তির সামরিক উপস্থিতি পরিবর্তন করলেই স্থানীয় সমস্যার সমাধান হবে না। দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা জরুরি।

### কেন বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ?

সাহেল অঞ্চলে জঙ্গি তৎপরতা বাড়ার অর্থ শুধু আফ্রিকার কয়েকটি দেশের নিরাপত্তা সমস্যা নয়। এই অঞ্চলের অস্থিরতা প্রতিবেশী দেশগুলিতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

সীমান্ত পেরিয়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীর চলাচল, অস্ত্র পাচার এবং অবৈধ বাণিজ্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে। এর পাশাপাশি পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলীয় দেশগুলিতেও সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আন্তর্জাতিক মহলের আরেকটি উদ্বেগ হল, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের কারণে বিপুল সংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন। খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য এবং মানবিক সহায়তার প্রয়োজনও বাড়ছে।

### শুধু সামরিক সমাধান কি যথেষ্ট?

সাহেলের বর্তমান পরিস্থিতি দেখিয়ে দিচ্ছে, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় শুধু সামরিক শক্তি প্রয়োগ যথেষ্ট নয়। নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান প্রয়োজন হলেও তার পাশাপাশি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সুশাসন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং স্থানীয় অর্থনীতির উন্নয়ন জরুরি।

স্থানীয় জনগণের আস্থা অর্জন করাও গুরুত্বপূর্ণ। যদি মানুষ প্রশাসনের উপর আস্থা হারায়, তাহলে নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষে প্রত্যন্ত অঞ্চলে কার্যকরভাবে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

সাহেল অঞ্চলের ভবিষ্যৎ তাই শুধু বন্দুকের লড়াইয়ের উপর নির্ভর করছে না। বরং সেই অঞ্চলের মানুষকে কতটা নিরাপদ, স্থিতিশীল এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর করা যায়, তার উপরই দীর্ঘমেয়াদি শান্তি অনেকাংশে নির্ভর করবে।

সব মিলিয়ে আফ্রিকার সাহেল অঞ্চল এখন একাধিক সংকটের কেন্দ্রবিন্দু। রাজনৈতিক অস্থিরতা, দারিদ্র্য, জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্বল প্রশাসন এবং স্থানীয় সংঘাতের সঙ্গে জঙ্গি তৎপরতা মিলে পরিস্থিতিকে অত্যন্ত জটিল করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক মহলকে তাই শুধু সন্ত্রাসবাদ দমনের দিকে নয়, এই অঞ্চলের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যাগুলির স্থায়ী সমাধানের দিকেও নজর দিতে হবে। সাহেলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব না হলে তার প্রভাব আগামী দিনে আফ্রিকার আরও বিস্তীর্ণ অংশ এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার উপর পড়তে পারে।

Get notified whenever we post something new!

spot_img

Create a website from scratch

Just drag and drop elements in a page to get started with Newspaper Theme.

Continue reading

ঔরঙ্গজেবের আমলের ৩৩৪ বছরের বনেদি পুজোর অমলিন ঐতিহ্য

পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুজোর ইতিহাসে বনেদি পুজোর আলাদা মর্যাদা রয়েছে। সেই ঐতিহ্যের অন্যতম উজ্জ্বল অধ্যায় পূর্ব বর্ধমানের পানাগড়ের সোঁয়াই গ্রামের মুখোপাধ্যায় পরিবারের দুর্গাপুজো। এ বছর এই পুজো ৩৩৪ বছরে পা দিয়েছে। শুধু প্রাচীনত্ব নয়, এই পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে স্বপ্নাদেশ, বর্ধমানের...

বাংলায় পথচলা শুরু বিজয় থলপতির টিভিকের নতুন অধ্যায়

তামিলনাড়ুতে রাজনৈতিক সাফল্যের পর এবার পশ্চিমবঙ্গে সাংগঠনিক বিস্তার শুরু করল বিজয় থলপতি-র দল তামিলাগা ভেট্রি কাজাগম (TVK)। পূর্ব বর্ধমান জেলার ফাগুপুরে দলের প্রথম কার্যালয় খোলার মাধ্যমে বাংলায় আনুষ্ঠানিকভাবে পথচলা শুরু হয়েছে। এই পদক্ষেপের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—তাহলে...

সন্ত্রাসে শীর্ষে পাকিস্তান, হাক্কানির বিস্ফোরক আত্মসমালোচনা ভাইরাল

সন্ত্রাসবাদে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় পাকিস্তানের শীর্ষে উঠে আসার দাবি ঘিরে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিস (IEP)-এর প্রকাশিত Global Terrorism Index 2026-এর তথ্য সামনে আসার পর পাকিস্তানের প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রদূত হুসেন হাক্কানি ইসলামাবাদের দীর্ঘদিনের...

Enjoy exclusive access to all of our content

Get an online subscription and you can unlock any article you come across.