Monday, November 2, 2026

Creating liberating content

यूईएम जयपुर ने मानवता...

जयपुर में आयोजित मानवता के लिए दौड़ के दसवें संस्करण में यूनिवर्सिटी ऑफ...

अक्टूबर 2026 में पड़ेंगी...

सनातन हिंदू धर्म में एकादशी तिथि का विशेष धार्मिक महत्व माना जाता है।...

इंफोसिस और विप्रो में...

देश की प्रमुख सूचना प्रौद्योगिकी सेवा कंपनियों में शामिल इंफोसिस और विप्रो के...

स्वर्ग में कर्ण को...

महाभारत के महान योद्धाओं में कर्ण का नाम केवल उनकी वीरता और संघर्ष...
Homeবাংলাজেলা পরিষদের সভাধিপতি...

জেলা পরিষদের সভাধিপতি পদ থেকে ইস্তফা কাজল শেখের, বাড়ল রাজনৈতিক জল্পনা

বীরভূমের রাজনীতিতে ফের বড়সড় পরিবর্তন। বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি পদ থেকে ইস্তফা দিলেন ফয়জুল হক ওরফে কাজল শেখ। ১৯ আগস্ট পদত্যাগের চিঠি জমা দিয়েছিলেন তিনি। এরপর প্রশাসনের তরফে তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হয়ে পদত্যাগের কারণ জানাতে বলা হয়। বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের সামনে হাজির হয়ে কাজল শেখ জানান, ব্যক্তিগত কারণেই তিনি স্বেচ্ছায় এই পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর উপর কোনওরকম চাপ বা জবরদস্তি ছিল না বলেও তিনি স্পষ্ট করেন। এরপর তাঁর বক্তব্যে সন্তুষ্ট হয়ে প্রশাসনের তরফে পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়। 

এই পদত্যাগকে ঘিরে ইতিমধ্যেই বীরভূমের রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ, কাজল শেখের ইস্তফার নেপথ্যে শুধুমাত্র ব্যক্তিগত কারণ রয়েছে, নাকি এর পিছনে রয়েছে জেলা রাজনীতির অভ্যন্তরীণ সমীকরণ—সেই প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে কাজল শেখের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই পদত্যাগকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। 

## প্রশাসনের তরফে ইস্তফাপত্র গ্রহণ

বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি পদ থেকে কাজল শেখের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছে প্রশাসন। ২০ আগস্ট বর্ধমান ডিভিশনের ডিভিশনাল কমিশনার তথা নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাঁর পদত্যাগ অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে।

প্রশাসনিক নির্দেশে পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত আইন, ১৯৭৩-এর ১৪৪(৪) ধারার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেই আইনের অধীনেই কাজল শেখের পদত্যাগ কার্যকর হয়েছে। পাশাপাশি জেলা পরিষদের সভাধিপতির দায়িত্ব আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে নির্বাহী আধিকারিকের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

শুধু দায়িত্ব হস্তান্তর নয়, জেলা পরিষদের হেফাজতে থাকা সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি, রেজিস্টার, সিলমোহর এবং অন্যান্য সম্পত্তিও নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে হস্তান্তর করতে বলা হয়েছে। বীরভূমের জেলাশাসক এবং জেলা পরিষদের নির্বাহী আধিকারিককেও এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

## কেন পদ ছাড়লেন কাজল শেখ?

কাজল শেখ প্রশাসনের সামনে জানিয়েছেন, তিনি ব্যক্তিগত কারণে এবং সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। তাঁর উপর কোনও রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক চাপ ছিল না বলেও তিনি দাবি করেছেন। তবে রাজনৈতিক মহলে এই ব্যাখ্যা নিয়েই তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

কারণ, গত কয়েক মাসে বীরভূম জেলা পরিষদকে কেন্দ্র করে একাধিক রাজনৈতিক ঘটনা ঘটেছে। বিধায়ক হওয়ার পর জেলা পরিষদের কাজে কাজল শেখের উপস্থিতি কমে যাওয়া নিয়ে অভিযোগ তুলেছিলেন জেলা পরিষদের একাংশের সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ ছিল, বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকে কাজল শেখ নিয়মিত জেলা পরিষদে আসছিলেন না। ফলে স্থায়ী সমিতির বৈঠক-সহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হচ্ছিল। 

এই পরিস্থিতিতে তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবও জমা পড়ে।

## ৫২ সদস্যের মধ্যে ১৯ জনের অনাস্থা

বীরভূম জেলা পরিষদে মোট ৫২ জন সদস্য রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৯ জন সদস্য কাজল শেখের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবে সই করেছিলেন বলে জানা যায়।

এই ১৯ জন সদস্যের মধ্যে একাধিকজন অনুব্রত মণ্ডল ঘনিষ্ঠ বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। ফলে অনাস্থা প্রস্তাবকে ঘিরে জেলা তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ নিয়েও নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। 

প্রশ্ন উঠেছিল, অনাস্থা প্রস্তাবের মুখে পড়ে কি শেষ পর্যন্ত সভাধিপতির পদ ছাড়তে বাধ্য হবেন কাজল শেখ? সেই জল্পনাই এবার বাস্তবে পরিণত হয়েছে।

তবে প্রশাসনিক শুনানিতে কাজল শেখ নিজে কোনও চাপের কথা স্বীকার করেননি। বরং ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়েই পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।

## বিধায়ক হওয়ার পর বদলেছিল সমীকরণ

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বীরভূমের হাসন বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হন কাজল শেখ। বিধায়ক হওয়ার পর তাঁর রাজনৈতিক দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়। একইসঙ্গে তিনি বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি পদেও ছিলেন।

কিন্তু দুই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব একসঙ্গে সামলানোর ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হয়েছিল বলে জেলা পরিষদের সদস্যদের একাংশ অভিযোগ করেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, বিধায়ক হওয়ার পর জেলা পরিষদের কাজকর্মে কাজল শেখের উপস্থিতি কমে যায়। এর ফলে জেলা পরিষদের বিভিন্ন বৈঠক এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রভাব পড়ছিল। 

অবশেষে অনাস্থা প্রস্তাব সামনে আসার পর তাঁর পদত্যাগ নিয়ে জল্পনা আরও বাড়ে।

## বীরভূমের রাজনীতিতে কাজল শেখের অবস্থান

বীরভূমের রাজনীতিতে কাজল শেখ দীর্ঘদিন ধরেই একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। একসময় তাঁকে অনুব্রত মণ্ডলের বিরোধী শিবিরের নেতা হিসেবে দেখা হত। ২০২৩ সালে অনুব্রত মণ্ডলের অনুপস্থিতির সময়ে কাজল শেখকে বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

তখন থেকেই বীরভূমের রাজনীতিতে তাঁর গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়। জেলা পরিষদের সভাধিপতি হিসেবে তিনি প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন।

তবে অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক সম্পর্ক বরাবরই আলোচনার বিষয় হয়ে থেকেছে।

## তৃণমূল ছেড়ে ‘অন্য তৃণমূলে’ যোগ

সাম্প্রতিক সময়ে কাজল শেখের রাজনৈতিক অবস্থানে আরও বড় পরিবর্তন দেখা যায়। বিধানসভা নির্বাচনে হাসন কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রতীকে জয়ী হওয়ার পরও পরবর্তীতে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেন।

এরপর তিনি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল তৃণমূল’-এর সঙ্গে যুক্ত হন। এই পরিবর্তনের পরও বীরভূমের জেলা রাজনীতিতে তাঁর অবস্থান যে খুব একটা সহজ হয়নি, বর্তমান ঘটনাপ্রবাহে সেই প্রশ্নই উঠছে। 

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, দলবদলের পরেও জেলা রাজনীতির পুরনো সমীকরণ পুরোপুরি বদলায়নি।

## অনুব্রত-কাজল দ্বন্দ্ব কি এখনও প্রভাব ফেলছে?

কাজল শেখের রাজনৈতিক জীবনে অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে সম্পর্ক বরাবরই আলোচিত। দুজনের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধের কথা বীরভূমের রাজনীতিতে বহুবার সামনে এসেছে।

২০২৬ সালের নির্বাচনের পর অবশ্য বীরভূমের রাজনৈতিক সমীকরণে কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছিল। অনুব্রত মণ্ডল এবং কাজল শেখকে একই রাজনৈতিক মঞ্চে দেখা যাওয়ায় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও নতুন আলোচনা শুরু হয়েছিল। 

কিন্তু জেলা পরিষদের ১৯ সদস্যের অনাস্থা প্রস্তাবের মধ্যে অনুব্রত-ঘনিষ্ঠদের উপস্থিতির কথা সামনে আসায় পুরনো দ্বন্দ্বের প্রসঙ্গ ফের আলোচনায় এসেছে।

যদিও কাজল শেখের পদত্যাগের সরকারি কারণ হিসেবে ব্যক্তিগত কারণই উল্লেখ করা হয়েছে। রাজনৈতিক ব্যাখ্যাগুলি এখনও মূলত জল্পনার পর্যায়েই রয়েছে।

## নির্বাচনের পরেও বীরভূমে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিযোগ

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর বীরভূমে তৃণমূলের ফলাফল নিয়েও কাজল শেখ প্রকাশ্যে নানা মন্তব্য করেছিলেন। দলের একাংশকে তিনি নির্বাচনী বিপর্যয়ের জন্য দায়ী করেছিলেন এবং দলের মধ্যে ‘গদ্দার’ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেছিলেন।

তাঁর এই মন্তব্যের পরও বীরভূম তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছিল।

তাই জেলা পরিষদের সভাধিপতির পদ থেকে তাঁর পদত্যাগকে অনেকে বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন।

## অনাস্থা প্রস্তাবের পরেই পদত্যাগ

আগস্টের শুরুতেই কাজল শেখের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব সামনে এসেছিল। ৫২ সদস্যের জেলা পরিষদের ১৯ জন সদস্য তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়ে প্রশাসনের কাছে চিঠি দেন।

অভিযোগ ছিল, বিধায়ক হওয়ার পর তিনি জেলা পরিষদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছেন না এবং অফিসে নিয়মিত উপস্থিত থাকছেন না। এর ফলে জেলা পরিষদের কাজকর্মে সমস্যা তৈরি হচ্ছিল বলে দাবি করেছিলেন অনাস্থা প্রস্তাবকারীরা। 

এরপরই কাজল শেখের পদত্যাগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত ১৯ আগস্ট তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন।

## শুনানিতে কী বললেন কাজল?

পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হয়ে সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছিল।

২০ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের সামনে হাজির হন কাজল শেখ। সেখানে তিনি জানান, নিজের ইচ্ছাতেই সভাধিপতির পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে তাঁর উপর চাপ সৃষ্টি করা হয়নি বলেও তিনি জানান।

তাঁর বক্তব্যে সন্তুষ্ট হওয়ার পর প্রশাসন পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে। ফলে ওই পদে তাঁর দায়িত্ব অবিলম্বে শেষ হয়ে যায়। 

## এরপর জেলা পরিষদের দায়িত্ব কার হাতে?

প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে জেলা পরিষদের সভাধিপতির দায়িত্ব নির্বাহী আধিকারিকের কাছে হস্তান্তর করতে হবে।

এখন নজর থাকবে, বীরভূম জেলা পরিষদের পরবর্তী সভাধিপতি কে হন তার দিকে। নতুন করে নির্বাচন বা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই পদে নতুন মুখ আসবে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

একইসঙ্গে জেলা পরিষদের সদস্যদের মধ্যে রাজনৈতিক সমীকরণও ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

## বীরভূমের রাজনীতিতে কী প্রভাব পড়বে?

কাজল শেখের পদত্যাগ শুধু একটি প্রশাসনিক পদ পরিবর্তনের ঘটনা নয়। কারণ তিনি একইসঙ্গে হাসনের বিধায়ক এবং বীরভূমের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মুখ।

ফলে জেলা পরিষদের সভাধিপতি পদ ছাড়ার সিদ্ধান্তের প্রভাব জেলার রাজনৈতিক সমীকরণেও পড়তে পারে।

বিশেষ করে তৃণমূলের বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে সম্পর্ক, অনুব্রত মণ্ডলের প্রভাব এবং কাজল শেখের নতুন রাজনৈতিক অবস্থান—সবকিছুই আগামী দিনে বীরভূমের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

## সামনে নতুন সমীকরণের সম্ভাবনা

বীরভূমে দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে আলোচনা রয়েছে। অনুব্রত মণ্ডল, কাজল শেখ এবং দলের অন্যান্য নেতাদের ঘিরে একাধিক সময় রাজনৈতিক সমীকরণ বদলেছে।

এখন কাজল শেখ জেলা পরিষদের সভাধিপতি পদ থেকে সরে যাওয়ায় নতুন করে নেতৃত্বের প্রশ্ন সামনে আসবে। জেলা পরিষদের সদস্যদের মধ্যে কার সমর্থন কার দিকে যায়, সেটিও নজরে থাকবে।

তবে আপাতত প্রশাসনিকভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল দায়িত্ব হস্তান্তর এবং জেলা পরিষদের কাজকর্ম স্বাভাবিক রাখা।

## শেষ কথা

বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি পদ থেকে কাজল শেখের পদত্যাগে জেলার রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। ১৯ আগস্ট তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং ২০ আগস্ট প্রশাসনিক শুনানিতে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের কথা জানান। তাঁর উপর কোনও চাপ ছিল না বলেও তিনি স্পষ্ট করেছেন। এরপর বর্ধমান ডিভিশনের ডিভিশনাল কমিশনার তথা নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে। 

তবে এই পদত্যাগের সময়টি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এর আগেই জেলা পরিষদের ৫২ সদস্যের মধ্যে ১৯ জন কাজল শেখের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছিলেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, বিধায়ক হওয়ার পর থেকে তিনি জেলা পরিষদের কাজে নিয়মিত উপস্থিত থাকছেন না এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

এই ১৯ জনের মধ্যে অনুব্রত মণ্ডল ঘনিষ্ঠদের উপস্থিতির কথাও সামনে এসেছে। ফলে কাজল শেখের সঙ্গে অনুব্রত মণ্ডলের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পর্কের সমীকরণও ফের আলোচনায় এসেছে। যদিও প্রশাসনের সামনে কাজল শেখ নিজে কোনও রাজনৈতিক চাপের কথা বলেননি এবং তাঁর পদত্যাগের কারণ হিসেবে ব্যক্তিগত বিষয়ই উল্লেখ করেছেন। 

এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, বীরভূম জেলা পরিষদের পরবর্তী সভাধিপতি কে হবেন এবং এই পরিবর্তন জেলার রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলবে। একইসঙ্গে কাজল শেখ আগামী দিনে বিধায়ক হিসেবে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান কীভাবে ধরে রাখেন, সেদিকেও নজর থাকবে।

Get notified whenever we post something new!

spot_img

Create a website from scratch

Just drag and drop elements in a page to get started with Newspaper Theme.

Continue reading

ঔরঙ্গজেবের আমলের ৩৩৪ বছরের বনেদি পুজোর অমলিন ঐতিহ্য

পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুজোর ইতিহাসে বনেদি পুজোর আলাদা মর্যাদা রয়েছে। সেই ঐতিহ্যের অন্যতম উজ্জ্বল অধ্যায় পূর্ব বর্ধমানের পানাগড়ের সোঁয়াই গ্রামের মুখোপাধ্যায় পরিবারের দুর্গাপুজো। এ বছর এই পুজো ৩৩৪ বছরে পা দিয়েছে। শুধু প্রাচীনত্ব নয়, এই পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে স্বপ্নাদেশ, বর্ধমানের...

বাংলায় পথচলা শুরু বিজয় থলপতির টিভিকের নতুন অধ্যায়

তামিলনাড়ুতে রাজনৈতিক সাফল্যের পর এবার পশ্চিমবঙ্গে সাংগঠনিক বিস্তার শুরু করল বিজয় থলপতি-র দল তামিলাগা ভেট্রি কাজাগম (TVK)। পূর্ব বর্ধমান জেলার ফাগুপুরে দলের প্রথম কার্যালয় খোলার মাধ্যমে বাংলায় আনুষ্ঠানিকভাবে পথচলা শুরু হয়েছে। এই পদক্ষেপের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—তাহলে...

সন্ত্রাসে শীর্ষে পাকিস্তান, হাক্কানির বিস্ফোরক আত্মসমালোচনা ভাইরাল

সন্ত্রাসবাদে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় পাকিস্তানের শীর্ষে উঠে আসার দাবি ঘিরে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিস (IEP)-এর প্রকাশিত Global Terrorism Index 2026-এর তথ্য সামনে আসার পর পাকিস্তানের প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রদূত হুসেন হাক্কানি ইসলামাবাদের দীর্ঘদিনের...

Enjoy exclusive access to all of our content

Get an online subscription and you can unlock any article you come across.