ভারত এবং ফ্রান্স তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গিয়ে এটিকে ‘বিশেষ বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্বে’ উন্নীত করেছে। মঙ্গলবার মুম্বাইতে অনুষ্ঠিত এক দীর্ঘ ও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রঁ এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সামরিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার ব্যাপারে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন।
এই বৈঠক শুধু কূটনৈতিক সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল না, বরং দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বৈঠকে যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র, হেলিকপ্টার নির্মাণ থেকে শুরু করে সামরিক ও বেসামরিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে একাধিক চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে।
হেলিকপ্টার অ্যাসেম্বলি কারখানার উদ্বোধন
এই সফরের অন্যতম বড় আকর্ষণ ছিল ভারতের কর্ণাটক রাজ্যে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন হেলিকপ্টার অ্যাসেম্বলি কারখানার উদ্বোধন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ভারত তার নিজস্ব প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে সক্ষম হবে এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগ আরও গতি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ফ্রান্সের প্রযুক্তিগত সহায়তায় এই কারখানা ভবিষ্যতে ভারতের জন্য সামরিক হেলিকপ্টার উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।
২০টিরও বেশি চুক্তি চূড়ান্ত
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁর এই সফর চলাকালীন ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে সামরিক এবং বেসামরিক ক্ষেত্রে ২০টিরও বেশি চুক্তিসম্পন্ন হয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো ফ্রান্সের উন্নত প্রযুক্তিসম্পন্ন ‘হ্যামার’ (HAMMER) ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণে যৌথ উদ্যোগ।
এই ক্ষেপণাস্ত্র আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর এবং এটি ভারতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে।
রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার নতুন চুক্তি
চুক্তিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হলো ভারতের পক্ষ থেকে ১১৪টি নতুন রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তি। রাফাল ইতোমধ্যেই ভারতীয় বিমানবাহিনীর অন্যতম শক্তিশালী যুদ্ধবিমান হিসেবে পরিচিত। নতুন এই চুক্তির ফলে ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা আরও মজবুত হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
মুম্বাই বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতি
মুম্বাইয়ের রাজ্যপাল আবাস ‘লোকভবন’-এ দীর্ঘ আলোচনার পর প্রধানমন্ত্রী মোদী ও প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁ যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন।
প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, ফ্রান্স ভারতের অন্যতম প্রাচীন ও বিশ্বাসযোগ্য কৌশলগত অংশীদার। ম্যাক্রঁর নেতৃত্বে সেই সম্পর্ক আরও গভীর ও বিস্তৃত হয়েছে।
অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁ বলেন, ভারত ও ফ্রান্স শুধু প্রতিরক্ষা নয়, বরং প্রযুক্তি, জলবায়ু, বাণিজ্য এবং ভবিষ্যতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো ক্ষেত্রেও একসঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।
দিল্লিতে AI সম্মেলনে অংশগ্রহণ
তিন দিনের সরকারি সফরে সোমবার রাতে মুম্বাইতে সস্ত্রীক পৌঁছান প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁ। সফরের পরবর্তী দুই দিন তিনি দিল্লিতে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো একটি আন্তর্জাতিক **কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) শীর্ষ সম্মেলনে যোগদান।
এই সফর ভারতের সঙ্গে ফ্রান্সের সম্পর্ককে সামরিক, প্রযুক্তিগত এবং বৈশ্বিক কৌশলগত স্তরে আরও সুদৃঢ় করবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।




