এশিয়া কাপ ২০২৫ (Asia Cup 2025)-এর গ্রুপ পর্বে আবুধাবির ঝলমলে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ বনাম শ্রীলঙ্কা (Bangladesh vs Sri Lanka) ম্যাচে বাজিমাত করল লঙ্কানরা। তাদের দ্বিতীয় ম্যাচে অসাধারণ ব্যাটিং-বোলিং পারফরম্যান্সের জোরে চারিথ আসালাঙ্কার নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কা ৬ উইকেটে সহজ জয় পেল। এর ফলে সুপার ফোরে ওঠা নিয়ে লিটন দাসের (Litton Das) দলের পথ আরও কঠিন হয়ে গেল।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ ভয়াবহ শুরু করে। ম্যাচের প্রথম ওভারেই দুই ওপেনার তানজিদ হাসান (Tanzid Hasan) এবং পারভেজ হোসেন ইমন (Parvez Hossain Emon) শূন্য রানে সাজঘরে ফিরে যান। দলের স্কোর তখন ০/২। চাপ আরও বেড়ে যায় যখন তোহিদ হৃদয় (Towhid Hridoy) ৮ রান করেই রান আউট হন। মাত্র ১১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান হয়ে পড়ে নাজুক।
পরিস্থিতি সামাল দিতে নেমেছিলেন অধিনায়ক লিটন দাস। তিনিও শুরুটা ভালো করলেও ২৬ বলে ২৮ রানের বেশি এগোতে পারেননি। মেহেদি হাসান মিরাজও ব্যর্থ হয়ে ৯ রানে ফেরেন। তবে সপ্তম উইকেট জুটিতে লড়াইয়ের কিছুটা স্বাদ দিলেন জাকের আলি অনিক (Zakir Ali Anik) ও শামিম হোসেন (Shamim Hossain)। তারা দু’জন মিলে গড়েন ৮৬ রানের অবিচ্ছিন্ন পার্টনারশিপ। জাকের অপরাজিত থাকেন ৪১ রানে এবং শামিমও দারুণ খেলেন ৪২ রানে। এই জুটির সুবাদেই বাংলাদেশ ২০ ওভারে সংগ্রহ দাঁড় করায় ১৩৯/৬।
শ্রীলঙ্কার হয়ে বোলিং আক্রমণে সেরা ছিলেন তারকা স্পিনার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা (Wanindu Hasaranga)। তিনি ৪ ওভারে মাত্র ২৫ রান দিয়ে তুলে নেন ২টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। মিস্ট্রি স্পিনে বাংলাদেশি ব্যাটাররা একেবারেই বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুর ধাক্কা খেল শ্রীলঙ্কা। মুস্তাফিজুর রহমান (Mustafizur Rahman)-এর নিখুঁত ডেলিভারিতে কুশল মেন্ডিস (Kusal Mendis) মাত্র ৩ রানে আউট হয়ে যান। তবে ওপেনার পাথুম নিসাঙ্কা (Pathum Nissanka) ঝড়ো ইনিংসে দলের হাল ধরেন। মাত্র ৩৪ বলে তিনি অর্ধশতক (৫০ রান) পূর্ণ করেন। তার সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে জুটি বাঁধেন কামিল মিশ্র (Kamil Mishra)।
এই দুই ব্যাটারের পার্টনারশিপই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ৫২ বলে ৯৫ রানের দারুণ জুটিতে কার্যত বাংলাদেশের হাত থেকে ম্যাচ বেরিয়ে যায়। নিসাঙ্কা আউট হলেও, কামিল মিশ্র ৩২ বলে অপরাজিত ৪৬ রান করে জয় নিশ্চিত করেন। শেষের দিকে কুশল পেরেরা (৯) ও দাসুন শনকা (১) সস্তায় আউট হলেও শ্রীলঙ্কার জয় থামানো যায়নি। তারা মাত্র ১৪.৪ ওভারে ১৪০ রানের লক্ষ্য অতিক্রম করে ৬ উইকেটের সহজ জয় তুলে নেয়।
এই জয়ে লঙ্কান শিবিরে এখন আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে। তাদের সুপার ফোরে ওঠা প্রায় নিশ্চিত বলা যায়। অন্যদিকে, বাংলাদেশের সামনে এখন কঠিন সমীকরণ। আফগানিস্তানের (Afghanistan) বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচ জিতলেও তারা নির্ভর করবে শ্রীলঙ্কা বনাম আফগানিস্তান ম্যাচের ফলাফলের উপর। অর্থাৎ লিটন দাসদের ভাগ্য এখন আর নিজেদের হাতে নেই।
বাংলাদেশি সমর্থকদের জন্য হতাশার বিষয় হল—ম্যাচে ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং—সব বিভাগেই দলটি পিছিয়ে পড়েছে। শুরুতে ব্যাটিং ব্যর্থতা, মাঝের ওভারে দ্রুত উইকেট পতন, আর ফিল্ডিংয়ে অনিয়মিত ক্যাচ মিস—সব মিলিয়ে পরাজয় অনিবার্য হয়ে ওঠে। শ্রীলঙ্কার পক্ষে নিসাঙ্কা ও হাসারাঙ্গা যথার্থ নায়ক।
এখন দেখার বিষয়, মঙ্গলবার আফগানদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ কেমন লড়াই করে। সেই ম্যাচই নির্ধারণ করবে তারা এবারের এশিয়া কাপে সুপার ফোরে পৌঁছতে পারবে কি না।




