ভারতীয় রেলের প্রিমিয়াম ট্রেনগুলিতে যাত্রীরা সাধারণত উন্নত মানের খাবার ও পরিষেবা পাওয়ার প্রত্যাশা করেন। কিন্তু সেই প্রত্যাশায় বড় ধাক্কা লাগল সম্প্রতি। নয়াদিল্লি থেকে রানি কমলাপতি (ভোপাল)গামী শাতাব্দী এক্সপ্রেসে যাত্রীদের সকালের নাস্তায় মেয়াদোত্তীর্ণ পাউরুটি পরিবেশনের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই দ্রুত পদক্ষেপ করেছে ভারতীয় রেলওয়ে ক্যাটারিং অ্যান্ড ট্যুরিজম কর্পোরেশন (IRCTC)। ঘটনার জন্য দায়ী ক্যাটারিং সংস্থার বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের দায়িত্ব থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
জানা গিয়েছে, ট্রেন নম্বর ১২০০২ নিউ দিল্লি–রানি কমলাপতি শাতাব্দী এক্সপ্রেসে যাত্রীদের ব্রেকফাস্টের সঙ্গে প্যাকেটজাত পাউরুটি দেওয়া হয়। পরে এক যাত্রী পাউরুটির প্যাকেটে ছাপানো ‘Use By’ তারিখ লক্ষ্য করে দেখেন যে সেটির মেয়াদ ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। এরপর অন্যান্য যাত্রীরাও নিজেদের খাবারের প্যাকেট পরীক্ষা করে একই ধরনের অভিযোগ করেন। সূত্রের খবর, অন্তত ৭৪ জন যাত্রীর কাছে ওই মেয়াদোত্তীর্ণ পাউরুটি পৌঁছেছিল এবং তাঁদের মধ্যে অনেকেই বিষয়টি বুঝে ওঠার আগেই সেটি খেয়ে ফেলেছিলেন।
ঘটনার পর একাধিক যাত্রী সামাজিক মাধ্যমে ছবি ও ভিডিও পোস্ট করে ভারতীয় রেল এবং IRCTC-কে ট্যাগ করে অভিযোগ জানান। বিষয়টি দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। যাত্রীরা দাবি করেন, প্রিমিয়াম ট্রেনে এই ধরনের গাফিলতি কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।বিষয়টি সামনে আসতেই IRCTC এক বিবৃতিতে জানায়, ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ক্যাটারিং পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার বিরুদ্ধে মোটা অঙ্কের জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। পাশাপাশি যাঁদের গাফিলতির কারণে এই ঘটনা ঘটেছে, তাঁদের অবিলম্বে পরিষেবা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ভবিষ্যতে কোনও প্যাকেটজাত খাদ্য পরিবেশনের আগে প্রতিটি কর্মীকে বাধ্যতামূলকভাবে উৎপাদনের তারিখ ও মেয়াদ পরীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
IRCTC আরও জানিয়েছে, কীভাবে বিদ্যমান মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্য যাত্রীদের হাতে পৌঁছে গেল, তা খতিয়ে দেখতে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে যদি আরও কোনও গাফিলতির প্রমাণ মেলে, তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত কোনও যাত্রীর অসুস্থ হওয়ার সরকারি খবর পাওয়া যায়নি। তবুও চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্য গ্রহণ করলে পেটের সমস্যা, ফুড পয়জনিং, বমি, ডায়রিয়াসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিতে পারে। তাই যাত্রীদের সর্বদা প্যাকেটজাত খাবারের মেয়াদ পরীক্ষা করে তবেই খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ ভারতীয় রেলের খাবারের উপর নির্ভর করেন। ফলে খাদ্যের গুণমান এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে রাজধানী, বন্দে ভারত ও শাতাব্দী এক্সপ্রেসের মতো প্রিমিয়াম ট্রেনে এই ধরনের ঘটনা যাত্রীদের আস্থায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
রেল যাত্রী সংগঠনগুলিও ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে। তাঁদের মতে, শুধু জরিমানা করলেই হবে না, ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে, তার জন্য নিয়মিত খাদ্য পরীক্ষা, সরবরাহ ব্যবস্থার অডিট এবং ক্যাটারিং কর্মীদের প্রশিক্ষণ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
এই ঘটনার পর ফের একবার ভারতীয় রেলের ক্যাটারিং ব্যবস্থার মান নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে IRCTC দাবি করেছে, যাত্রীদের নিরাপত্তা ও খাদ্যের গুণমান বজায় রাখতে তারা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে এবং তদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


