কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ ভারতের জন্য এল আরও একটি গর্বের মুহূর্ত। **প্যারা শট পুটার শর্মিলা ধনখড় (Sharmila Dhankhar)** মহিলাদের **F57 শট পুট** বিভাগে সোনা জিতে ইতিহাস গড়েছেন। তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্স শুধু ভারতকে আরেকটি স্বর্ণপদকই এনে দেয়নি, একই সঙ্গে ভারতের মোট পদকসংখ্যা **১০-এ পৌঁছে দিয়েছে**। গ্লাসগোয় অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় শর্মিলার সাফল্যে দেশজুড়ে আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে।
ফাইনালে শর্মিলা ধনখড় **৯.৮১ মিটার** দূরত্বে শট পুট ছুড়ে সোনার পদক নিশ্চিত করেন। এটি তাঁর মরশুমের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স। একই ইভেন্টে ভারতের আরেক অ্যাথলিট **শিল্পা কে. শায়লা** ব্যক্তিগত সেরা পারফরম্যান্স করে ব্রোঞ্জ পদক জেতেন। ফলে এক ইভেন্ট থেকেই ভারতের ঝুলিতে আসে দুটি পদক, যা ভারতীয় প্যারা অ্যাথলেটিক্সের জন্য বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শর্মিলার এই জয় শুধুমাত্র একটি ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, ভারতীয় ক্রীড়া ইতিহাসেও একটি বিশেষ অধ্যায়। তিনি **কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের প্রথম প্যারা অ্যাথলেটিক্স স্বর্ণপদকজয়ী** হিসেবে ইতিহাসে নিজের নাম লিখিয়েছেন। দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের অপেক্ষার পর এই বিভাগে ভারতের ঘরে এল সোনা।
শর্মিলা ধনখড়ের জীবনসংগ্রামও তাঁর সাফল্যের মতোই অনুপ্রেরণাদায়ক। ছোটবেলায় পোলিও আক্রান্ত হওয়ার পরও তিনি হার মানেননি। ব্যক্তিগত জীবনেও বহু প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। এক সময় পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়ে নতুন করে জীবন শুরু করেন। সমস্ত বাধা অতিক্রম করে কঠোর অনুশীলন এবং অদম্য মানসিক শক্তির জোরে তিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের হয়ে সোনা জিতে প্রমাণ করলেন, ইচ্ছাশক্তি থাকলে কোনও বাধাই শেষ কথা নয়।
শর্মিলার স্বর্ণপদকের দিনে ভারতের জন্য এটি ছিল অত্যন্ত সফল একটি দিন। অ্যাথলেটিক্স, প্যারা অ্যাথলেটিক্স এবং ভারোত্তোলন মিলিয়ে ভারত একদিনে একাধিক পদক জেতে। শর্মিলার পাশাপাশি জ্ঞানেশ্বরী যাদব, সর্বেশ কুশারে এবং ভাল্লুরি অজয় বাবু রুপো জেতেন। অন্যদিকে শিল্পা কে. শায়লা এবং বিন্দিয়ারানি দেবী ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেন। এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ফলে ভারতের মোট পদকসংখ্যা ১০-এ পৌঁছায় এবং পদক তালিকায় ভারতের অবস্থানও উন্নত হয়।
ভারতীয় ক্রীড়া মহল শর্মিলার এই ঐতিহাসিক সাফল্যকে অভিনন্দন জানিয়েছে। বিভিন্ন প্রাক্তন ক্রীড়াবিদ, কোচ এবং ক্রীড়া প্রশাসকরা তাঁর অধ্যবসায়, সংগ্রামী জীবন এবং অসাধারণ পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছেন। তাঁদের মতে, এই সাফল্য দেশের আরও বহু প্যারা অ্যাথলিটকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্যের জন্য অনুপ্রাণিত করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গত কয়েক বছরে ভারতে প্যারা স্পোর্টসের পরিকাঠামো, প্রশিক্ষণ এবং সরকারি সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ভারতীয় প্যারা অ্যাথলিটদের ধারাবাহিক সাফল্য তারই প্রতিফলন। কমনওয়েলথ গেমসে শর্মিলার সোনা ভবিষ্যতে এই খাতে আরও বিনিয়োগ ও প্রতিভা বিকাশে উৎসাহ জোগাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
শর্মিলা ধনখড়ের এই সাফল্য কেবল একটি পদকজয় নয়; এটি সাহস, অধ্যবসায় এবং আত্মবিশ্বাসের এক অনন্য উদাহরণ। জীবনের কঠিন বাস্তবতাকে পিছনে ফেলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের পতাকা উড়িয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন যে কঠোর পরিশ্রম ও দৃঢ় সংকল্প থাকলে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়। তাঁর এই ঐতিহাসিক জয় ভারতের কমনওয়েলথ গেমস অভিযানে এক স্মরণীয় মাইলফলক হয়ে থাকবে।


