ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য অবশেষে এলো বড় স্বস্তির খবর। দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে ভারতীয় দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ব্যাটার বিরাট কোহলি (Virat Kohli) সফলভাবে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (BCCI) বাধ্যতামূলক ফিটনেস টেস্ট উতরে গিয়েছেন। ফলে আসন্ন ইংল্যান্ড সফরের একদিনের আন্তর্জাতিক সিরিজে তার অংশগ্রহণ প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে করা হচ্ছে। চোট কাটিয়ে মাঠে ফেরার জন্য যে কঠোর পরিশ্রম তিনি করেছেন, তারই ইতিবাচক ফল মিলেছে এই পরীক্ষায়।
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী, জাতীয় দলে নির্বাচিত হওয়ার পর বা দীর্ঘদিন চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকার পর প্রত্যেক ক্রিকেটারকে একটি নির্দিষ্ট ফিটনেস মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এই পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য হল ক্রিকেটার সম্পূর্ণ ম্যাচ ফিট কিনা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের চাপ সামলানোর জন্য শারীরিকভাবে প্রস্তুত কিনা তা নিশ্চিত করা। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের ওয়ান ডে সিরিজের জন্য দলে সুযোগ পাওয়ার পর বিরাট কোহলিকেও সেই একই প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হয়।
বোর্ড সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হওয়া এই ফিটনেস পরীক্ষার সমস্ত ধাপ অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন কোহলি। পরীক্ষার ফলাফল ইতিবাচক হওয়ায় এখন কেবল আনুষ্ঠানিক ছাড়পত্রের অপেক্ষা। সেই অনুমোদন হাতে পেলেই ইংল্যান্ড সফরে ভারতীয় দলের প্রথম একাদশে তার জায়গা পাওয়া নিয়ে আর কোনও সংশয় থাকবে না।
বিরাট কোহলির নাম উঠলেই যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়, তা হল তার অসাধারণ ফিটনেস। বর্তমান ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম ফিট অ্যাথলিট হিসেবে তাকে বিবেচনা করা হয়। অথচ কেরিয়ারের শুরুর দিকে তার জীবনযাপন ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২০১৪ সালের পর নিজের ফিটনেস নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেন তিনি। খাদ্যাভ্যাসে আমূল পরিবর্তন, নিয়মিত জিমে অনুশীলন, কঠোর ডায়েট প্ল্যান এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপনের মাধ্যমে নিজেকে এক অন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেন ভারতের এই তারকা ব্যাটার।
গ্লুটেন সমৃদ্ধ খাবার ত্যাগ করা থেকে শুরু করে উচ্চমাত্রার ফিটনেস ট্রেনিং— প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি নিজেকে আরও উন্নত করার চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছেন। তার এই পরিশ্রমের ফল আজও স্পষ্টভাবে দেখা যায় মাঠে। ৩৬ বছর বয়সেও কোহলি এমনভাবে দৌড়ান, ফিল্ডিং করেন এবং উইকেটের মধ্যে রান নেন যা অনেক তরুণ ক্রিকেটারের কাছেও ঈর্ষণীয়। এখনও তিনি মুহূর্তের মধ্যে সিঙ্গেলকে ডাবলে পরিণত করতে পারেন এবং বাউন্ডারির সামনে দুরন্ত গতিতে ছুটে গিয়ে নিশ্চিত চার বাঁচিয়ে ফেলেন।
তবে গত কয়েক মাস কোহলির জন্য সহজ ছিল না। আইপিএল ফাইনালের পর মাংসপেশির একটি চোট তাকে বেশ ভোগাচ্ছিল। সেই কারণে তিনি প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট থেকে কিছুটা দূরে থাকতে বাধ্য হন। তার অনুপস্থিতি ভারতীয় দলের জন্যও চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কারণ অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব এবং বড় ম্যাচে পারফর্ম করার ক্ষমতার জন্য কোহলি এখনও দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।
এই পরিস্থিতিতে তার ফিটনেস টেস্টে সফল হওয়ার খবর ভারতীয় ক্রিকেট মহলে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। সোশ্যাল মিডিয়াতেও ইতিমধ্যেই আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে। লক্ষ লক্ষ সমর্থক কোহলিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং ইংল্যান্ড সিরিজে তার ব্যাট থেকে বড় ইনিংস দেখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
এখন সকলের নজর আসন্ন ইংল্যান্ড সফরের দিকে। ফিট বিরাট কোহলি মাঠে নামলে ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপ যে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে, তা বলাই বাহুল্য। অভিজ্ঞতা এবং ফর্মের মেলবন্ধনে তিনি আবারও দলের অন্যতম বড় ভরসা হয়ে উঠতে পারেন। আর সেই কারণেই তার ফিটনেস টেস্টে উত্তীর্ণ হওয়ার খবর শুধু ভারতীয় দলের জন্য নয়, দেশের কোটি কোটি ক্রিকেটপ্রেমীর কাছেও অত্যন্ত সুখবর হিসেবে ধরা দিয়েছে।



