পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলায় বড় পদক্ষেপের ঘোষণা করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বন সপ্তাহ (Forest Week) ২০২৬ উপলক্ষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যজুড়ে **১০ কোটি গাছের চারা রোপণের লক্ষ্যমাত্রা** নির্ধারণের কথা ঘোষণা করেছেন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে শুধু বৃক্ষরোপণই নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে গাছগুলির পরিচর্যা, সংরক্ষণ এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উপরও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন সরকারি উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় এই সবুজ অভিযানকে পরিবেশ রক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা, বায়ুদূষণ এবং বনাঞ্চল হ্রাসের মতো সমস্যার মোকাবিলায় বৃহৎ পরিসরে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। তাই বন সপ্তাহ উপলক্ষে সরকারি দফতর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পঞ্চায়েত, পুরসভা এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে এই কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রাজ্য সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, শুধুমাত্র শহরাঞ্চল নয়, গ্রামাঞ্চল, রাস্তার ধারের খালি জমি, নদী ও খালের পাড়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি অফিস চত্বর এবং বিভিন্ন সামাজিক বনায়ন প্রকল্পেও ব্যাপক হারে গাছ লাগানো হবে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পিতভাবে এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে আগামী কয়েক বছরে রাজ্যের সবুজ আচ্ছাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।
মুখ্যমন্ত্রী সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়ে বলেন, একটি গাছ শুধু অক্সিজেনই দেয় না, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ পরিবেশও নিশ্চিত করে। তাই প্রত্যেক নাগরিককে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর পাশাপাশি তার নিয়মিত পরিচর্যার দায়িত্বও গ্রহণ করতে হবে। বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার ওপরও তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই কর্মসূচিতে বন দফতরের পাশাপাশি কৃষি, শিক্ষা, পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন, নগর উন্নয়ন এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক দফতর একযোগে কাজ করবে। কোথায় কোন প্রজাতির গাছ লাগানো হবে, সেই বিষয়েও বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা গ্রহণের কথা জানানো হয়েছে। স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দেশীয় প্রজাতির গাছ লাগানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু গাছ লাগানোই যথেষ্ট নয়, চারাগাছ বেঁচে থাকা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে অনেক ক্ষেত্রেই বৃক্ষরোপণের পর পরিচর্যার অভাবে গাছ নষ্ট হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার রোপিত গাছের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থাও জোরদার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরকারও অন্তত দুই বছর ধরে চারাগুলির পরিচর্যার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাপপ্রবাহ, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার মতো সমস্যা দিন দিন বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে বড় আকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি কার্বন শোষণ, মাটির ক্ষয় রোধ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং বায়ুর মান উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা।
স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যেও পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তুলতে বিশেষ কর্মসূচির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ অভিযান, পরিবেশ বিষয়ক আলোচনা, সচেতনতা শিবির এবং প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হতে পারে। এর ফলে নতুন প্রজন্মের মধ্যে প্রকৃতি সংরক্ষণের গুরুত্ব আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকারের এই উদ্যোগে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, সামাজিক প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রশাসনের আশা, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনসাধারণের সক্রিয় সহযোগিতা মিললে রাজ্যের সবুজায়ন কর্মসূচি আরও সফল হবে এবং পরিবেশ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এটি একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।


