দেশজুড়ে এলপিজি (LPG) গ্রাহকদের জন্য জারি হয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, ৩০ জুন ২০২৬-এর মধ্যে নির্ধারিত eKYC বা ইলেকট্রনিক নো-ইওর-কাস্টমার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করলে ১ জুলাই থেকে বহু গ্রাহক এলপিজি ভর্তুকির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। ফলে যারা এখনও এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করেননি, তাঁদের দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
গত কয়েক মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি পড়েছে ভারতের গ্যাস বাজারেও। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে অপরিশোধিত তেল এবং রান্নার গ্যাসের আন্তর্জাতিক মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর ফলে গৃহস্থালির এলপিজি সিলিন্ডারের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সাধারণ ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মাসিক বাজেটে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছে।
এই পরিস্থিতিতে এলপিজি ভর্তুকি অনেক পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সহায়তা হিসেবে কাজ করছে। কিন্তু সরকার এখন ভর্তুকি ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে চাইছে। সেই কারণেই প্রকৃত ও যোগ্য গ্রাহকদের চিহ্নিত করতে eKYC এবং আধারভিত্তিক যাচাইকরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা (PMUY)-এর সুবিধাভোগী এবং ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT)-এর আওতাভুক্ত গ্রাহকদের অবশ্যই ৩০ জুনের মধ্যে বায়োমেট্রিক আধার যাচাইকরণ সম্পন্ন করতে হবে। অন্যথায় তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ভর্তুকির অর্থ জমা হওয়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হল ভুয়ো বা একাধিক এলপিজি সংযোগ শনাক্ত করা এবং প্রকৃত গ্রাহকদের কাছে সরকারি ভর্তুকি পৌঁছে দেওয়া। দীর্ঘদিন ধরেই ভর্তুকি ব্যবস্থায় অনিয়ম ও জাল সংযোগের অভিযোগ উঠছিল। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে সেই সমস্যাগুলি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে মনে করছে সরকার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল যাচাইকরণ ব্যবস্থা চালু হওয়ায় গ্রাহকদের আর গ্যাস এজেন্সিতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হবে না। এখন বাড়িতে বসেই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে eKYC সম্পন্ন করা সম্ভব। এর ফলে সময় যেমন বাঁচবে, তেমনি প্রক্রিয়াটিও হবে আরও সহজ ও দ্রুত।
অনলাইনে LPG eKYC করার পদ্ধতি
গ্রাহকরা খুব সহজেই কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করে নিজেদের eKYC সম্পন্ন করতে পারবেন।
প্রথমে নিজের গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থার অফিসিয়াল মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করতে হবে। ইন্ডেন, ভারত গ্যাস বা এইচপি গ্যাস— যে সংস্থার গ্রাহক, সেই সংস্থার অ্যাপ ব্যবহার করতে হবে।
এরপর মোবাইল নম্বর দিয়ে লগইন অথবা নতুন করে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। লগইন সম্পন্ন হলে ক্যাশ মেমো বা গ্যাস বুকিং রসিদে উল্লেখিত ১৬ সংখ্যার LPG ID নম্বরটি অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।
তারপর অ্যাপের হোম স্ক্রিন থেকে ‘My Profile’ অপশনে যেতে হবে। সেখানে ‘LPG Details’ অথবা ‘Consumer Details’ বিভাগে প্রবেশ করলে eKYC সংক্রান্ত অপশন দেখা যাবে।
পরবর্তী ধাপে সমস্ত নির্দেশিকা ও শর্তাবলী ভালোভাবে পড়ে নিতে হবে। এরপর ‘Face Scan’ বা বায়োমেট্রিক যাচাইকরণ অপশনে ক্লিক করে আধারের সঙ্গে মিলিয়ে মুখের পরিচয় যাচাই করতে হবে।
যাচাইকরণ সফল হলে eKYC আবেদনটি সাবমিট করতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার পর গ্রাহক একটি কনফার্মেশন মেসেজ বা রেফারেন্স নম্বর পাবেন, যা ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করে রাখা উচিত।
সরকারের তরফে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, ৩০ জুনের সময়সীমা অতিক্রম করার পর যেসব গ্রাহকের eKYC সম্পূর্ণ থাকবে না, তাঁদের ক্ষেত্রে ভর্তুকি সংক্রান্ত সুবিধা স্থগিত হতে পারে। তাই শেষ মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা না করে দ্রুত যাচাইকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এলপিজি গ্রাহকদের জন্য এটি শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ভবিষ্যতে ভর্তুকির সুবিধা অব্যাহত রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। ফলে সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই সকল গ্রাহকের eKYC সম্পন্ন করা উচিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।


