কালীপূজার প্রস্তুতি ও কলকাতার বিখ্যাত মণ্ডপগুলো
কালীপূজার মরশুম ২০২৫ শুরু হয়ে গেছে শহরজুড়ে আলো, আলতা ও অঞ্জলির আয়োজন নিয়ে। এই বছর ২০ ও ২১ অক্টোবর (অমাবস্যা) দীপাবলি ও কালীপূজা একসঙ্গে পালিত হবে। এই দুই দিন মায়ের আরাধনা ও উৎসবের ছোঁয়া ছড়িয়ে যাবে কলকাতা ও রাজ্যের নানা প্রান্তে।
কলকাতা শহর এবং শহরতলির বিভিন্ন মণ্ডপ ও মন্দিরে এই সময় জমে ওঠে অদ্বিতীয় ভক্তযাত্রা। নীচে দেওয়া হলো এমনই কিছু বিখ্যাত ও ঐতিহ্যবাহী কালী পুজোর তালিকা, যা ২০২৫ সালে (এবং সাধারণত) দর্শনীয়:
দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দির
দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে দিক-আলোর আয়োজনে দীপাবলির রাতে বিশেষ পুজো হয়। এখানে মা “ভবতারিণী” রূপে পূজিত হন। বাংলার নানান প্রান্ত থেকে ভক্তগণ শ্রদ্ধা নিবেদন করতে আসেন।
কালীঘাট কালী মন্দির
দেশে ৫১ শক্তিপীঠের একটি — কালীঘাট মন্দির। এখানে মাকে “কালিকা” রূপে সর্বোচ্চ আরাধনায় পুজো করা হয়। প্রতি বছর রাতভর ভক্তবৃন্দের ঢল থাকে এখানে।
থনথনিয়া কালী মন্দির
কলেজ স্ট্রিট এলাকায় অবস্থিত থনথনিয়া কালী বাড়িরও ইতিহাস প্রবল। স্থানীয়দের কাছে প্রিয় একটি পুজো স্পট।
ফাটাকেষ্টর কালী পুজো
ফাটাকেষ্ট কালী পুজো দীপাবলির সময় হয় সবচেয়ে আলোচিত মণ্ডপগুলোর মধ্যে। গত প্রায় ৬৫ বছর ধরে এই প্রচলন রয়েছে। এটি শুরু করেছিলেন কৃষ্ণ চন্দ্র দত্ত, যিনি “ফাটাকেষ্ট” নামে পরিচিত। (প্রথম শুরু ১৯৫৭ সাল থেকে)
চেতলা ডাকাত কালী পুজো
প্রায় ৫৫০ বছরের পুরনো এই ঐতিহ্যবাহী পুজো চেতলায় অনুষ্ঠিত হয়। রাতে হাজার হাজার ভক্ত এখানে এসে কালী আরাধনায় অংশ নেন।
আলীপুরের আরাধনা সমিতি
আলীপুরের এই সমিতিতে কালী ঠাকুরকে চামুণ্ডা রূপে পূজা করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, মা পার্বতীর ভ্রুপল্লব থেকে চামুন্ডার উৎপত্তি। অসুর শুম্ভ ও নিশুম্ভকে বধের উদ্দেশে এই রূপে মা উপস্থিত হন। ২০২৫ সালে এই পুজো ৭৮তম বর্ষে পড়েছে।
দক্ষিণ কলকাতার এবিএস স্পোর্টিং ক্লাব
এই স্পোর্টিং ক্লাবের পুজো খুবই চমকপ্রদ। প্রায় ৩০ ফুট উচ্চতার কালী আইডল এখানে স্থাপন করা হয়।
নিউটানের দশাদ্রোণ ব্যায়াম সমিতি
নিউটাউনের এই মণ্ডপ সম্প্রতি বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। কলকাতার পুজোর উন্মাদনায় এতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
নির্মিত রূপ, পুজোর আয়োজন ও ভক্তসমাগম
এই সব মণ্ডপ সফলভাবে আয়োজন করে আলোকবেশন, প্যান্ডেল, প্রতিমা শিল্পকর্ম, মণ্ডপ সজ্জা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। দীপাবলির রাতে মণ্ডপগুলো এক বিশেষ আকর্ষণ হয়ে ওঠে — অলোক আবির্ভাব, প্রদীপের রোশনাই, বাজনা ও অন্তরঙ্গ অনুরাগ। ভক্তরা ছোট-বড় সকলেই মায়ের প্রসাদ, ফুল, মাটির প্রদীপ, ঢাক ওবাজে মন্ত্রোচ্চারণে অংশ নেন।
কিছু মণ্ডপে নৃত্য, রাজনীতি বা গানের অনুষ্ঠান থাকে, আবার কিছুতে পূজা চালিয়ে চলে রাতভর ধ্যান, মন্ত্রোচ্চারণ ও আর্শীবাদ বণ্টন।




