কলকাতা লিগের চ্যাম্পিয়নশিপ রাউন্ডে আপাতত অ্যাডভান্টেজ মোহনবাগানের হাতে। প্রথম ম্যাচে কোল ইন্ডিয়াকে ৫-১ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে সবুজ-মেরুন শিবির। অন্যদিকে, ইস্টবেঙ্গল ইউনাইটেড স্পোর্টসের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র করায় চ্যাম্পিয়নশিপের দৌড়ে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে সোমবার ঘরের মাঠে ইউনাইটেড স্পোর্টসের বিরুদ্ধে নামতে চলেছে মোহনবাগান। লক্ষ্য একটাই—জয়ের ধারা বজায় রেখে লিগের অঙ্ক নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখা।
কলকাতা লিগের সুপার সিক্স বা চ্যাম্পিয়নশিপ রাউন্ডে প্রতিটি ম্যাচের গুরুত্ব এখন অনেক বেড়ে গিয়েছে। সামান্য পয়েন্ট নষ্ট করলেই বদলে যেতে পারে শীর্ষস্থানের সমীকরণ। তাই ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে ম্যাচে কোনওরকম ঝুঁকি নিতে চাইছে না মোহনবাগান টিম ম্যানেজমেন্ট। সেই কারণেই সিনিয়র দলের একাধিক পরিচিত মুখকে প্রথম একাদশে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
## লিস্টন কোলাসোকে নিয়ে বাড়তি সতর্কতা
মোহনবাগানের প্রথম একাদশে সম্ভাব্য পরিবর্তনের অন্যতম কারণ লিস্টন কোলাসোর চোট। কোল ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে আগের ম্যাচে হ্যামস্ট্রিংয়ে টান লাগে এই উইঙ্গারের। যদিও দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, লিস্টন এখন অনেকটাই সুস্থ। তিনি অনুশীলনেও যোগ দিচ্ছেন। তবুও মরশুমের শুরুতেই তাঁকে নিয়ে বাড়তি ঝুঁকি নিতে চাইছে না টিম ম্যানেজমেন্ট।
ফলে ইউনাইটেড স্পোর্টসের বিরুদ্ধে লেফট উইংয়ে শুরু থেকে খেলতে পারেন অভিষেক সিং। আগের ম্যাচেও লিস্টনের পরিবর্তে মাঠে নেমেছিলেন অভিষেক। এবার তাঁকে প্রথম একাদশে রেখে শুরু করার সম্ভাবনা রয়েছে। তরুণ এই ফুটবলারকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাতে হতে পারে।
লিস্টন কোলাসো মোহনবাগানের আক্রমণভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। তাঁর গতি, ড্রিবলিং এবং উইং থেকে আক্রমণ তৈরির ক্ষমতা সবুজ-মেরুন দলের বড় অস্ত্র। তাই তাঁকে সম্পূর্ণ সুস্থ না করে মাঠে নামানোর বিষয়ে সতর্ক কোচ বাস্তব রায়। দীর্ঘ লিগ পর্বের কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
## মাঝমাঠেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা
শুধু উইং নয়, মোহনবাগানের মাঝমাঠেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। দীপক টাংরির পরিবর্তে আপুইয়াকে ফেরানো হতে পারে। আগের ম্যাচে দীপকের পারফরম্যান্সে দল খুব একটা সন্তুষ্ট নয় বলে খবর। প্রতিপক্ষকে ধাক্কা মেরে হলুদ কার্ড দেখা ছাড়া তাঁর পারফরম্যান্সে বিশেষ ইতিবাচক দিক নজরে আসেনি।
এই পরিস্থিতিতে সন্দীপ মালিকের পাশে আপুইয়াকে ফেরানোর পরিকল্পনা রয়েছে। মাঝমাঠে বল দখল, পাসিং এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভাঙার ক্ষেত্রে আপুইয়ার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ইউনাইটেড স্পোর্টসের মতো দল যখন ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক হওয়ার চেষ্টা করবে, তখন মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা মোহনবাগানের কাছে অত্যন্ত জরুরি।
কোচ বাস্তব রায় সম্ভবত এমন একটি দল নামাতে চাইছেন, যারা শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে পারবে। সেই পরিকল্পনায় আপুইয়ার প্রত্যাবর্তন গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
## প্রথম ম্যাচে বড় জয় মোহনবাগানের
চ্যাম্পিয়নশিপ রাউন্ডের প্রথম ম্যাচে কোল ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে দুর্দান্ত জয় পেয়েছে মোহনবাগান। ৫-১ ব্যবধানে জয়ের ফলে তিন পয়েন্ট পাওয়ার পাশাপাশি দলের গোল পার্থক্যও অনেকটা শক্তিশালী হয়েছে। ম্যাচের প্রথমার্ধেই পাঁচ গোল করে প্রতিপক্ষকে কার্যত ম্যাচের বাইরে ঠেলে দিয়েছিল সবুজ-মেরুন ব্রিগেড।
সেই ম্যাচে মনবীর সিং জোড়া গোল করেন। সাহাল আবদুল সামাদ, কিয়ান নাসিরি এবং সন্দীপ মালিকও গোলের তালিকায় নাম লেখান। আক্রমণভাগের ফুটবলারদের এমন পারফরম্যান্সে স্বাভাবিকভাবেই আত্মবিশ্বাস বেড়েছে দলের।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে একাধিক সুযোগ তৈরি করেও আর গোল করতে পারেনি মোহনবাগান। ফিনিশিংয়ের ঘাটতি নিয়ে কিছুটা চিন্তা রয়েছে কোচের। কারণ, চ্যাম্পিয়নশিপ রাউন্ডে গোল পার্থক্যও শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তাই ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে শুধু জয় নয়, সুযোগ কাজে লাগিয়ে বড় ব্যবধানে জেতার লক্ষ্যও থাকতে পারে মোহনবাগানের।
## পয়েন্টের অঙ্কে এগিয়ে সবুজ-মেরুন
চ্যাম্পিয়নশিপ রাউন্ডে বর্তমানে মোহনবাগান সুবিধাজনক জায়গায় রয়েছে। প্রথম ম্যাচে কোল ইন্ডিয়াকে হারিয়ে তারা তিন পয়েন্ট পেয়েছে। অন্যদিকে, ইস্টবেঙ্গল ইউনাইটেড স্পোর্টসের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র করায় দুই পয়েন্ট হারিয়েছে।
মহামেডান স্পোর্টিংও নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভবানীপুরকে ২-০ গোলে হারিয়ে তিন পয়েন্ট পেয়েছে। ফলে শীর্ষস্থানের লড়াইয়ে মোহনবাগান ও মহামেডান দু’দলই ভালো জায়গায় রয়েছে। তবে গোল পার্থক্য এবং পরবর্তী ম্যাচগুলির ফলাফল চ্যাম্পিয়নশিপের অঙ্কে বড় ভূমিকা নেবে।
ইস্টবেঙ্গলের ড্রয়ের ফলে মোহনবাগানের সামনে সুযোগ তৈরি হয়েছে। ইউনাইটেড স্পোর্টসের বিরুদ্ধে জিততে পারলে সেই সুবিধা আরও বাড়বে। তাই এই ম্যাচকে শুধুমাত্র আরেকটি লিগ ম্যাচ হিসেবে দেখছে না সবুজ-মেরুন শিবির। বরং এই ম্যাচের ফলাফল ভবিষ্যতের চ্যাম্পিয়নশিপ দৌড়ে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
## ইউনাইটেডেরও লক্ষ্য বড় দলকে হারানো
অন্যদিকে, ইউনাইটেড স্পোর্টসও সহজ প্রতিপক্ষ নয়। ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র করে তারা ইতিমধ্যেই দেখিয়েছে, বড় দলের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা রয়েছে তাদের। যদিও সেই ড্রয়ের ফলে চ্যাম্পিয়নশিপের দৌড়ে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে ইউনাইটেড, তবুও মোহনবাগানের বিরুদ্ধে জয় পেলে লিগের অঙ্ক পুরোপুরি বদলে যেতে পারে।
ইউনাইটেডের লক্ষ্য এখন মোহনবাগানকে হারিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট সংগ্রহ করা। সেই সঙ্গে শীর্ষে থাকা দলগুলির ব্যবধানও কমাতে চাইবে তারা। ফলে ম্যাচে লড়াইয়ের অভাব হবে না।
ইউনাইটেডের হয়ে এবারের লিগে এখনও পর্যন্ত দশটি গোল করেছেন শ্রীনাথ এম। দলের আক্রমণভাগে তিনিই প্রধান ভরসা। মোহনবাগানের রক্ষণকে তাঁকে আটকানোর জন্য বিশেষ পরিকল্পনা করতে হতে পারে। শ্রীনাথকে জায়গা না দিলে ইউনাইটেডের আক্রমণ অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়বে।
## ঘরের মাঠে জয়ের লক্ষ্য
সোমবার মোহনবাগান মাঠে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি। দুপুর ৩টেয় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ঘরের মাঠে সমর্থকদের সামনে খেলার সুবিধা কাজে লাগাতে চাইবে সবুজ-মেরুন। কোল ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে বড় জয়ের পর সমর্থকদের প্রত্যাশাও বেড়েছে।
তবে কোচ বাস্তব রায় জানেন, ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে ম্যাচটি আগের ম্যাচের তুলনায় কঠিন হতে পারে। কারণ, প্রতিপক্ষ ইতিমধ্যেই ইস্টবেঙ্গলের মতো শক্তিশালী দলকে আটকে দিয়েছে। তাই শুরু থেকেই মনোযোগী থাকতে হবে মোহনবাগানকে।
প্রথম একাদশে সিনিয়র ফুটবলারদের রাখার সিদ্ধান্ত থেকেই বোঝা যাচ্ছে, মোহনবাগান ম্যাচটিকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে। লিস্টন না থাকলেও অভিষেক, মনবীর, সাহাল, কিয়ানদের নিয়ে আক্রমণভাগ যথেষ্ট শক্তিশালী। মাঝমাঠে আপুইয়ার প্রত্যাবর্তন দলকে আরও ভারসাম্য দিতে পারে।
সব মিলিয়ে, কলকাতা লিগের চ্যাম্পিয়নশিপ রাউন্ডে মোহনবাগানের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হল নিজেদের অ্যাডভান্টেজ ধরে রাখা। প্রথম ম্যাচে বড় জয় দিয়ে শুরু করার পর ইউনাইটেড স্পোর্টসের বিরুদ্ধে ফের তিন পয়েন্ট পেলে শিরোপার দৌড়ে সবুজ-মেরুন আরও শক্ত অবস্থানে পৌঁছে যাবে। তবে ইউনাইটেডও যে সহজে জায়গা ছেড়ে দেবে না, তা স্পষ্ট। ফলে সোমবারের ম্যাচে আক্রমণ, কৌশল এবং স্নায়ুর লড়াই—তিনটিই গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।
**আজ কলকাতা লিগে:**
**মোহনবাগান বনাম ইউনাইটেড স্পোর্টস**
**সময়:** দুপুর ৩টা
**ভেন্যু:** মোহনবাগান মাঠ
**সম্প্রচার:** নাম্বার টেন স্পোর্টস অ্যাপ


