জম্মু ও কাশ্মীরের বারামুল্লা জঙ্গি হামলা মামলায় বড়সড় সাফল্য পেল ভারতের তদন্তকারী সংস্থা। বহু বছর ধরে পলাতক এক কুখ্যাত জঙ্গির বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের **রেড কর্নার নোটিস (Red Corner Notice)** জারি করানো হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক স্তরে অভিযুক্তকে চিহ্নিত করা, আটক করা এবং ভারতে প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করবে।
জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের **স্টেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (SIA)** জানিয়েছে, ২০১৩ সালে উত্তর কাশ্মীরের বারামুল্লা জেলার হাইগাম-তারজু এলাকায় সংঘটিত জঙ্গি হামলার অন্যতম মূল অভিযুক্ত **ইমতিয়াজ আহমেদ কান্ডু ওরফে ফয়াজ**-এর বিরুদ্ধে এই রেড কর্নার নোটিস জারি করা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন **হিজবুল মুজাহিদিন**-এর সক্রিয় সদস্য ও পরে কমান্ডার হিসেবে কাজ করেছেন।
২০১৩ সালের ওই হামলাটি জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের ওপর অন্যতম ভয়াবহ হামলা হিসেবে বিবেচিত হয়। সেদিন জঙ্গিদের অতর্কিত আক্রমণে চারজন পুলিশকর্মীর মৃত্যু হয়েছিল। দীর্ঘ তদন্তের পর মামলাটি আরও গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে ২০২৪ সালে SIA-র হাতে তুলে দেওয়া হয়। এরপর নতুন প্রমাণ সংগ্রহ করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যায় সংস্থাটি।
তদন্তে উঠে আসে, হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে ইমতিয়াজ কান্ডুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। শুধু এই ঘটনাই নয়, তার বিরুদ্ধে আরও অন্তত দশটি সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত মামলার অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলা, টার্গেট কিলিং, অস্ত্র পাচার এবং সন্ত্রাসে অর্থ জোগানের অভিযোগ। তদন্তকারীদের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই সে পাকিস্তানে পালিয়ে রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
SIA ইতিমধ্যেই এই মামলায় আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছে। মোট ছয়জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল। তদন্ত চলাকালীন দুই অভিযুক্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয় এবং আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বর্তমানে তারা বিচারাধীন। তবে মূল অভিযুক্ত ইমতিয়াজ কান্ডু এখনও অধরা।
তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য, রেড কর্নার নোটিস জারি হওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি অভিযুক্তকে শনাক্ত, আটক এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে পারবে। যদিও রেড কর্নার নোটিস নিজেই গ্রেফতারি পরোয়ানা নয়, তবে এটি আন্তর্জাতিক পুলিশি সহযোগিতার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হয়।
ভারত সরকার ২০২২ সালেই ইমতিয়াজ কান্ডুকে ‘ডিজাইনেটেড ইন্ডিভিজুয়াল টেররিস্ট’ হিসেবে ঘোষণা করেছিল। এরপর থেকেই তাকে আইনের আওতায় আনার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছিল। ইন্টারপোলের এই পদক্ষেপ সেই প্রচেষ্টাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিল বলে মনে করছে নিরাপত্তা মহল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্ত পেরিয়ে পালিয়ে থাকা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো এখন সন্ত্রাস দমনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশল। কারণ, একাধিক দেশ ও সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া আন্তর্জাতিকভাবে পলাতক জঙ্গিদের আইনের মুখোমুখি করা কঠিন হয়ে পড়ে। সেই দিক থেকে এই রেড কর্নার নোটিস ভারতের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য কূটনৈতিক ও তদন্তমূলক সাফল্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের আশা, ইন্টারপোলের সহযোগিতায় অভিযুক্তের গতিবিধি আরও নিবিড়ভাবে নজরদারি করা সম্ভব হবে। ভবিষ্যতে যদি সে কোনও তৃতীয় দেশে প্রবেশ করে, তাহলে সংশ্লিষ্ট দেশের আইন অনুযায়ী তাকে আটক করে ভারতের প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া শুরু করার সম্ভাবনা বাড়বে। ফলে বহু বছরের পুরনো এই জঙ্গি হামলা মামলায় বিচার প্রক্রিয়া আরও এগিয়ে যাওয়ার আশা তৈরি হয়েছে।


