Wednesday, September 16, 2026

Creating liberating content

ঋতব্রত-সহ ১০ বিধায়কের পদ...

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের সংঘাত এবার আরও তীব্র আকার নিল। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ মোট ১০...

গঙ্গার গ্রাসে ভূতনি, জলবন্দি...

মালদহের ভূতনি জুড়ে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি। চারদিকে শুধু জল আর জল। গঙ্গার ভয়ংকর...

আরব সাগরে ভারতীয় রণতরীতে...

আরব সাগরে ভারতীয় নৌসেনার একটি রণতরীর সঙ্গে পাকিস্তানি নৌসেনার একটি জাহাজের সংঘর্ষকে কেন্দ্র...

প্রতীক নিয়ে কমিশনের সিদ্ধান্ত...

দলীয় নাম ও নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিরোধের মধ্যেই বড় বার্তা...
Homeবাংলাখেলাধুলাআসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তেই...

আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তেই বিশ্বকাপ খেলেনি বাংলাদেশ

২০২৬ সালের টি-২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে তৈরি তদন্ত প্রতিবেদনে সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলকে প্রধানত দায়ী করা হয়েছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি মঙ্গলবার তাদের রিপোর্ট প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়েছে, তৎকালীন ক্রীড়া মন্ত্রণালয় তথা আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তের কারণেই বাংলাদেশ বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায়। এই সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বা বিসিবিও সম্মতি জানিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। 

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর এবং বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে কমিটি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে না পাঠানোর জন্য তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এবং সেই সময়ের অন্তর্বর্তী সরকার দায়ী।

ফয়সাল আরও বলেন, বাংলাদেশের অবশ্যই বিশ্বকাপে খেলা উচিত ছিল। তাঁর মতে, ক্রিকেটাররা ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু সরকারের সিদ্ধান্তের কারণে তাঁদের সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে হয়। 

## তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির রিপোর্ট

বাংলাদেশের বিশ্বকাপে অনুপস্থিতির কারণ খতিয়ে দেখতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের উদ্যোগে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. এ কে এম ওলি উল্যাহ। অন্য দুই সদস্য ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর এবং বাংলাদেশের প্রাক্তন অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন।

২২ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনে মোট ১২ জনের বক্তব্য এবং সাক্ষাৎকারের সারাংশ তুলে ধরা হয়েছে। ক্রিকেটার, বিসিবির কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের ভিত্তিতে বিশ্বকাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের পটভূমি বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির বক্তব্য অনুযায়ী, ক্রিকেটারদের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের ইচ্ছা ছিল। তবে ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে বিসিবিকে যে সিদ্ধান্ত জানানো হয়, বোর্ড তার বিরোধিতা করেনি। ফলে সরকারের সিদ্ধান্তই কার্যত চূড়ান্ত হয়ে যায়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ক্রিকেটের সঙ্গে রাজনীতির জড়িয়ে পড়া, নিরাপত্তা নিয়ে মতবিরোধ, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল বা আইসিসির সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হওয়া এবং বিসিবির প্রশাসনিক দুর্বলতা—সবকটি বিষয় এই ঘটনার পিছনে ভূমিকা রেখেছে। রাজনৈতিক উত্তেজনা, ভেন্যু পরিবর্তনে আইসিসির অনাগ্রহ এবং সরকারের হস্তক্ষেপকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। 

## মুস্তাফিজুর রহমানকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সূত্রপাত

বাংলাদেশের বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর বিতর্কের সূত্রপাত হয় চলতি বছরের জানুয়ারিতে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নির্দেশের পর আইপিএল দল কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়া হয়। ঘটনাটি নিয়ে বাংলাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।

তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের চাপের কারণেই মুস্তাফিজুরকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এরপর তিনি নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ম্যাচ আয়োজন নিয়ে আপত্তি জানান।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকেও আইসিসির কাছে ম্যাচগুলির ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ জানানো হয়। বাংলাদেশের দাবি ছিল, ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচগুলি আয়োজন করা হোক। কিন্তু টুর্নামেন্টের সময় ঘনিয়ে আসায় আইসিসি ভেন্যু পরিবর্তনে রাজি হয়নি।

দফায় দফায় আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষ নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি। বাংলাদেশও ভারতে দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেনি। এর ফলেই বিশ্বকাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা থেকে বাংলাদেশের নাম প্রত্যাহার হয়ে যায়। 

## আসিফ নজরুলের পাল্টা বক্তব্য

তদন্ত কমিটি তাঁকে দায়ী করার পর আসিফ নজরুল সামাজিক মাধ্যমে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত মূলত তাঁরই ছিল। তবে তিনি এই সিদ্ধান্তকে ভুল বলে মনে করেননি।

আসিফ নজরুলের বক্তব্য, দেশের মর্যাদা, ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা, সাংবাদিক ও সমর্থকদের সুরক্ষা এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কথা মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তাঁর দাবি, ভারতের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগ অমূলক ছিল না।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, আইসিসির একটি প্রাথমিক রিপোর্টে নাকি নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক উদ্বেগের কথা বলা হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মুস্তাফিজুর রহমানের বিশ্বকাপ দলে থাকা, বাংলাদেশি সমর্থকদের অবাধ চলাচল এবং বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন—এই তিনটি বিষয় নিরাপত্তা আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

আসিফ নজরুল দাবি করেন, বাংলাদেশ সরকার বিশ্বকাপের ম্যাচ অন্যত্র সরানোর জন্য একাধিক উদ্যোগ নিয়েছিল। কয়েকটি দেশও এই প্রচেষ্টায় সমর্থন জানিয়েছিল বলে তিনি জানান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আইসিসির কাঠামো এবং ভারতের প্রভাবের কারণে সেই উদ্যোগ সফল হয়নি বলে তাঁর অভিযোগ।

তাঁর বক্তব্য, ছোট দেশ বলে বাংলাদেশকে অপমান মেনে নিতে হবে—এমন নয়। ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকা উচিত, তবে তা সমমর্যাদার ভিত্তিতে হওয়া প্রয়োজন। 

## ক্রিকেটার ও বোর্ডের বক্তব্য

তদন্ত প্রতিবেদনে বাংলাদেশের ক্রিকেটার এবং ক্রিকেট প্রশাসনের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির বক্তব্যও রয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত এবং লিটন দাস দু’জনেই বিশ্বকাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।

শান্তের বক্তব্য অনুযায়ী, আসিফ নজরুলই ছিলেন সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রধান ব্যক্তি। লিটন দাসের মতে, সরকারের সিদ্ধান্ত ছিল একতরফা এবং ক্রিকেটারদের মতামতকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তাঁদের বক্তব্যে উঠে এসেছে, রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের প্রভাব ক্রিকেটারদের কেরিয়ার ও স্বপ্নের উপর পড়েছে।

বিসিবির তৎকালীন কর্মকর্তাদের বক্তব্যেও একই ধরনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তাঁদের মতে, সরকার যখন দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তখন ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষে সেই সিদ্ধান্ত অমান্য করা কঠিন ছিল।

তবে তদন্ত কমিটি স্বীকার করেছে যে, আসিফ নজরুল এবং তৎকালীন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সরাসরি বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া তদন্তের সময় আইসিসির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা হয়নি বলেও কমিটির বিরুদ্ধে প্রশ্ন উঠেছে। ফলে প্রতিবেদনের কিছু পর্যবেক্ষণের ভিত্তি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। 

## ভবিষ্যতের জন্য একাধিক সুপারিশ

তদন্ত কমিটি ভবিষ্যতে এই ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে বেশ কিছু সুপারিশ করেছে। তার মধ্যে অন্যতম হল ক্রিকেটকে রাজনৈতিক বিরোধের বাইরে রাখা। পাশাপাশি বিসিবির স্বাধীনতা আরও শক্তিশালী করা এবং সংকটকালীন যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির কথাও বলা হয়েছে।

ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা ও কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক স্তরে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ক্রীড়া কূটনীতি জোরদার করার বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছে কমিটি।

বিসিবি, ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তুলতে একটি জাতীয় ক্রীড়া কূটনৈতিক কাঠামো তৈরির সুপারিশও করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র রাজনৈতিক আবেগের ভিত্তিতে নেওয়া উচিত নয়। ক্রিকেটার, সমর্থক এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

বাংলাদেশের বিশ্বকাপ না খেলার ঘটনা ইতিমধ্যেই দেশের ক্রিকেটে একটি বিতর্কিত অধ্যায় হয়ে উঠেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে দায় নির্ধারণ করা হলেও, এই সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক, প্রশাসনিক এবং ক্রীড়াগত প্রভাব নিয়ে আলোচনা ভবিষ্যতেও চলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Get notified whenever we post something new!

spot_img

Create a website from scratch

Just drag and drop elements in a page to get started with Newspaper Theme.

Continue reading

ঋতব্রত-সহ ১০ বিধায়কের পদ খারিজ চায় তৃণমূল

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের সংঘাত এবার আরও তীব্র আকার নিল। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ মোট ১০ জন বিধায়কের বিধায়ক পদ খারিজের দাবিতে বিধানসভার স্পিকারের কাছে আবেদন করার পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টেরও দ্বারস্থ হয়েছে কালীঘাটের তৃণমূল শিবির। এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন...

গঙ্গার গ্রাসে ভূতনি, জলবন্দি দেড় লক্ষ মানুষের হাহাকার

মালদহের ভূতনি জুড়ে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি। চারদিকে শুধু জল আর জল। গঙ্গার ভয়ংকর স্রোতে একের পর এক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। কোথাও বাড়ির একতলা পর্যন্ত জল উঠে গিয়েছে, কোথাও আবার ১০ থেকে ১২ ফুট জলের নিচে চলে গিয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা।...

আরব সাগরে ভারতীয় রণতরীতে ধাক্কা পাক জাহাজের

আরব সাগরে ভারতীয় নৌসেনার একটি রণতরীর সঙ্গে পাকিস্তানি নৌসেনার একটি জাহাজের সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই ঘটনা ঘটে বলে জানা গিয়েছে। ভারতীয় নৌসেনার রণতরীটি নিয়মিত নজরদারি অভিযানে...

Enjoy exclusive access to all of our content

Get an online subscription and you can unlock any article you come across.