দুর্গাপুজোর আগে ফের অস্বস্তিতে পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। কলকাতার তপসিয়া অঞ্চলের গোবরায় পুজোর চাঁদাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তুমুল অশান্তি। এই সংঘর্ষে আক্রান্ত হয়েছেন স্থানীয় তৃণমূল কর্মী ও ব্যবসায়ী অমিত সরকার। অভিযোগ অনুযায়ী, চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তাঁর উপর হামলা চালানো হয়। ঘটনায় শোরগোল পড়তেই শেষ পর্যন্ত সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে হল মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
১০ হাজার টাকার চাঁদা থেকেই শুরু দ্বন্দ্ব
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপুজোর চাঁদার জন্য অমিত সরকারের কাছ থেকে মোট ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল। প্রথমদিকে তিনি কিছু টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তবে পরবর্তীতে হঠাৎ করেই চাঁদার অঙ্ক বাড়িয়ে দেওয়া হয়। সেই টাকা দিতে অস্বীকার করাতেই উত্তেজনা তৈরি হয়।
অমিত সরকারের অভিযোগ, আগে তাঁর দুটি দোকান থেকে লিখিতভাবে যথাক্রমে ৩ হাজার এবং ১ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল। এর বাইরে আরও ৬ হাজার টাকা মৌখিকভাবে দাবি করা হয়। হঠাৎ করেই অতিরিক্ত অর্থ চাওয়ার বিষয়টি তিনি মেনে নিতে পারেননি।
পরিবারকেও রেহাই দেয়নি হামলাকারীরা
অমিত সরকারের পরিবারের অভিযোগ আরও গুরুতর। তাঁদের দাবি, প্রথমে অমিতের ভাইকে লক্ষ্য করে অশালীন মন্তব্য ও গালিগালাজ করা হয়। পরে পরিবারের অন্য সদস্যরা এগিয়ে এলে তাঁদের উপরেও চড়াও হয় দুষ্কৃতীরা। অমিতকে লোহার রড ও বাঁশ দিয়ে মারধর করা হয়। হামলায় তাঁর স্ত্রী এবং বাবাও গুরুতরভাবে জখম হন।
তৃণমূলের ভেতরে দ্বন্দ্বই মূল কারণ?
প্রসঙ্গত, যে ক্লাবকে কেন্দ্র করে এই চাঁদার বিরোধ শুরু হয়েছে, সেই ক্লাবেরই একসময় সেক্রেটারি ছিলেন অমিত সরকার। পরে পদ থেকে সরে আসার পর থেকেই সম্পর্কের অবনতি হতে শুরু করে। অনেকের মতে, সেই দ্বন্দ্বই মূলত আজকের এই ঘটনার পেছনে বড় ভূমিকা নিয়েছে। হামলাকারীরা স্থানীয় তৃণমূল আশ্রিত বলেই অভিযোগ উঠেছে।
থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের, তদন্তে পুলিশ
এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই তপসিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন অমিত সরকার ও তাঁর পরিবার। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে এবং অভিযুক্তদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। এলাকায় পুনরায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে কড়া নজর রাখা হচ্ছে।
মমতার হস্তক্ষেপে শান্ত হল পরিস্থিতি
ঘটনার খবর পৌঁছতেই হস্তক্ষেপ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, তিনি ফোনে আক্রান্ত অমিত সরকারের খোঁজখবর নেন এবং পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁর উদ্যোগেই এলাকায় পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়। তবে দুর্গাপুজোর আগে চাঁদাকে কেন্দ্র করে এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব তৃণমূল কংগ্রেসকে ফের একবার অস্বস্তিতে ফেলেছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজার আগে চাঁদার ঘটনায় শাসক দলের ভেতরের অন্দরের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে আসা বিরোধীদের হাতে নতুন অস্ত্র তুলে দিল। এখন দেখার বিষয়, এ ঘটনায় দল কীভাবে পদক্ষেপ নেয়।




