উত্তরাখণ্ডের (Uttarakhand) দেরাদুনে (Dehradun Flash Flood) ফের প্রকৃতির তাণ্ডব।
সোমবার মাঝরাত থেকে শুরু হওয়া মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে রাতারাতি ফুলে ওঠে তমসা, সরস্রধারা ও চন্দ্রভাগা নদী। হঠাৎ শুরু হওয়া এই ভয়াবহ বন্যা মুহূর্তের মধ্যে গ্রাস করে নেয় দোকানপাট, ঘরবাড়ি, সেতু থেকে শুরু করে জনপথ—সবকিছু। ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে সবচেয়ে করুণ চিত্র সামনে আসে যখন ১০ জন শ্রমিক প্রাণ বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টা করেও মৃত্যুর মুখে চলে যান।
# মাঝ নদীতে আটকে পড়ে শ্রমিকদের শেষ লড়াই
সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই শ্রমিকরা কয়লা খনির কাজের জন্য দেরাদুন এলাকায় এসেছিলেন। সোমবার গভীর রাতে ট্রাক্টর-ট্রলি নিয়ে তাঁরা পালওয়াল টস নদীর কাছে পৌঁছন। কিন্তু হঠাৎ প্রবল বন্যায় নদীর স্রোত এতটাই তীব্র হয়ে ওঠে যে তাঁরা মাঝ নদীতে আটকে পড়েন। কয়েক মিনিট ধরে তাঁরা বাঁচার জন্য চিৎকার করতে থাকেন, সাহায্যের আর্তি জানান আশেপাশের গ্রামবাসীদের। কিন্তু খরস্রোতা নদী পেরিয়ে কারও পক্ষেই সেই মুহূর্তে তাঁদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
# ভাইরাল ভিডিয়োতে ধরা পড়ল মৃত্যুর দৃশ্য
ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিয়োতে দেখা যায়, নদীর মাঝখানে দাঁড়িয়ে শ্রমিকরা হাত নেড়ে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু ক্রমশ ফুলতে থাকা নদীর জলে মুহূর্তের মধ্যে ট্রাক্টর-ট্রলি উল্টে যায়। একে একে ১০ জন শ্রমিকই ভেসে যান তীব্র স্রোতের সঙ্গে। কিছুক্ষণের মধ্যেই শ্রমিকদের আর্তনাদ স্তব্ধ হয়ে যায়। এই ভিডিও ঘিরে গোটা দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।# প্রশাসনের তরফে উদ্ধারের চেষ্টা ব্যর্থ
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, খবর পেয়ে প্রশাসন ও SDRF দল ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। কিন্তু রাতের অন্ধকারে খরস্রোতা নদীর মধ্যে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারের জন্য কার্যত কোনও পথই খোলা ছিল না। উদ্ধারকারী দল বারবার চেষ্টা করেও শ্রমিকদের কাছে পৌঁছতে পারেনি। শেষমেশ, তাঁদের প্রাণ রক্ষা সম্ভব হয়নি।
# প্রকৃতির রোষে বিপর্যস্ত দেরাদুন
মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে শুধু শ্রমিক মৃত্যুই নয়, দেরাদুনের একাধিক এলাকায় বাড়িঘর ভেসে গেছে, রাস্তা ভেঙে পড়েছে। তমসা, সরস্রধারা, চন্দ্রভাগা নদীর জল রাতারাতি আশপাশের গ্রামে ঢুকে পড়ে। বহু পরিবার ঘরছাড়া হয়েছে। প্রশাসন ইতিমধ্যেই নিরাপদ জায়গায় মানুষদের সরানোর উদ্যোগ শুরু করেছে।
# শোকবার্তা ও ক্ষোভ
এই দুর্ঘটনা ঘিরে স্থানীয় মানুষদের মধ্যে ক্ষোভও বাড়ছে। তাঁদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত সতর্কবার্তা আগে দেওয়া হয়নি। ফলে রাতারাতি বন্যার কবলে পড়ে প্রাণ গেল বহু মানুষের। অন্যদিকে, মৃত শ্রমিকদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। সরকার জানিয়েছে, নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে এবং উদ্ধারকাজ অব্যাহত থাকবে।




