পার্ক সার্কাসের নামী শপিং মলের পাশে আবর্জনার স্তূপ দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। বৃহস্পতিবার পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্ট ক্রসিং এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে রাস্তার দু’পাশে ছড়িয়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা দেখে রীতিমতো ক্ষুব্ধ হন তিনি। এরপরই পুরসভার কর্মীদের ডেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
নামী শপিং মলের ভিতরে ঝাঁ চকচকে পরিবেশ, অথচ তার পাশেই রাস্তার ধারে জমে রয়েছে আবর্জনার স্তূপ—এই বৈপরীত্যই মন্ত্রীর নজর কাড়ে। অগ্নিমিত্রা পালের নির্দেশে ওই এলাকায় একাধিক বড় ওয়েস্টবিন বসানোর ব্যবস্থা করা হয়। একই সঙ্গে দ্রুত গোটা এলাকা পরিষ্কার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
## শপিং মলের পাশে এমন জঞ্জাল দেখে ক্ষুব্ধ মন্ত্রী
পার্ক সার্কাসের ওই এলাকায় রয়েছে একটি নামী শপিং মল। বিদেশি ব্র্যান্ডের বিভিন্ন সামগ্রী কেনার জন্য শহরের বহু মানুষ সেখানে যান। ফলে এলাকার সৌন্দর্য এবং পরিচ্ছন্নতা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যাশা থাকে।
কিন্তু মলের ঠিক পাশেই রাস্তার উপর যত্রতত্র পড়ে ছিল ময়লা। কোথাও আবর্জনার স্তূপ, কোথাও আবার রাস্তার উপর ছড়িয়ে থাকা নোংরা। এই পরিস্থিতি দেখে অগ্নিমিত্রা পাল ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
মন্ত্রীর বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল—একদিকে শহরের সৌন্দর্যায়ন করা হচ্ছে, অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকার পাশেই যদি আবর্জনা পড়ে থাকে, তাহলে সেই উদ্যোগের উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হয়।
## সঙ্গে সঙ্গে বসানো হল বড় ডাস্টবিন
পরিস্থিতি দেখেই অপেক্ষা করেননি পুরমন্ত্রী। ঘটনাস্থলেই পুরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের ডেকে নেন তিনি।
অগ্নিমিত্রার নির্দেশে পার্ক সার্কাসের ওই এলাকায় বেশ কয়েকটি বড় ডাস্টবিন বসানোর ব্যবস্থা করা হয়। তাঁর নির্দেশ, পর্যাপ্ত সংখ্যক ওয়েস্টবিন রাখতে হবে যাতে মানুষ রাস্তার উপর ময়লা না ফেলেন।
একই সঙ্গে পুরসভার জঞ্জাল বিভাগের কর্মীদের দ্রুত ওই এলাকা পরিষ্কার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
## অপরিচ্ছন্ন থাকলে মোটা জরিমানার হুঁশিয়ারি
শুধু ডাস্টবিন বসানো বা আবর্জনা পরিষ্কার করেই বিষয়টি শেষ করতে চান না অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, এরপরেও যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে রাস্তায় ময়লা ফেলেন কিংবা এলাকার পরিচ্ছন্নতা নষ্ট করেন, তাহলে জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে।
অপরিচ্ছন্নতার কারণে শহরের সৌন্দর্য নষ্ট হলে প্রশাসন কড়া ব্যবস্থা নেবে বলেও বার্তা দিয়েছেন তিনি।
## পার্ক সার্কাসে মন্ত্রীর সরেজমিন পরিদর্শন
বৃহস্পতিবার পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্ট ক্রসিং এলাকায় সরেজমিনে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে যান অগ্নিমিত্রা পাল। শুধু অফিসে বসে রিপোর্টের উপর নির্ভর না করে কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় নিজে গিয়ে পরিস্থিতি দেখছেন তিনি।
এর আগেও কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত, পার্কিং, জল জমার সমস্যা এবং জবরদখল নিয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন পুরমন্ত্রী।
## পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি ফুটপাত নিয়েও নজর
অগ্নিমিত্রা পাল পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রকের দায়িত্ব নেওয়ার পর কলকাতার বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা নিয়ে একাধিকবার মাঠে নেমেছেন। শহর পরিচ্ছন্ন রাখা, ফুটপাত দখলমুক্ত করা, বেআইনি পার্কিং এবং রাস্তার উপর নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখার মতো বিষয়েও কড়া অবস্থান নিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি পার্ক স্ট্রিট এলাকাতেও তাঁর পরিদর্শনের পর কয়েকটি জায়গা থেকে হকারদের সরিয়ে ফুটপাতের একটা বড় অংশ পথচারীদের জন্য খালি করা হয়।
## রাস্তা দখল ও আবর্জনা—দুই সমস্যাতেই কড়া মনোভাব
কলকাতার নাগরিক জীবনে ফুটপাত দখল এবং রাস্তার উপর আবর্জনা ফেলা—দুটি বড় সমস্যা। একদিকে পথচারীদের চলাচলের জায়গা কমে যায়, অন্যদিকে আবর্জনার কারণে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অগ্নিমিত্রা পাল দু’টি বিষয়েই প্রশাসনিকভাবে সক্রিয় হওয়ার বার্তা দিয়েছেন। এর আগে পার্ক স্ট্রিটে হকারদের ফুটপাত ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পর কিছু জায়গা দ্রুত খালি হয়েছিল।
## শুধু কলকাতা নয়, রাজ্যের অন্যান্য শহরেও নজর
পুরমন্ত্রীর দপ্তরের কাজের পরিধি শুধু কলকাতায় সীমাবদ্ধ নয়। রাজ্যের অন্যান্য বড় শহর এবং পুর এলাকাতেও নাগরিক পরিষেবা খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
পরিচ্ছন্নতা, নিকাশি, জল জমা, ফুটপাত এবং বেআইনি দখল—এই ধরনের সমস্যাগুলিকে গুরুত্ব দিয়ে সরেজমিনে পরিস্থিতি দেখার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
## রাস্তা নোংরা করলে এবার জরিমানা?
পার্ক সার্কাসের ঘটনা থেকে আরও একটি বিষয় স্পষ্ট—শহরের রাস্তায় যত্রতত্র ময়লা ফেলার বিরুদ্ধে প্রশাসন এবার আরও কড়া হতে চাইছে।
রাজ্যের পুর এলাকাগুলিতে রাস্তায় আবর্জনা ফেলার জন্য জরিমানার ব্যবস্থাও চালুর উদ্যোগ রয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর থেকে পুর এলাকাগুলিতে বিদ্যমান আইনের আওতায় রাস্তায় ময়লা ফেলার ক্ষেত্রে জরিমানা কার্যকর করার পরিকল্পনার কথা আগে জানানো হয়েছিল।
অর্থাৎ, শুধু পুরসভা পরিষ্কার করবে—এমন ধারণার বদলে নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল করার চেষ্টা চলছে।
## পরিচ্ছন্ন কলকাতার লক্ষ্যে নতুন উদ্যোগ
এর আগে রাজ্যে ‘Swacch App’ চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট পুর এলাকায় নাগরিকরা ছবি তুলে পরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত অভিযোগ জানাতে পারবেন, যাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারে।
এই ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগের সঙ্গে মাঠপর্যায়ে মন্ত্রী ও পুরকর্তাদের সরেজমিনে নজরদারি যুক্ত হলে শহরের পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থায় কতটা পরিবর্তন আসে, এখন সেটাই দেখার।
## মন্ত্রীর বার্তা কতটা কার্যকর হয়?
পার্ক সার্কাসে ডাস্টবিন বসানোর নির্দেশ এবং দ্রুত পরিষ্কারের নির্দেশ অবশ্যই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এলাকা পরিষ্কার রাখতে নিয়মিত বর্জ্য সংগ্রহ, পর্যাপ্ত ডাস্টবিন এবং নাগরিক সচেতনতা—তিনটিই গুরুত্বপূর্ণ।
শুধু একদিন পরিষ্কার করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। নিয়মিত নজরদারি এবং নিয়ম ভাঙলে জরিমানা কার্যকর করাই হতে পারে স্থায়ী সমাধানের পথ।
## শেষ কথা
পার্ক সার্কাসের নামী শপিং মলের পাশে আবর্জনার স্তূপ দেখে বৃহস্পতিবার ক্ষুব্ধ হন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। সরেজমিনে পরিস্থিতি দেখে তিনি পুরসভার কর্মীদের ডেকে বেশ কয়েকটি বড় ডাস্টবিন বসানোর নির্দেশ দেন। পাশাপাশি দ্রুত ওই এলাকা পরিষ্কার করার নির্দেশও দেন।
অপরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে শহরের সৌন্দর্য নষ্ট করলে মোটা অঙ্কের জরিমানা করা হতে পারে বলেও কড়া বার্তা দিয়েছেন মন্ত্রী। ফলে পার্ক সার্কাসের এই ঘটনা কলকাতার পরিচ্ছন্নতা এবং নাগরিক দায়িত্ব নিয়ে ফের নতুন করে আলোচনার জন্ম দিল।


