ভারতীয় ক্রিকেটে উদীয়মান তারকা **বৈভব সূর্যবংশী**কে নিয়ে ফের শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। অল্প বয়সেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নজরকাড়া পারফরম্যান্স করে তিনি ভবিষ্যতের অন্যতম বড় প্রতিভা হিসেবে উঠে এসেছেন। তবে প্রাক্তন ভারতীয় অফ-স্পিনার **রবিচন্দ্রন অশ্বিন** মনে করছেন, **২০২৭ সালের একদিনের বিশ্বকাপের (ODI World Cup)** মতো বড় মঞ্চে খেলার জন্য বৈভব এখনও পুরোপুরি প্রস্তুত নন।
দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবোয়ে এবং নামিবিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৭ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে সম্প্রতি নিজের সম্ভাব্য ভারতীয় স্কোয়াড নিয়ে মত প্রকাশ করেন অশ্বিন। সেখানে তিনি শুভমন গিল, রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি, শ্রেয়স আইয়ার, লোকেশ রাহুল, ঈশান কিষাণ, হার্দিক পান্ডিয়া, অক্ষর প্যাটেল, কুলদীপ যাদব, যশপ্রীত বুমরা, মহম্মদ সিরাজ, হর্ষিত রানা এবং ভুবনেশ্বর কুমারের মতো ক্রিকেটারদের জায়গা দিলেও বৈভব সূর্যবংশীর নাম রাখেননি।
অশ্বিনের মতে, বৈভব অসাধারণ প্রতিভাবান হলেও একদিনের ক্রিকেটের মতো দীর্ঘ ফরম্যাটে সফল হতে হলে আরও অভিজ্ঞতা অর্জন করা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে পারফরম্যান্স করা, বিভিন্ন পরিস্থিতিতে ব্যাটিং করা এবং বড় ম্যাচের চাপ সামলানোর অভিজ্ঞতা অর্জনের পরই তাঁকে বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে বিবেচনা করা উচিত।
যদিও সাম্প্রতিক সময়ে বৈভব নিজের প্রতিভার প্রমাণ দিয়েছেন। ইংল্যান্ড সফরে প্রত্যাশামতো পারফরম্যান্স করতে না পারলেও জিম্বাবোয়ে সফরে তিনি দুরন্ত প্রত্যাবর্তন করেন। সেই সিরিজে অসাধারণ ব্যাটিংয়ের সুবাদে তিনি **টি-টোয়েন্টি সিরিজের সেরা খেলোয়াড়** নির্বাচিত হন এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করেন। এই পারফরম্যান্সের পর অনেক প্রাক্তন ক্রিকেটারই তাঁকে দ্রুত ভারতীয় ওডিআই দলে সুযোগ দেওয়ার পক্ষে মত দেন।
তবে অশ্বিনের মত কিছুটা আলাদা। তিনি মনে করেন, তরুণ ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো না করে ধাপে ধাপে এগোনোই সঠিক পথ। প্রথমে টি-টোয়েন্টিতে নিয়মিত সুযোগ, এরপর একদিনের ক্রিকেট এবং পরবর্তীতে টেস্ট—এই স্বাভাবিক অগ্রগতির মধ্য দিয়েই একজন ব্যাটারের পূর্ণ বিকাশ সম্ভব। তাঁর মতে, এতে দীর্ঘমেয়াদে ভারতীয় ক্রিকেটই লাভবান হবে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, বৈভব ইতিমধ্যেই ভারত ‘এ’ দলের হয়ে ৫০ ওভারের ক্রিকেটে নিজের সামর্থ্যের পরিচয় দিয়েছেন। এছাড়া অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়েও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলে তিনি নির্বাচকদের নজর কেড়েছেন। ফলে ভবিষ্যতে ভারতীয় ওডিআই দলে তাঁর সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল বলেই মনে করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, অশ্বিনের মন্তব্য সমালোচনা নয়, বরং একজন তরুণ ক্রিকেটারের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের কথা মাথায় রেখেই করা। সম্প্রতি বৈভবকে নিয়ে করা নিজের আগের মন্তব্য নিয়েও অশ্বিন স্পষ্ট করেছিলেন যে, তিনি কখনওই তরুণ ব্যাটারকে ছোট করতে চাননি; বরং অভিজ্ঞতা অর্জনের গুরুত্বই তুলে ধরতে চেয়েছিলেন।
এদিকে ২০২৭ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ভারতের সম্ভাব্য স্কোয়াড নিয়ে আলোচনা এখন থেকেই শুরু হয়ে গেছে। আগামী এক বছরে ক্রিকেটারদের ফর্ম, ফিটনেস এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই শেষ পর্যন্ত দল নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সেই কারণে বৈভব সূর্যবংশীর সামনেও এখনও পর্যাপ্ত সময় রয়েছে নিজের যোগ্যতা আরও দৃঢ়ভাবে প্রমাণ করার।
সব মিলিয়ে, **রবিচন্দ্রন অশ্বিনের মতে বৈভব সূর্যবংশী ভবিষ্যতের অন্যতম বড় তারকা হলেও ২০২৭ সালের ওডিআই বিশ্বকাপের জন্য এখনও পুরোপুরি প্রস্তুত নন।** তবে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ও অভিজ্ঞতা অর্জনের মাধ্যমে আগামী দিনে ভারতীয় দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে ওঠার সম্ভাবনা তাঁর সামনে উন্মুক্ত রয়েছে।



