চলচ্চিত্র জগতের জনপ্রিয় দুই অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী (Mimi Chakraborty) এবং উর্বশী রাউতেলা (Urvashi Rautela)-র উপর নেমে এসেছে বড়সড় ঝড়। অবৈধ বেটিং অ্যাপ ১এক্সবেট (1XBet) প্রচার ও ব্র্যান্ডিংয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে তাদের তলব করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর দিল্লির ইডি সদর দফতরে হাজিরা দেবেন মিমি, আর ১৬ সেপ্টেম্বর হাজিরা দেবেন উর্বশী।
বর্তমানে পুজো উপলক্ষে নিজের নতুন ছবি ‘রক্তবীজ ২’ (Raktabeej 2)-এর প্রচার নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন মিমি। মুক্তির আগে প্রচারণার কাজে টলিপাড়ার বিভিন্ন প্রোগ্রামে যোগ দিচ্ছেন তিনি। সেই ব্যস্ততার মধ্যেই এই তলব নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা। প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ মিমি চক্রবর্তী ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক জীবন থেকে সরে এসে অভিনয়ে মনোনিবেশ করেছেন। এবার নতুন করে ইডির ডাক তাঁকে অস্বস্তির মুখে ফেলতে পারে।
অন্যদিকে বলিউড অভিনেত্রী উর্বশী রাউতেলাও (Urvashi Rautela) এই কাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন। তাঁকে এর আগেও ইডি তলব করেছিল, কিন্তু তিনি হাজিরা দেননি। এবার আদালতের নির্দেশে তাঁকে হাজিরা দিতে বাধ্য করা হয়েছে। ফলে নজর থাকবে তিনি এবার আদৌ এড়িয়ে যান কি না।
কেন ইডির নজরে মিমি ও উর্বশী?
ইডি সূত্রে খবর, অবৈধভাবে চলা ১এক্সবেট বেটিং অ্যাপ ভারতজুড়ে প্রচারের জন্য আঞ্চলিক এবং বলিউড সেলিব্রিটিদের ব্যবহার করা হয়েছিল। একাধিক তারকা সোশ্যাল মিডিয়া ও বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ওই অ্যাপের প্রচারে যুক্ত ছিলেন। এর ফলে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগকারী সাধারণ মানুষ ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অভিযোগ, এই প্রচার এবং ব্র্যান্ডিংয়ে অংশ নিয়েছিলেন মিমি ও উর্বশীও। তাই তদন্তের স্বার্থে তাঁদের হাজিরা অপরিহার্য।
বড়সড় বিপদে মিমি চক্রবর্তী
টলিউডে একের পর এক হিট সিনেমা উপহার দেওয়া মিমির জন্য এটি একটি বড়সড় অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। কারণ তিনি এখন নতুন ছবি মুক্তি নিয়ে ব্যস্ত। ‘রক্তবীজ ২’ তাঁর ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্ট বলে ধরা হচ্ছে। মুক্তির আগে এই ধরনের বিতর্ক সামনে আসা সিনেমার প্রচারে প্রভাব ফেলতে পারে। তাছাড়া, রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ছেড়ে আবার অভিনয়ে ফেরা মিমির জন্য এটি এক অনাকাঙ্ক্ষিত বাধা।
উর্বশী রাউতেলার পরিস্থিতি
উর্বশী রাউতেলা বলিউডের অন্যতম আলোচিত মুখ। তিনি আগে থেকেই বিজ্ঞাপন এবং ব্র্যান্ডিং জগতের পরিচিত নাম। তবে ১এক্সবেট প্রচারে যুক্ত থাকার অভিযোগে তাঁর ইমেজেও বড়সড় ধাক্কা লাগতে পারে। আদালতের নির্দেশ মানা ছাড়া তাঁর আর কোনও উপায় নেই।
এখন সবার চোখ দিল্লির ইডি দফতরে
১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর দু’দিন পরপর এই দুই অভিনেত্রী হাজিরা দেবেন কিনা, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। তাঁরা যদি হাজিরা দেন, তবে জিজ্ঞাসাবাদের পর ইডির হাতে আরও তথ্য আসতে পারে। আর হাজিরা এড়ানোর চেষ্টা করলে, আইনি জটিলতা আরও বাড়তে পারে।




