Friday, March 6, 2026
Google search engine
Homeবাংলা Supreme Court Order on Waqf Act: সীমিত স্থগিতাদেশ, বড় স্বস্তি কেন্দ্রে

 Supreme Court Order on Waqf Act: সীমিত স্থগিতাদেশ, বড় স্বস্তি কেন্দ্রে

Supreme Court Order on Waqf Amendment Act 2025

সোমবার ওয়াকফ সংশোধনী আইন (Waqf Amendment Act 2025) নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে হওয়া মামলায় এক গুরুত্বপূর্ণ রায় দিলেন প্রধান বিচারপতি বি আর গবইয়ের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ। মামলায় প্রশ্ন উঠেছিল, ২০২৫ সালের এই নতুন ওয়াকফ আইন পুরোপুরি কার্যকর থাকবে কি না। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিল, **গোটা ওয়াকফ আইন স্থগিত রাখার কোনও যৌক্তিক কারণ নেই।**

তবে কোর্ট এ-ও বলেছে, আইনের কিছু ধারা বিতর্কিত, তাই সেগুলির উপর সীমিত স্থগিতাদেশ দেওয়া যেতে পারে। এর ফলে আইন আংশিকভাবে খারিজ বা অকার্যকর হচ্ছে না, বরং কার্যকর থেকে যাবে কিছু শর্তসহ।

Waqf Property Donation Rule নিয়ে কোর্টের পর্যবেক্ষণ

নতুন আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধারা ছিল – **কোনও ব্যক্তি যদি ওয়াকফে (ধর্মীয় ট্রাস্টে) সম্পত্তি দান করতে চান, তবে তাঁকে অন্তত ৫ বছর ধরে মুসলিম হতে হবে।** এই শর্তকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছিল।

সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, এই ধারা কার্যকর করার ক্ষেত্রে সীমিত স্থগিতাদেশ থাকবে। অর্থাৎ, আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত এই শর্ত কার্যকরভাবে চাপানো যাবে না। ফলে ওয়াকফে সম্পত্তি দান সংক্রান্ত পুরনো নিয়ম এখনো চালু থাকবে।

 District Magistrate নয়, Waqf Tribunal দেখবে সম্পত্তি বিরোধ

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছিল ২০২৫ সালের সংশোধিত আইন। তাতে বলা হয়েছিল যে জেলা শাসকেরা ওয়াকফ সম্পত্তি সংক্রান্ত বিবাদ নিষ্পত্তি করবেন। এ ব্যাপারে আদালত আপত্তি জানিয়ে বলেছে, এ ধরনের বিরোধের সমাধান করার অধিকার একমাত্র ওয়াকফ ট্রাইবুনালের। তাই জেলা শাসকের হাতে এই ক্ষমতা থাকবে না।

 Waqf Board গঠনে অমুসলিমদের ভূমিকা

আইনে বলা হয়েছিল, কেন্দ্রীয় ওয়াকফ কাউন্সিলে সর্বাধিক চারজন অমুসলিম সদস্য থাকতে পারবেন এবং রাজ্য ওয়াকফ বোর্ডে সর্বাধিক তিনজন অমুসলিম থাকতে পারবেন। আদালত এই বিধান বহাল রেখেছে।

তবে কোর্ট এও স্পষ্ট করেছে যে, **বোর্ডের প্রধান হিসেবে অবশ্যই মুসলিম সম্প্রদায়ের কাউকে বসাতে হবে।** এর মাধ্যমে নেতৃত্বে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকবে।

All India Muslim Personal Law Board-এর প্রতিক্রিয়া

এই রায়ের পর প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের সদস্য সৈয়দ কাসিম রসুল ইলিয়াস। তিনি জানিয়েছেন, “সুপ্রিম কোর্টের এই রায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে মুসলিম সম্প্রদায়ের স্বার্থ রক্ষা হয়েছে এবং একই সঙ্গে আইনটির মূল কাঠামো অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে।”

 কেন্দ্রের স্বস্তি এবং ভবিষ্যৎ ইঙ্গিত

সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের ফলে কেন্দ্রীয় সরকার বড় স্বস্তি পেয়েছে। কারণ গোটা আইনের বৈধতা প্রশ্নের মুখে পড়েনি। তবে আদালত যেসব ধারায় স্থগিতাদেশ দিয়েছে, সেগুলি নিয়ে ভবিষ্যতে বিস্তারিত শুনানি হবে।

এই নির্দেশের মাধ্যমে স্পষ্ট হলো যে, ওয়াকফ আইন ২০২৫ কার্যকর থাকছে, তবে কিছু ধারা সংশোধন বা পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে।

 উপসংহার

সুপ্রিম কোর্টের এই রায় একদিকে যেমন ওয়াকফ সংশোধনী আইনকে কার্যকর রাখছে, অন্যদিকে বিতর্কিত ধারাগুলির উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করছে। এর ফলে মুসলিম সম্প্রদায়, অন্যান্য ধর্মীয় গোষ্ঠী এবং কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে এক ভারসাম্য বজায় থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular