কলকাতা: সাফল্যের জন্য সবসময় বড় শহর, দামি কোচিং বা আর্থিক স্বচ্ছলতা প্রয়োজন হয় না। ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম এবং লক্ষ্যে অটল থাকার মানসিকতাই একজন মানুষকে জীবনের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে দিতে পারে। সেই সত্যেরই জীবন্ত উদাহরণ কেরলের বি. আব্দুল নাসার। ছোটবেলায় বাবাকে হারিয়ে চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে বড় হওয়া এই মানুষটিই আজ ভারতীয় প্রশাসনিক পরিষেবার (IAS) একজন সম্মানিত অফিসার।
৫ বছরেই বাবাকে হারানোর বেদনা
কেরলের কান্নুর জেলার থালাসেরির বাসিন্দা বি. আব্দুল নাসারের জীবনে দুঃখ নেমে আসে খুব অল্প বয়সেই। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে তিনি তাঁর বাবাকে হারান। সংসারের দায়িত্ব এসে পড়ে তাঁর মায়ের কাঁধে, যিনি গৃহকর্মীর কাজ করে কোনওমতে সন্তানদের মানুষ করার চেষ্টা করতেন। সংসারের অভাব এতটাই ছিল যে নাসার ও তাঁর ভাইবোনদের দীর্ঘ ১৩ বছর অনাথ আশ্রমে থেকে পড়াশোনা করতে হয়।
সংসারের জন্য ছোটবেলা থেকেই কাজ
অভাবের সংসারে পড়াশোনার পাশাপাশি কাজও করতে হয়েছে তাঁকে। মাত্র ১০ বছর বয়সে হোটেলে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরে খবরের কাগজ বিলি, টিউশন পড়ানো, এমনকি ফোন অপারেটরের কাজও করেছেন। দিনের পর দিন কঠোর পরিশ্রম করেও পড়াশোনা ছাড়েননি। বরং প্রতিটি কাজকে তিনি নিজের স্বপ্নপূরণের সিঁড়ি হিসেবে দেখেছেন।
সরকারি চাকরি থেকে শুরু নতুন অধ্যায়
স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৯৪ সালে কেরল স্বাস্থ্য দফতরে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন বি. আব্দুল নাসার। সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁর প্রশাসনিক জীবনের পথচলা। নিষ্ঠা, সততা এবং দক্ষতার জোরে একের পর এক পদোন্নতি পেয়ে ২০০৬ সালে তিনি স্টেট সিভিল সার্ভিসের ডেপুটি কালেক্টর হন।
UPSC না পেরিয়েও কীভাবে IAS?
অনেকেরই ধারণা, IAS হতে গেলে শুধুমাত্র UPSC সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়াই একমাত্র পথ। কিন্তু বি. আব্দুল নাসারের গল্প একটু আলাদা। তিনি সরাসরি UPSC পরীক্ষায় নির্বাচিত হননি। রাজ্য সিভিল সার্ভিসে দীর্ঘদিনের অসাধারণ প্রশাসনিক কাজ, দক্ষতা এবং কর্মনিষ্ঠার স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে ২০১৭ সালে IAS পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। তার আগে ২০১৫ সালে তিনি কেরলের সেরা ডেপুটি কালেক্টর হিসেবেও সম্মানিত হয়েছিলেন।
স্বপ্ন দেখলে পথ তৈরি হয়
বি. আব্দুল নাসারের জীবন প্রমাণ করে, দারিদ্র্য কোনও বাধা নয়, যদি নিজের উপর বিশ্বাস থাকে। অনাথ আশ্রমে বেড়ে ওঠা এক শিশু, যে সংসারের জন্য খবরের কাগজ বিলি করেছে, হোটেলে কাজ করেছে, সেই মানুষই আজ দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ প্রশাসনিক পদে আসীন। তাঁর জীবন হাজার হাজার তরুণ-তরুণীর কাছে একটাই বার্তা দেয়—পরিস্থিতি নয়, অধ্যবসায়ই সাফল্যের আসল চাবিকাঠি।
Education Loan Information:
Calculate Education Loan EMI


