পিন ফাঁসের নতুন ফাঁদ! এটিএমে থার্মাল স্ক্যানারে চুরি হচ্ছে অ্যাকাউন্ট
দিনে দিনে মানুষের জীবনযাত্রা যেমন ডিজিটাল হচ্ছে, তেমনই বাড়ছে সাইবার প্রতারণার নতুন কৌশল। ব্যাংকের ভিড় এড়িয়ে আজকাল বেশিরভাগ মানুষ এটিএম (ATM) থেকে টাকা তোলাকেই বেশি সুবিধাজনক মনে করেন। কিন্তু সেই আরামদায়ক যন্ত্রই আজকাল বহু গ্রাহকের কাছে দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কারণ, প্রতারকেরা এখন এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন যা দিয়ে মুহূর্তের মধ্যে আপনার **গোপন PIN ফাঁস** হয়ে যাচ্ছে।
নতুন প্রতারণার কৌশল: থার্মাল স্ক্যান ও এআই
পুলিশ এই প্রতারণার নাম দিয়েছে ‘হিট সিগনেচার ক্রাইম’ (Heat Signature Crime)। এর প্রক্রিয়াটি খুবই চতুর। গ্রাহক এটিএম থেকে টাকা তোলার পর প্রতারকেরা একটি বিশেষ ইনফ্রারেড স্ক্যানার ব্যবহার করছেন। এটি কিপ্যাডে রাখা মাত্রই দেখা যায় কোন কোন বোতামে গ্রাহক আঙুল চাপিয়েছেন। কারণ, আঙুলের তাপে কিপ্যাডে যে থার্মাল ইমেজ তৈরি হয় তা সহজেই ধরা পড়ে।
এই ইমেজ থেকেই প্রতারকেরা বুঝে নিচ্ছেন কোন চারটি সংখ্যা ব্যবহার হয়েছে পিন হিসেবে। শুধু তাই নয়, তারা এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে সম্ভাব্য পিনের সঠিক ক্রম বের করে নিচ্ছেন। যদিও শুধুমাত্র চারটি নম্বর জানা থাকলে সঠিক পিন মেলানো সহজ নয়, তবুও এআই-এর অ্যালগরিদম সেই কাজকে অনেকটা সহজ করে তুলছে।
কিভাবে টাকা গায়েব হচ্ছে?
প্রথমে প্রতারকেরা স্কিমার মেশিন ব্যবহার করে গ্রাহকের ডেবিট কার্ডের তথ্য কপি করেন। এরপর থার্মাল স্ক্যান থেকে প্রাপ্ত সংখ্যাগুলো ব্যবহার করে পিন জেনারেট করেন। ফলে হাতে আসে কার্ড নম্বর ও পিন—যার সাহায্যে সহজেই গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
সম্প্রতি দক্ষিণ কলকাতার গড়ফা থানায় এমন এক ঘটনায় প্রবীণ এক গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে লক্ষাধিক টাকা উধাও হয়ে যায়। তদন্তকারীরা ইতিমধ্যেই একজনকে গ্রেফতার করেছেন এবং তার কাছ থেকে এই থার্মাল স্ক্যানার উদ্ধার করা হয়েছে।
কেন রক্ষীবিহীন এটিএম টার্গেট?
সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতারকেরা সাধারণত রক্ষীবিহীন এটিএম বেছে নেন। কারণ সেখানে নজরদারি তুলনামূলকভাবে কম থাকে এবং সহজে স্কিমার বা থার্মাল স্ক্যানার বসানো যায়। শহর এবং মফস্বলের অনেক ছোট এটিএম বুথ এভাবে টার্গেটে পরিণত হচ্ছে।
প্রতিরোধের উপায়
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু সহজ নিয়ম মেনে চললেই এই ধরনের প্রতারণা থেকে নিজেকে রক্ষা করা সম্ভব—
1. লেনদেন শেষে পিন কিপ্যাডে হাত ঘষে দিন – এতে থার্মাল ইমেজ মুছে যাবে।
2.গার্ডবিহীন এটিএম এড়িয়ে চলুন।
3. বারবার ভুল পিন দিলে অ্যাকাউন্ট ব্লক হবে, তাই সন্দেহজনক অবস্থায় তৎক্ষণাৎ ব্যাংক বা সাইবার ক্রাইম সেলে অভিযোগ জানান।
4. এটিএম ব্যবহার শেষে ব্যাংক থেকে SMS বা অ্যাপ নোটিফিকেশন চেক করুন।
5. অজানা কল বা মেসেজে আপনার পিন বা OTP শেয়ার করবেন না।
সরকারের উদ্যোগ
ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকার সমস্ত রাজ্যের সাইবার বিভাগকে এই প্রতারণা নিয়ে সচেতনতা প্রচার করার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টালে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে।
উপসংহার
ডিজিটাল যুগে সুবিধার সঙ্গে ঝুঁকিও বাড়ছে। এটিএম এখন শুধু টাকা তোলার মাধ্যম নয়, বরং প্রতারকের চোখে এটি একটি ডিজিটাল ফাঁদ। তাই সচেতন থাকাই একমাত্র সমাধান।




