Tuesday, November 3, 2026

Creating liberating content

यूईएम जयपुर ने मानवता...

जयपुर में आयोजित मानवता के लिए दौड़ के दसवें संस्करण में यूनिवर्सिटी ऑफ...

अक्टूबर 2026 में पड़ेंगी...

सनातन हिंदू धर्म में एकादशी तिथि का विशेष धार्मिक महत्व माना जाता है।...

इंफोसिस और विप्रो में...

देश की प्रमुख सूचना प्रौद्योगिकी सेवा कंपनियों में शामिल इंफोसिस और विप्रो के...

स्वर्ग में कर्ण को...

महाभारत के महान योद्धाओं में कर्ण का नाम केवल उनकी वीरता और संघर्ष...
Homeবাংলাবাংলাদেশে গেল ভারতের...

বাংলাদেশে গেল ভারতের সাড়ে তিন লক্ষ কেজি ইলিশ

ইলিশ মাছকে ঘিরে ভারত ও বাংলাদেশের মানুষের আবেগ বহু পুরনো। বিশেষ করে পদ্মার ইলিশের স্বাদ, গন্ধ এবং জনপ্রিয়তা দুই বাংলার খাদ্যসংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে। এতদিন বাংলাদেশ থেকেই ভারতে ইলিশ আসার ঘটনা বেশি আলোচনায় থাকত। কিন্তু এবার সেই বাণিজ্যিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন দেখা গেল। ভারত থেকে বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ ইলিশ রফতানি হয়েছে। মাত্র দুই মাসে বাংলাদেশের বাজারে ঢুকেছে ভারতের ৩ লক্ষ ৫২ হাজার ৭৮৬ কেজি ইলিশ।

বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে এই বিপুল পরিমাণ ইলিশ বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে বলে জানা গিয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম দুই মাস—জুলাই এবং আগস্টে—এই মাছ রফতানি করা হয়। সংশ্লিষ্ট বন্দর ও মৎস্য কোয়ারেন্টাইন দফতরের তথ্য অনুযায়ী, মোট ২২টি বাণিজ্যিক সংস্থা ভারত থেকে বাংলাদেশে ইলিশ পাঠিয়েছে। এই বিপুল রফতানি দুই দেশের মাছের বাজার এবং বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

## জুলাইয়ের তুলনায় আগস্টে রফতানি বেড়েছে

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে ভারত থেকে বাংলাদেশে ইলিশ গিয়েছিল ২৯ হাজার ৪৪০ কেজি। ওই মাসে তিনটি আমদানিকারক সংস্থা মাছ আমদানি করেছিল। জুলাইয়ের চালানের মোট মূল্য ছিল প্রায় ৩৫ লক্ষ ৪৮ হাজার টাকা।

তবে আগস্ট মাসে রফতানির পরিমাণ এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে যায়। ওই মাসে প্রায় ৩ লক্ষ ২৩ হাজার ৩৪৬ কেজি ইলিশ বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। ১৯টি আমদানিকারক সংস্থা এই বিপুল পরিমাণ মাছ আমদানি করে। অর্থাৎ জুলাইয়ের তুলনায় আগস্টে ইলিশের চালান প্রায় ১১ গুণ বেড়েছে।

দুই মাস মিলিয়ে মোট ৩ লক্ষ ৫২ হাজার ৭৮৬ কেজি ইলিশ বাংলাদেশে ঢুকেছে। এই মাছের মোট বাণিজ্যিক মূল্য প্রায় ৬ কোটি ৯২ লক্ষ টাকা বলে জানা গিয়েছে। বেনাপোল বন্দরের মৎস্য কোয়ারেন্টাইন দফতরের নথিতেই এই তথ্য উঠে এসেছে।

## কোন পথে বাংলাদেশে পৌঁছচ্ছে ভারতের ইলিশ?

ভারত থেকে বাংলাদেশে ইলিশ রফতানির ক্ষেত্রে বেনাপোল স্থলবন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের স্থলবাণিজ্যের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার এই বন্দর। বিভিন্ন পণ্যবাহী ট্রাকের মাধ্যমে ইলিশ মাছ বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে। সীমান্ত পেরিয়ে মাছ পৌঁছনোর পর তা বাংলাদেশের বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে।

মাছ আমদানির ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ও খাদ্যনিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলতে হয়। সেই কারণে মৎস্য কোয়ারেন্টাইন দফতরের নজরদারিও থাকে। আমদানি করা মাছের গুণমান, সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং পরিবহণ সংক্রান্ত বিষয়গুলি পরীক্ষা করা হয়। ইলিশের মতো দ্রুত পচনশীল মাছের ক্ষেত্রে সময়মতো পরিবহণ এবং ঠান্ডা সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

## বাংলাদেশে ইলিশের চাহিদা কেন বেশি?

বাংলাদেশের মানুষের খাদ্যাভ্যাসে ইলিশের গুরুত্ব অপরিসীম। ভাতের সঙ্গে ইলিশ ভাজা, সর্ষে ইলিশ, ইলিশের ঝোল, পাতুরি কিংবা ভাপা—বাঙালির রান্নাঘরে ইলিশের নানা পদ জনপ্রিয়। উৎসব, পারিবারিক অনুষ্ঠান এবং বিশেষ ভোজে ইলিশের চাহিদা আরও বেড়ে যায়।

স্থানীয় ইলিশের জোগান কমে গেলে বা দাম বেড়ে গেলে আমদানি করা ইলিশের দিকে ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ে। ভারতীয় ইলিশ তুলনামূলকভাবে বড় আকারের হওয়ায় এবং অনেক ক্ষেত্রে কম দামে বাজারে আসায় তা ক্রেতাদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। তবে আমদানি করা মাছকে স্থানীয় ইলিশের নামে বিক্রি করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও বাংলাদেশে প্রশ্ন উঠেছে।

বাংলাদেশের কয়েকটি বাজারে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের অভিযোগ, ভারত বা অন্য দেশ থেকে আসা ইলিশকে কখনও কখনও ‘পদ্মার ইলিশ’, ‘চাঁদপুরের ইলিশ’ বা ‘বরিশালের ইলিশ’ বলে বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে মাছের প্রকৃত উৎস সম্পর্কে ক্রেতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। যদিও সব ব্যবসায়ী এই অভিযোগের সঙ্গে একমত নন, তবুও বাজারে স্বচ্ছতা বজায় রাখা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

## দামেও বড় পার্থক্য

বাংলাদেশের বাজারে আমদানি করা ইলিশ এবং স্থানীয় ইলিশের দামে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। আমদানি করা মাছের ক্ষেত্রে আমদানি মূল্য, শুল্ক, পরিবহণ খরচ, ব্যাংকিং খরচ এবং অন্যান্য ব্যয় যোগ হয়। এরপরও স্থানীয় ইলিশের তুলনায় কিছু ক্ষেত্রে তা কম দামে বিক্রি হতে পারে।

এই দামের পার্থক্যের কারণে সাধারণ ক্রেতারা আমদানি করা ইলিশের দিকে ঝুঁকছেন। অন্যদিকে স্থানীয় জেলেরা এবং মাছ ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, বাইরে থেকে বড় পরিমাণে ইলিশ এলে স্থানীয় বাজারে তাঁদের বিক্রি কমতে পারে। বিশেষ করে বড় আকারের ইলিশের ক্ষেত্রে আমদানি করা মাছ বাজারে প্রতিযোগিতা তৈরি করছে।

তবে মাছের স্বাদ, গন্ধ এবং গুণমান নিয়ে ক্রেতাদের অভিজ্ঞতা এক নয়। কেউ আমদানি করা ইলিশকে ভালো বলছেন, আবার কেউ রান্নার পর স্থানীয় ইলিশের সঙ্গে পার্থক্য টের পাচ্ছেন বলে দাবি করছেন। ফলে মাছের উৎস, সংরক্ষণ এবং গুণমান সম্পর্কে সঠিক তথ্য দেওয়া প্রয়োজন।

## বদলে যাচ্ছে ভারত-বাংলাদেশের ইলিশ বাণিজ্য

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ইলিশ বাণিজ্যের ইতিহাসে এই ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রফতানি নিয়ে বারবার আলোচনা হয়েছে। দুর্গাপুজোর আগে ভারতে ইলিশ পাঠানো হবে কি না, তা নিয়ে দুই দেশের বাজারে আগ্রহ দেখা যায়। কিন্তু এবার ভারত থেকে বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ ইলিশ যাওয়ার ঘটনা বাণিজ্যের প্রচলিত ধারাকে কিছুটা বদলে দিয়েছে।

বাজারের চাহিদা, উৎপাদনের পরিমাণ, সরকারি অনুমতি, আমদানি-রফতানি নীতি এবং স্থানীয় জোগানের পরিস্থিতি—এই সবকিছুর ওপর ইলিশের বাণিজ্য নির্ভর করে। বাংলাদেশের বাজারে চাহিদা থাকলে ভারতীয় রফতানিকারকরা সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেন। একইসঙ্গে বাংলাদেশি আমদানিকারকরাও তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী দামে মাছ সংগ্রহের সুযোগ পাচ্ছেন।

## ভবিষ্যতে আরও বাড়বে কি রফতানি?

আগামী দিনে ভারত থেকে বাংলাদেশে ইলিশ রফতানি আরও বাড়বে কি না, তা নির্ভর করবে দুই দেশের বাণিজ্যিক নীতি এবং বাজার পরিস্থিতির ওপর। মাছের চাহিদা যদি বজায় থাকে, তাহলে আরও বেশি সংস্থা এই ব্যবসায় যুক্ত হতে পারে। তবে ইলিশের প্রাকৃতিক উৎপাদন, প্রজনন মরশুম এবং মাছ ধরার ওপর সরকারি বিধিনিষেধও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

ইলিশের জোগান বজায় রাখতে নদী ও সমুদ্রের পরিবেশ রক্ষা, ছোট ইলিশ ধরা বন্ধ করা এবং প্রজনন মরশুমে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা প্রয়োজন। শুধু বাণিজ্য বাড়ালেই হবে না, মাছের ভবিষ্যৎ উৎপাদনও সুরক্ষিত রাখতে হবে। তা না হলে অতিরিক্ত চাহিদার কারণে ইলিশের প্রাকৃতিক ভাণ্ডারে চাপ পড়তে পারে।

সব মিলিয়ে, মাত্র দুই মাসে ভারতের ৩ লক্ষ ৫২ হাজার ৭৮৬ কেজি ইলিশ বাংলাদেশে রফতানি হওয়ার ঘটনা দুই দেশের মাছের বাজারে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একদিকে বাংলাদেশের ক্রেতারা নতুন সরবরাহের সুযোগ পাচ্ছেন, অন্যদিকে ভারতীয় রফতানিকারকদের জন্যও তৈরি হচ্ছে নতুন বাজার। তবে এই বাণিজ্য কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে, তা সময়ই বলবে।

Get notified whenever we post something new!

spot_img

Create a website from scratch

Just drag and drop elements in a page to get started with Newspaper Theme.

Continue reading

ঔরঙ্গজেবের আমলের ৩৩৪ বছরের বনেদি পুজোর অমলিন ঐতিহ্য

পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুজোর ইতিহাসে বনেদি পুজোর আলাদা মর্যাদা রয়েছে। সেই ঐতিহ্যের অন্যতম উজ্জ্বল অধ্যায় পূর্ব বর্ধমানের পানাগড়ের সোঁয়াই গ্রামের মুখোপাধ্যায় পরিবারের দুর্গাপুজো। এ বছর এই পুজো ৩৩৪ বছরে পা দিয়েছে। শুধু প্রাচীনত্ব নয়, এই পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে স্বপ্নাদেশ, বর্ধমানের...

বাংলায় পথচলা শুরু বিজয় থলপতির টিভিকের নতুন অধ্যায়

তামিলনাড়ুতে রাজনৈতিক সাফল্যের পর এবার পশ্চিমবঙ্গে সাংগঠনিক বিস্তার শুরু করল বিজয় থলপতি-র দল তামিলাগা ভেট্রি কাজাগম (TVK)। পূর্ব বর্ধমান জেলার ফাগুপুরে দলের প্রথম কার্যালয় খোলার মাধ্যমে বাংলায় আনুষ্ঠানিকভাবে পথচলা শুরু হয়েছে। এই পদক্ষেপের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—তাহলে...

সন্ত্রাসে শীর্ষে পাকিস্তান, হাক্কানির বিস্ফোরক আত্মসমালোচনা ভাইরাল

সন্ত্রাসবাদে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় পাকিস্তানের শীর্ষে উঠে আসার দাবি ঘিরে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিস (IEP)-এর প্রকাশিত Global Terrorism Index 2026-এর তথ্য সামনে আসার পর পাকিস্তানের প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রদূত হুসেন হাক্কানি ইসলামাবাদের দীর্ঘদিনের...

Enjoy exclusive access to all of our content

Get an online subscription and you can unlock any article you come across.