বর্ষা আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, **১৯ জুলাই** দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে। কোথাও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি, আবার কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের পার্বত্য ও সংলগ্ন জেলাগুলির জন্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলাতেও বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD)।
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় দিনভর আকাশ আংশিক থেকে সম্পূর্ণ মেঘলা থাকতে পারে। দুপুর বা বিকেলের দিকে বজ্রবিদ্যুৎসহ মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও দমকা হাওয়াও বইতে পারে। তবে বৃষ্টির মাঝেও আর্দ্রতার কারণে ভ্যাপসা গরমের অস্বস্তি বজায় থাকতে পারে।
উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে আরও সক্রিয়। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার-সহ একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় টানা বর্ষণের জেরে ভূমিধস, নদীর জলস্তর বৃদ্ধি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। তাই স্থানীয় প্রশাসন এবং আবহাওয়া দফতর প্রয়োজন ছাড়া পাহাড়ি এলাকায় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প প্রবেশ করায় এবং মৌসুমি অক্ষরেখা সক্রিয় থাকায় রাজ্যের উপর বৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে আগামী কয়েকদিনও দক্ষিণবঙ্গে বিক্ষিপ্ত বজ্রবৃষ্টি এবং উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টির প্রবণতা বজায় থাকতে পারে।
কলকাতায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় **৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস** এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা প্রায় **২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস** থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আকাশ মেঘলা থাকলেও দিনের বিভিন্ন সময়ে বৃষ্টি হতে পারে। সোমবার থেকে সপ্তাহজুড়েও কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় মাঝেমধ্যে বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি বৃষ্টি আমন ধানের চাষের জন্য উপকারী হলেও অতিবৃষ্টির কারণে নিচু জমিতে জল জমে গেলে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতেও দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মৎস্যজীবীদের সমুদ্রযাত্রার আগে আবহাওয়ার সর্বশেষ বুলেটিন দেখে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। উপকূলবর্তী এলাকায় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় **৩৫ থেকে ৪৫ কিলোমিটার**, দমকায় **৫৫ কিলোমিটার** পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে, বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গায় না থাকতে এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি ও নদী সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে, **১৯ জুলাই** পশ্চিমবঙ্গজুড়ে বর্ষার সক্রিয় প্রভাব বজায় থাকবে। দক্ষিণবঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে। তাই আবহাওয়ার আপডেট নিয়মিত নজরে রাখা এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিচ্ছেন আবহাওয়াবিদরা।


