মা হওয়ার পর ক্যাটরিনা কাইফের শারীরিক পরিবর্তন নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে নানা ধরনের মন্তব্য। অভিনেত্রীর সাম্প্রতিক কয়েকটি ছবি ও ভিডিও সামনে আসার পর তাঁর ওজন নিয়ে কটাক্ষ করেছেন নেটিজেনদের একাংশ। এমনকী কেউ কেউ দাবি করেছেন, মাতৃত্বের পর নাকি ক্যাটরিনার আগের মতো ‘গ্ল্যামার’ নেই এবং তাঁর কেরিয়ারও শেষের পথে। এই ধরনের মন্তব্যের মধ্যেই ক্যাটরিনা কাইফের পাশে দাঁড়ালেন তাঁর প্রাক্তন সহ-অভিনেতা হৃতিক রোশন। তবে সরাসরি কোনও মন্তব্য না করে একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ‘লাইক’ দিয়ে নিজের সমর্থন জানিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি মুম্বইয়ে আম্বানি পরিবারের গণেশ চতুর্থীর অনুষ্ঠানে স্বামী ভিকি কৌশলের সঙ্গে দেখা যায় ক্যাটরিনা কাইফকে। সেই অনুষ্ঠানের ছবি এবং ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পরই অভিনেত্রীর শরীর নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে তাঁর প্রসব-পরবর্তী ওজন নিয়ে একাংশের মন্তব্য ঘিরে তৈরি হয় বিতর্ক। অনেকেই অবশ্য এই ধরনের মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন এবং ক্যাটরিনার পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, সন্তান জন্মের পর একজন নারীর শরীরে স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন পরিবর্তন আসতে পারে এবং তা নিয়ে প্রকাশ্যে কটাক্ষ করা অপ্রয়োজনীয়।
এই বিতর্কের মধ্যেই হর্ষবীর জৈন নামে এক সোশ্যাল মিডিয়া ক্রিয়েটর ক্যাটরিনার সমর্থনে একটি পোস্ট করেন। পোস্টটিতে তিনি নিজের কৈশোরের স্মৃতির কথা তুলে ধরে জানান, ক্যাটরিনার অভিনয় ও জনপ্রিয়তার প্রতি তাঁর দীর্ঘদিনের আগ্রহ ছিল। ক্যাটরিনাকে নিয়ে বিভিন্ন সিনেমা দেখার পাশাপাশি তাঁর ছবি ও সিনেমার পোস্টার সংগ্রহ করার কথাও লেখেন তিনি। এরপর অভিনেত্রীর বর্তমান শারীরিক পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে তাঁকে ‘কেরিয়ার শেষ’ বলে কটাক্ষ করা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
ওই পোস্টের দ্বিতীয় অংশে আরও সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়ায় বডি শেমিংয়ের প্রবণতার সমালোচনা করা হয়। সেখানে বলা হয়, ক্যাটরিনা একজন মা এবং তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের পাশাপাশি পেশাগত জীবনেও সাফল্য রয়েছে। তাই তাঁর শরীর বা ওজন নিয়ে বাইরের মানুষের মন্তব্য তাঁর জীবনের মূল্য নির্ধারণ করতে পারে না। একইসঙ্গে, এই ধরনের মন্তব্য অন্য নারীদের কাছেও নেতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিতে পারে বলে পোস্টটিতে উল্লেখ করা হয়।
এই পোস্টেই এবার নজর কেড়েছে হৃতিক রোশনের প্রতিক্রিয়া। হৃতিক পোস্টটিতে লাইক করেছেন। তিনি অবশ্য সেখানে কোনও মন্তব্য করেননি এবং সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোলারদের উদ্দেশে কোনও বক্তব্যও দেননি। তবে ক্যাটরিনার সমর্থনে লেখা পোস্টে তাঁর লাইককে অভিনেত্রীর পাশে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। একাধিক সংবাদমাধ্যমও বিষয়টি এভাবেই প্রতিবেদন করেছে।
হৃতিক রোশন এবং ক্যাটরিনা কাইফ এর আগে একাধিক জনপ্রিয় ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেছেন। ‘জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা’ এবং ‘ব্যাং ব্যাং’-এর মতো ছবিতে তাঁদের জুটি দর্শকদের নজর কেড়েছিল। ফলে দীর্ঘদিনের সহকর্মীর এই সোশ্যাল মিডিয়া প্রতিক্রিয়া নিয়েও অনুরাগীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও হৃতিক নিজে তাঁর লাইক নিয়ে আলাদা করে কোনও বক্তব্য দেননি।
এদিকে ক্যাটরিনা কাইফের সাম্প্রতিক শারীরিক পরিবর্তন নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি তাঁর কেরিয়ার নিয়েও সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা জল্পনা চলছে। ২০২১ সালে ভিকি কৌশলের সঙ্গে বিয়ের পর এবং পরবর্তী সময়ে মাতৃত্বের পর থেকে অভিনেত্রীর পর্দায় উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কমেছে। ‘মেরি ক্রিসমাস’-এর পর তাঁকে নতুন কোনও ছবিতে এখনও দেখা যায়নি বলে সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে কবে তিনি আবার বড়পর্দায় ফিরবেন, তা নিয়েও অনুরাগীদের মধ্যে আগ্রহ রয়েছে।
তবে কোনও অভিনেতা বা অভিনেত্রীর সাম্প্রতিক ছবিতে শারীরিক পরিবর্তন দেখা গেলেই তাঁর কেরিয়ার সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাওয়া ঠিক কি না, সেই প্রশ্নও নতুন করে উঠেছে। বিশেষ করে মাতৃত্বের পর শরীরের পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে কোনও নারী তারকার উপর যে ধরনের সামাজিক চাপ তৈরি হয়, এই ঘটনাটি সেই বিতর্ককেই সামনে এনেছে। ক্যাটরিনাকে সমর্থন করে ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক পোস্ট দেখা যাচ্ছে। অভিনেত্রী শ্রদ্ধা আর্য এবং আরও কয়েকজনও এই ধরনের মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন বলে সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে।
পুরো ঘটনাকে ঘিরে আপাতত ক্যাটরিনা কাইফের নিজের কোনও দীর্ঘ প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। অন্যদিকে হৃতিক রোশনের পক্ষ থেকেও সরাসরি কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। ফলে তাঁর লাইককেই আপাতত এই বিতর্কে তাঁর প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে। ঘটনাটি আবারও দেখিয়ে দিল, তারকাদের ব্যক্তিগত ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্যে আসার পর তাঁদের চেহারা, পোশাক কিংবা শরীর নিয়ে মন্তব্য কত দ্রুত বৃহত্তর আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
ক্যাটরিনার ক্ষেত্রে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু এখন তাঁর ওজন নয়, বরং সেই ওজনকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া মন্তব্য এবং তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। আর সেই পরিস্থিতিতেই হৃতিক রোশনের একটি লাইক নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ভবিষ্যতে ক্যাটরিনা কবে এবং কোন ছবির মাধ্যমে বড়পর্দায় ফিরবেন, সেটিই এখন তাঁর অনুরাগীদের আগ্রহের অন্যতম বিষয়।


