নাগপুর থেকে মিলেছে এক ভয়াবহ খবরে—অমিতাভ বচ্চনের ‘ঝুন্ড’ ছবির একজন সহঅভিনেতা প্রাণ হারালেন সহঅভিনেতা বন্ধুর হাতে। অভিনেতা প্রিয়াংশু (Priyanshu), যার ট্যাগ ছিল বাবু ছেত্রী (Babu Chhetri), মঙ্গলবার রাতে মদ্যপ অবস্থায় তাঁর এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হন। এই তর্ক শেষ পর্যন্ত রক্তক্ষয়ীভাবে বিকশিত হয় এবং গভীর রাতে বাবুকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত বন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
রাত গভীর সময়ই ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। জরিপাটকা এলাকায় অবহেলিত একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে দু’জন মদ্যপ অবস্থায় বসেছিলেন। তখনই তাদের মধ্যে বাকবিতন্ডা শুরু হয়। অভিযোগ, তর্কের এক পর্যায়ে বাবু ছেত্রী গালমন্দ ও হুমকি দেন। এর পর তাঁরা থেমে যান এবং প্রিয়াংশু ঘুমিয়ে পড়েন। ঘুমন্ত অবস্থায়, অভিযুক্ত বন্ধুটি ইলেকট্রিক তার দিয়ে বন্ধ করে তাঁকে আটকে দিয়ে ছুরিকাঘাত করে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
লোকজনের চিৎকারে পুলিশ ও স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পর্ষদহীনভাবে আহত অবস্থায় বাবুকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ শীঘ্রই ধ্রুব (Dhruv Sahu) নামে ২০ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেফতার করে। অভিযোগ, ধ্রুব ও প্রিয়াংশুর মধ্যে পূর্বশত্রুতা ছিল এবং তাদের আগে থেকেই অমিমাংসিত মনোমালিন্য ছিল। রাতে তর্ক সেই পুরনো রুক্ষতা নিয়ে ফের বিক্ষিপ্ত হয়। পুলিশ একটি শ্লেষ্মক হত্যা মামলা (Section 302 IPC) রুজু করেছে এবং ফরেনসিক ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ চলছে।
তারপর থেকেই সারা বলিউডে শোকের ছায়া নেমে আসে। অনেকেই শোক প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুততম সময়ে ন্যায়বিচার দাবি করছেন। “তিনি পরিবর্তন পেতে চেয়েছিলেন,” বলছে পরিবার ও সিনেমা মহল।
প্রিয়াংশু / বাবু ছেত্রী তাঁর সাধারণ জীবন থেকেই উঠে আসা গল্প—যেভাবে ‘ঝুন্ড’ ছবির চরিত্র সীমাবদ্ধতা ও সম্ভাবনা নিয়ে যোগাযোগ করে, ঠিক সেই সন্ধিক্ষণে তাঁর নিজের জীবনেই দুর্ঘটনায় পরিণত হলো।
তার অভিনয় জীবনে ‘ঝুন্ড’ ছবিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। ছবিটি নাগপুরের দর্জি থেকে উঠে আসা যুবকদের ফুটবল দিয়ে নতুন দিশা দেখানোর গল্প। তাঁকে সিনেমাতে তুলে ধরেছিল, গরীব আশেপাশের উদ্যোগে ভরা একটি প্রকল্প। কিন্তু আথর্নিক ও ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায়, বাস্তব জীবনের ইতিহাসটা অনির্ধারিত এক বাঁকে পরিণত হলো।
যদিও প্রাথমিক পুলিশ তৎপরতায় অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তবুও পরিবারের দাবি, পূর্ব পরিকল্পনা বা অন্য সহঅভিযোগীর অংশগ্রহণ থাকতে পারে। তারা বলছেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত হওয়া উচিত।
এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—অভিনয় ও প্রতিভার আড়ালে, ব্যক্তিজীবন ও মানুষের সম্পর্ক কতটা নাজুক এবং সংবেদনশীল হতে পারে। মদ্যপান, পুরনো শত্রুতা ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পর্কের মিশেলে একটি যুবকের জীবন শেষ হয়ে গেল একটি স্থানে যেখানে কোনও প্রত্যাশা ছিল না। এখন সেই জায়গাটি হয়ে উঠলো একটি মর্মান্তিক ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু।
আপাতদৃষ্টিতে, এটি একটি আল্কোহল যুক্ত এবং বন্ধুবেশে সংঘর্ষ থেকে শুরু হওয়া খুন বলে মনে হচ্ছে। তবে পুলিশ এবং তদন্তকারী সংস্থা যথাযথভাবে দৃশ্যতঃ প্রমাণস্বরূপ ছুরি, ইলেকট্রিক তার, চিকিৎসা রিপোর্ট ও ঘনিষ্ঠদের ব্যাখ্যা অনুসন্ধান করছেন।
পরবর্তী দিনগুলোতে আমরা জানতে পারব—এই হিংসার পেছনে আরও কোন গভীর কারণ লুকিয়ে ছিল কি না, ও ন্যায়বিচার কতটা দ্রুত সম্ভব হবে।




