কলকাতার SSKM Hospital-এর একটি OPD টিকিট ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে তুমুল চর্চা। ভাইরাল হওয়া ওই টিকিটে ৫৭ বছর বয়সি এক পুরুষ রোগীর ক্লিনিক্যাল নোটে লেখা রয়েছে—‘Wife Bite’। এমনকী চিকিৎসকের পরামর্শের জায়গায় নাকি লেখা, **‘বউয়ের থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন।’** ঘটনাটি সত্যি নাকি নিছক মজা বা কারসাজি, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠেছে। সংবাদ প্রতিদিনের রিপোর্ট অনুযায়ী, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি যাচাই করে ভবানীপুর থানায় অভিযোগও দায়ের করেছে।
## কীভাবে সামনে এল গোটা ঘটনা?
সোমবার সকাল থেকেই SSKM হাসপাতালের ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগের একটি OPD টিকিট সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। টিকিটে রোগীর বয়স ৫৭ বছর এবং লিঙ্গ পুরুষ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে ক্লিনিক্যাল নোটে স্ত্রী কামড়ে দেওয়ার কথা লেখা রয়েছে বলে দাবি করা হয়।
টিকিটটিতে আরও কয়েকজন চিকিৎসকের নাম রয়েছে, যাঁরা ওই বিভাগের OPD-তে দায়িত্বে ছিলেন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—সত্যিই কি ওই রোগী হাসপাতালে এসেছিলেন? আর যদি এসে থাকেন, তাহলে চিকিৎসকই কি এমন অদ্ভুত মন্তব্য করেছিলেন?
## চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই সবচেয়ে বেশি চর্চা
ভাইরাল টিকিটের সবচেয়ে আলোচিত অংশ হল চিকিৎসকের কথিত পরামর্শ—**‘বউয়ের থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন।’**
সাধারণ চিকিৎসা-পরামর্শের তুলনায় এমন মন্তব্য অত্যন্ত অস্বাভাবিক হওয়ায় বিষয়টি দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে এটিকে মজার ঘটনা হিসেবে দেখেছেন। আবার কেউ কেউ দাবি করেন, পুরো টিকিটটাই হয়তো বানানো।
## সত্যিই কি স্ত্রী কামড়েছিলেন?
এখানেই রয়েছে সবচেয়ে বড় রহস্য।
সংবাদ প্রতিদিনের রিপোর্ট অনুযায়ী, হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের একাংশ এমন কোনও রোগীর কথা মনে করতে পারছেন না। ১৪ আগস্ট ওই ব্যক্তি সত্যিই SSKM-এর ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগের OPD-তে এসেছিলেন কি না, তা নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে।
আরও একটি বিষয় সন্দেহ বাড়িয়েছে—ভাইরাল টিকিটে রোগীর নামের জায়গাটি ঢাকা ছিল। ফলে নথিটির আসল পরিচয় যাচাই করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
## AI দিয়ে তৈরি টিকিটের সন্দেহ
ভাইরাল হওয়ার পর কেউ কেউ দাবি করেন, টিকিটটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI ব্যবহার করে তৈরি করা হতে পারে। তবে হাসপাতালের চিকিৎসকদের একাংশের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ, নথিটির উপস্থাপন একেবারে অপরিণত বা সহজে বানানো বলে মনে হচ্ছে না।
আরও একটি সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে—কোনও আসল OPD টিকিটের ছবি নিয়ে পরে তাতে বিভ্রান্তিকর তথ্য যোগ করে সেটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো হয়েছে কি না।
অর্থাৎ, এটি সত্যিকারের চিকিৎসা নথি, সম্পাদিত নথি নাকি সম্পূর্ণ ভুয়ো—এই তিনটি সম্ভাবনাই এখন আলোচনায়।
## টিকিটে চিকিৎসার তথ্যও রয়েছে
ভাইরাল হওয়া টিকিটে শুধু ‘Wife Bite’ লেখা নেই। রোগীর ক্ষতস্থান লাল হয়ে ফুলে যাওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি গ্যাসের সমস্যা ও ব্যথা কমানোর ওষুধ এবং ত্বকের সংক্রমণের জন্য মলম দেওয়ার কথাও রয়েছে।
এই তথ্যগুলি দেখেই অনেকে মনে করছেন, নথিটি পুরোপুরি কল্পিত না-ও হতে পারে। আবার হাসপাতালের চিকিৎসকদের সংশয় থাকায় বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়।
## হাসপাতাল কেন পুলিশের দ্বারস্থ হল?
ঘটনাটিকে নিছক সোশ্যাল মিডিয়ার মজা হিসেবে না দেখে SSKM কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে।
কারণ, যদি সত্যিই হাসপাতালের কোনও চিকিৎসকের তৈরি করা আসল OPD নথি বিকৃত করে ছড়ানো হয়ে থাকে, তাহলে সেটি গুরুতর বিষয়। আবার সম্পূর্ণ ভুয়ো নথি তৈরি করে হাসপাতালের নাম ব্যবহার করাও সমস্যাজনক।
তাই বিষয়টির নেপথ্যে কে রয়েছে এবং কী উদ্দেশ্যে এমন নথি ছড়ানো হয়েছে, তা জানতে ভবানীপুর থানায় অভিযোগ করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
## সোশ্যাল মিডিয়ায় হাসির রোল
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই নেটমাধ্যমে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ‘বউয়ের থেকে দূরে থাকুন’—এই কথাটিই সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে।
অনেকে মজা করে মন্তব্য করেছেন, আবার কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন—চিকিৎসক যদি সত্যিই এমন পরামর্শ দিয়ে থাকেন, তবে তার কারণ কী?
তবে সোশ্যাল মিডিয়ার মজার প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি বিষয়টির একটি গুরুতর দিকও রয়েছে। কোনও হাসপাতালের নাম এবং চিকিৎসকদের পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়ো নথি তৈরি বা ছড়ানো হলে তা জনসাধারণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।
## চিকিৎসকদের নাম থাকায় বাড়ছে রহস্য
ভাইরাল টিকিটে ১৪ আগস্টের OPD ডিউটিতে থাকা তিন চিকিৎসকের নাম রয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে—ডা. অমলেশ বসাক, ডা. তুহিন রায় এবং ডা. স্বর্ণালী মণ্ডল।
ফলে তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল, ওই চিকিৎসকদের মধ্যে কেউ কি সত্যিই রোগীটিকে দেখেছিলেন?
যদি না দেখে থাকেন, তাহলে তাঁদের নাম ব্যবহার করে এমন নথি কীভাবে তৈরি হল, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
## হাসপাতালের নথি নিয়ে সতর্কতা
এই ঘটনা আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এনেছে—হাসপাতালের OPD টিকিট বা চিকিৎসা সংক্রান্ত নথির ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে তার সত্যতা যাচাই করা জরুরি।
একটি নথিতে হাসপাতালের নাম, চিকিৎসকের নাম বা রোগীর বয়স লেখা থাকলেই সেটিকে আসল ধরে নেওয়া যায় না। বিশেষ করে ডিজিটাল এডিটিং এবং AI-নির্ভর কনটেন্ট তৈরির যুগে নথির সত্যতা যাচাই আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
## এখন তদন্তের অপেক্ষা
SSKM কর্তৃপক্ষ পুলিশের কাছে অভিযোগ করায় এখন তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টির আসল সত্য সামনে আসার কথা।
পুলিশকে মূলত খুঁজে দেখতে হবে—
* ওই বয়সের কোনও রোগী ১৪ আগস্ট OPD-তে এসেছিলেন কি না।
* ভাইরাল টিকিটটি হাসপাতালের আসল নথি কি না।
* টিকিটে কোনও পরিবর্তন বা সম্পাদনা করা হয়েছে কি না।
* চিকিৎসকদের নাম ও হাসপাতালের পরিচয় কীভাবে ব্যবহার করা হল।
* সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রথম কে এটি ছড়িয়েছিলেন।
* এর পিছনে নিছক মজা, বিভ্রান্তি ছড়ানো নাকি অন্য কোনও উদ্দেশ্য ছিল।
এই প্রশ্নগুলির উত্তর মিললেই রহস্যের সমাধান হবে।
## শেষ কথা
রাতে স্ত্রী স্বামীকে কামড়ে দিয়েছেন—এমন দাবি এবং তার ভিত্তিতে চিকিৎসকের ‘বউয়ের থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন’ পরামর্শ—এই অদ্ভুত তথ্যই প্রথমে নেটদুনিয়ায় হাসির খোরাক তৈরি করেছে। কিন্তু বিষয়টি এখন আর নিছক মজার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ভাইরাল হওয়া OPD টিকিটের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং SSKM কর্তৃপক্ষ পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছে।
এটি সত্যিকারের চিকিৎসা নথি, নাকি আসল টিকিটের উপর কারসাজি করা হয়েছে, নাকি পুরো ঘটনাটিই সাজানো—তার উত্তর এখনও মেলেনি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভাইরাল টিকিটের তথ্যকে সত্যি ঘটনা হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।


