Friday, March 6, 2026
Google search engine
Homeবাংলামধ্যপ্রদেশে স্বামী কর্তৃক স্ত্রী খুন: Facebook Live-এ দায় স্বীকারে দেশজুড়ে চাঞ্চল্য

মধ্যপ্রদেশে স্বামী কর্তৃক স্ত্রী খুন: Facebook Live-এ দায় স্বীকারে দেশজুড়ে চাঞ্চল্য

মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে (Madhya Pradesh Gwalior) ঘটেছে এক spine-chilling ঘটনা, যা ইতিমধ্যেই সারা দেশে আলোড়ন তুলেছে। দিনের আলোয় ব্যস্ত বাজারের ভিড় জমা এলাকায় স্ত্রীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করলেন স্থানীয় কন্ট্রাক্টর অরবিন্দ পরিহার (Arvind Parihar)। এরপর ঠান্ডা মাথায় মৃতদেহের পাশে বসেই ফেসবুক লাইভে নিজের অপরাধ স্বীকার করে নিলেন তিনি। এই ভয়ঙ্কর হত্যাকাণ্ড (Husband Shoots Wife Dead) ঘটেছে গোয়ালিয়রের ক্যাপ্টেন রূপ সিং স্টেডিয়ামের (Captain Roop Singh Stadium Shooting) কাছে। ঘটনার ভয়াবহ ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ, আতঙ্ক এবং নিন্দার ঝড় উঠেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হঠাৎই ভিড়ের মধ্যে স্ত্রী নন্দিনী পরিহারের (Nandini Parihar) পথ আটকে দেয় অরবিন্দ। তারপর কোনওরকম দ্বিধা না করে কাছ থেকে একের পর এক চার রাউন্ড গুলি চালায়। গুলি সরাসরি মাথা ও মুখে লাগায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় নন্দিনীর। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা গিয়েছে, অরবিন্দ পরপর দু’বার স্ত্রীর মাথায় গুলি চালায়। এমন নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড দেখে আঁতকে উঠেছে সাধারণ মানুষ।

সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকে খুন

অরবিন্দ ও নন্দিনীর প্রেমের সম্পর্কের পর আর্য সমাজ মন্দিরে বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু বিবাহের অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সম্পর্কে ফাটল ধরে। আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবিচ্ছেদ না হলেও তারা আলাদা থাকতে শুরু করেন। নন্দিনী গোয়ালিয়রের সিরোল এলাকায় আলাদা থাকতেন। সূত্রের খবর অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার নন্দিনী পুলিশের এক শীর্ষকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছিলেন।

সেই অভিযোগে নন্দিনী জানান, অরবিন্দ আসলে ইতিমধ্যেই বিবাহিত এবং তার সন্তানও রয়েছে। কিন্তু বিষয়টি লুকিয়েই সে নন্দিনীকে বিয়ে করে। শুধু তাই নয়, মাসের পর মাস ধরে তাকে হেনস্থা, প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া, এমনকি ভুয়ো অশ্লীল ছবি ও ভিডিও ছড়ানোর মতো ভয়ঙ্কর অভিযোগও করেছিলেন নন্দিনী।

আগেও জেল খেটেছিল অভিযুক্ত

অভিযোগে আরও উল্লেখ ছিল যে, একবার অরবিন্দ নন্দিনীর ছেলে ও মায়ের উপর ইচ্ছাকৃতভাবে গাড়ি চালিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করেছিল। সেই ঘটনার পরই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে এবং জেলও হয়েছিল তার। তবে সম্প্রতি মীমাংসার নামে জামিনে মুক্তি পায় সে।

খুনের পর ফেসবুক লাইভে স্বীকারোক্তি

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দিক হল, স্ত্রীর খুন করার পর অরবিন্দ নন্দিনীর দেহের পাশে বসে ফেসবুক লাইভ চালু করে। সেখানে সে নিজের কর্মকাণ্ডের সাফাই দিতে থাকে এবং নন্দিনীর এক কথিত ‘প্রেমিকের’ বিরুদ্ধে পালানোর অভিযোগ তোলে। তার এই ভিডিও আরও বেশি ক্ষোভ উস্কে দিয়েছে জনমনে।

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছোলেও অরবিন্দ আত্মসমর্পণ করতে অস্বীকার করে। শেষমেশ টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে তাকে কাবু করা হয়। বর্তমানে সে পুলিশ হেফাজতে জেলবন্দি। ময়নাতদন্ত রিপোর্টে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, নন্দিনী একাধিক গুলির আঘাতেই মারা গেছেন। অরবিন্দের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ তার কাছে পাওয়া অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের উৎসও খতিয়ে দেখছে।

অন্যদিকে, নিহত নন্দিনীর পরিবার ক্ষোভ উগরে দিয়ে অভিযোগ তুলেছে যে, কয়েকদিন আগে অভিযোগ দায়ের করার পরও পুলিশ যদি যথাযথ সুরক্ষা দিত, তবে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড এড়ানো যেত।

এই ভয়ঙ্কর ঘটনা শুধু গোয়ালিয়র নয়, গোটা দেশকেই নাড়িয়ে দিয়েছে। একদিকে সম্পর্কের জটিলতা, অন্যদিকে পুলিশি উদাসীনতা— সব মিলিয়ে এক তরুণী প্রাণ হারালেন নিজের স্বামীর হাতে। এই নৃশংসতা সমাজের কাছে স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে, গার্হস্থ্য হিংসা এবং মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে সময়মতো পদক্ষেপ না হলে তার পরিণতি হতে পারে ভয়ঙ্কর।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular