গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পে স্বচ্ছতা বাড়াতে এবং ভুয়ো উপস্থিতি রোধে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। **১২৫ দিনের গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পে (VB-G RAM G)** এবার চালু হচ্ছে **‘লোকেশন লক’ (Location Lock)** ব্যবস্থা। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কর্মীদের নির্ধারিত কর্মস্থলে উপস্থিতি ডিজিটালভাবে যাচাই করা হবে। কেউ কাজের জায়গায় উপস্থিত না থেকেও উপস্থিতি দেখানোর চেষ্টা করলে তাঁর মজুরি আটকে দেওয়া হতে পারে। সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপের ফলে প্রকল্পে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং সরকারি অর্থের অপব্যবহার কমবে।
কেন্দ্র সরকার সম্প্রতি চালু হওয়া **VB-G RAM G (Viksit Bharat – Guarantee for Rozgar and Ajeevika Mission-Gramin)** প্রকল্পের অধীনে ১০০ দিনের পরিবর্তে ১২৫ দিনের কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দিয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্প পরিচালনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উপরও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। এই নতুন ব্যবস্থার অংশ হিসেবেই লোকেশন লক প্রযুক্তি কার্যকর করা হচ্ছে।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, কাজে যোগ দেওয়ার সময় কর্মীদের মোবাইল অ্যাপ বা নির্দিষ্ট ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে উপস্থিতি নথিভুক্ত করতে হবে। সেই সময় কর্মীর **জিও-লোকেশন (GPS অবস্থান)** যাচাই করা হবে। যদি দেখা যায় যে কর্মী নির্ধারিত কর্মস্থলে নেই, তাহলে উপস্থিতি গ্রহণ করা হবে না এবং সেই দিনের মজুরিও প্রদান করা হবে না। এর উদ্দেশ্য হল প্রকৃত কর্মীরাই যেন সরকারি সুবিধা পান এবং ভুয়ো হাজিরা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা যায়।
প্রশাসনের দাবি, অতীতে বিভিন্ন এলাকায় এমন অভিযোগ উঠেছিল যে অনেক ক্ষেত্রে কর্মস্থলে উপস্থিত না থেকেও হাজিরা দেখিয়ে মজুরি তোলা হয়েছে। নতুন লোকেশন লক ব্যবস্থার মাধ্যমে এই ধরনের অনিয়ম অনেকটাই রোধ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের মানও আরও উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই প্রকল্পে মজুরি এখনও **ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT)**-এর মাধ্যমে সরাসরি কর্মীদের ব্যাঙ্ক বা ডাকঘরের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। সরকার জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মজুরি দেওয়ার ব্যবস্থা বজায় থাকবে এবং বিলম্ব হলে আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থাও বহাল রয়েছে।
তবে নতুন নিয়মকে ঘিরে কিছু প্রশ্নও উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, গ্রামীণ এলাকায় দুর্বল মোবাইল নেটওয়ার্ক, স্মার্টফোনের সীমিত ব্যবহার বা GPS সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে প্রকৃত কর্মীরাও সমস্যায় পড়তে পারেন। তাই প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা দিলে দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা রাখা জরুরি বলে তাঁরা মনে করছেন।
সরকার অবশ্য জানিয়েছে, প্রযুক্তির পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে প্রশাসনিক নজরদারিও বজায় থাকবে। কোথাও প্রযুক্তিগত সমস্যা হলে স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় সহায়তা করবে, যাতে প্রকৃত শ্রমিকরা কোনওভাবেই বঞ্চিত না হন। একই সঙ্গে প্রকল্পে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নিয়মিত অডিট এবং পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থাও থাকবে।
গ্রামীণ উন্নয়ন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি কর্মসংস্থান প্রকল্পে প্রযুক্তিনির্ভর উপস্থিতি ব্যবস্থা চালু হলে ভুয়ো উপভোক্তা ও আর্থিক অনিয়ম অনেকটাই কমানো সম্ভব। তবে সফল বাস্তবায়নের জন্য প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে, **১২৫ দিনের গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পে ‘লোকেশন লক’ চালুর সিদ্ধান্ত** প্রকল্পকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন এই নতুন ব্যবস্থা মাঠপর্যায়ে কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং প্রকৃত শ্রমিকদের সুবিধা নিশ্চিত করতে পারে কি না, সেদিকেই নজর থাকবে।


