কলকাতা: একদিকে কলেজের পড়াশোনা, অন্যদিকে জীবিকার জন্য কঠোর পরিশ্রম। এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রেখে নিজের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রেখেছেন এক কলেজছাত্রী। দিনের বেলা কলেজে ক্লাস করেন, আর সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত একটি পেট্রোল পাম্পে কাজ করেন। শুধু পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্যই তাঁর এই লড়াই। ঘটনাটি সামনে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন ওই তরুণী।
ঘটনার সূত্রপাত এক গ্রাহকের সঙ্গে তাঁর কথোপকথন থেকে। এক ব্যক্তি পেট্রোল পাম্পে গিয়ে ওই তরুণীর সঙ্গে আলাপ করেন। কথায় কথায় জানতে পারেন, তিনি মহারাষ্ট্রের রায়গড় জেলার বাসিন্দা। উচ্চশিক্ষার জন্য অন্য শহরে এসেছেন এবং নিজের কলেজের ফি জোগাতেই পার্ট-টাইম চাকরি করছেন।
তরুণী জানান, সকালে কলেজে ক্লাস করার পর বিকেল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত পেট্রোল পাম্পে দায়িত্ব পালন করেন। শুধু তাই নয়, সপ্তাহান্তে অর্থাৎ শনিবার ও রবিবার তিনি ডাবল শিফটে কাজ করেন। সকাল ও সন্ধ্যা—দুই সময়েই কাজ করে অতিরিক্ত আয় করেন, যাতে পড়াশোনার খরচ নিজেই বহন করতে পারেন।
এই অভিজ্ঞতা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাগ করে নেওয়ার সময় ওই গ্রাহক লেখেন, আমরা অনেক সময় ট্রাফিক, কাজের চাপ বা দৈনন্দিন ছোটখাটো সমস্যার অভিযোগ করি। অথচ এমন বহু তরুণ-তরুণী রয়েছেন, যাঁরা কোনও অভিযোগ না করে প্রতিদিন দ্বিগুণ পরিশ্রম করে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলছেন। তিনি ছাত্রীর পড়াশোনায় প্রয়োজনে সাহায্য করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন।
পোস্টটি ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেনদের অনেকেই ওই ছাত্রীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন। কেউ লিখেছেন, ভারতে ছাত্রছাত্রীদের জন্য আরও বেশি পার্ট-টাইম কাজের সুযোগ থাকা উচিত। আবার অনেকের মতে, আর্থিক প্রতিকূলতার মধ্যেও যে নিষ্ঠা ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে ওই তরুণী নিজের লক্ষ্যপূরণে এগিয়ে চলেছেন, তা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।
এই ঘটনাটি কেবল একটি ভাইরাল গল্প নয়, বরং কঠোর পরিশ্রম, আত্মনির্ভরতা এবং শিক্ষার প্রতি অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক বাস্তব উদাহরণ। স্বপ্ন পূরণ করতে চাইলে প্রতিকূলতাকে জয় করেই এগিয়ে যেতে হয়—এই তরুণীর জীবনসংগ্রাম যেন সেই বার্তাই নতুন করে মনে করিয়ে দিল।
Education Loan Information:
Calculate Education Loan EMI


