বহুবিবাহ রোধে আরও কঠোর অবস্থান নিল অসম সরকার। রাজ্যের বাজেটে এমন একাধিক প্রস্তাব ঘোষণা করা হয়েছে, যার ফলে বহুবিবাহে জড়িত সরকারি কর্মীদের চাকরি হারানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি, আইনের আওতায় দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের বিভিন্ন সরকারি কল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা থেকেও বঞ্চিত করার প্রস্তাব সামনে এসেছে। এই পদক্ষেপকে সামাজিক সংস্কার এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরেছে রাজ্য সরকার।
অসমের অর্থমন্ত্রী রাজ্য বিধানসভায় বাজেট পেশ করার সময় জানান, সরকারি কর্মচারীরা যদি বহুবিবাহে জড়িত বলে প্রমাণিত হন, তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে চাকরি থেকেও বরখাস্ত করা হতে পারে। একই সঙ্গে সরকারি কল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রেও নতুন যোগ্যতার শর্ত যুক্ত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাও এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে বলেন, সরকার এমন একটি প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় যেখানে আইন মেনে চলা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যারা বহুবিবাহের মতো অপরাধে জড়িত থাকবেন, তাঁরা সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য বলে বিবেচিত হতে পারেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ২০২৫ সালে অসম বিধানসভায় **Assam Prohibition of Polygamy Bill, 2025** পাস হয়। এই আইনের লক্ষ্য ছিল একাধিক বিবাহের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিবাহ সংক্রান্ত প্রতারণা বা তথ্য গোপনের ঘটনাকে কঠিন শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা। আইন অনুযায়ী, প্রথম বিবাহ আইনিভাবে শেষ না করে দ্বিতীয় বিয়ে করলে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং গুরুতর প্রতারণার ক্ষেত্রে আরও বেশি শাস্তির ব্যবস্থাও রয়েছে।
সরকারের দাবি, এই আইন শুধুমাত্র শাস্তিমূলক নয়, বরং সমাজে নারী-পুরুষের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং পারিবারিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার উদ্দেশ্যেও আনা হয়েছে। বহুবিবাহের কারণে বহু ক্ষেত্রে নারীরা আর্থিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। সেই বাস্তবতা বিবেচনা করেই এই কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনের বক্তব্য।
তবে বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং কয়েকজন আইন বিশেষজ্ঞের একাংশ এই প্রস্তাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের মতে, সরকারি চাকরি বা সরকারি প্রকল্পের সুবিধা কেড়ে নেওয়ার মতো শাস্তি কতটা সংবিধানসম্মত, তা আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত আইন ও মৌলিক অধিকারের প্রশ্নও উঠে আসছে। অন্যদিকে, সরকারের দাবি—এই নীতি আইনগত কাঠামোর মধ্যেই কার্যকর করা হবে এবং সমস্ত প্রক্রিয়া যথাযথ তদন্ত ও বিচারিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই সম্পন্ন হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অসম সরকার দীর্ঘদিন ধরেই বহুবিবাহের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে আসছে। নতুন বাজেট ঘোষণার মাধ্যমে সেই নীতিকেই আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। আগামী দিনে সরকারি পরিষেবায় নিয়োগ, শৃঙ্খলাবিধি এবং বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্পের ক্ষেত্রে এই নীতির প্রভাব পড়তে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।
এখন নজর থাকবে এই প্রস্তাবগুলি কীভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং সংশ্লিষ্ট আইনি সংশোধনগুলি কবে থেকে কার্যকর হয়। কারণ সরকারি চাকরি ও সরকারি সুবিধার সঙ্গে এই নতুন বিধিনিষেধ যুক্ত হলে তা প্রশাসনিক ও সামাজিক—দুই ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।


