কলকাতা ও হাওড়ার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা **বিদ্যাসাগর সেতু (দ্বিতীয় হুগলি সেতু)** ব্যবহারকারী যাত্রীদের জন্য বড় আপডেট। **সেতুর সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজের জন্য রবিবার (২ আগস্ট) টানা ৮ ঘণ্টা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে বিদ্যাসাগর সেতু।** এই সময় কোনও ধরনের যানবাহন সেতুর উপর দিয়ে চলাচল করতে পারবে না বলে জানিয়েছে কলকাতা পুলিশ।
সরকারি ট্রাফিক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, **সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত** বিদ্যাসাগর সেতুতে যান চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। এই সময়ে সেতুর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মেরামতি ও প্রযুক্তিগত কাজ সম্পন্ন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে **হোল্ডিং-ডাউন কেবল, স্টে কেবল এবং বিভিন্ন বেয়ারিং প্রতিস্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ**, যা সেতুর দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও স্থায়িত্বের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
হুগলি নদীর উপর নির্মিত এই কেবল-স্টেড সেতুটি প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহনের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। দীর্ঘদিনের ব্যবহার এবং অবকাঠামোগত নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য ধাপে ধাপে সংস্কারের কাজ চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের মেরামতি সময়মতো না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই সাধারণ মানুষের সাময়িক অসুবিধা হলেও নিরাপত্তার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, সেতু বন্ধ থাকাকালীন যানজট এড়াতে **বিকল্প রুট** ব্যবহার করতে হবে। হাওড়া ও কলকাতামুখী যানবাহনকে মূলত **হাওড়া ব্রিজ (রবীন্দ্র সেতু)** এবং **নিবেদিতা সেতু** দিয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হবে। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
যাঁদের এই সময় শালিমার, সাঁতরাগাছি বা হাওড়া স্টেশন থেকে ট্রেন ধরার পরিকল্পনা রয়েছে, তাঁদের নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই বাড়ি থেকে বের হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। কারণ বিকল্প রুটে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার ফলে যাত্রার সময় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি লাগতে পারে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরেই বিদ্যাসাগর সেতুর ধাপে ধাপে সংস্কার চলছে। সেতুর স্টে কেবল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ প্রতিস্থাপনের জন্য বিভিন্ন সপ্তাহান্তে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ রাখা হচ্ছে। হুগলি রিভার ব্রিজ কমিশনার্স (HRBC)-এর তত্ত্বাবধানে এই বৃহৎ রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতেও সেতুটি নিরাপদভাবে ব্যবহার করা যায়।
পরিবহণ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্প আন্তর্জাতিক মানের সেতুগুলির ক্ষেত্রেও নিয়মিতভাবে করা হয়। বিদ্যাসাগর সেতু ১৯৯২ সালে চালু হওয়ার পর এটি প্রথম বড় পরিসরের কেবল প্রতিস্থাপন প্রকল্পগুলির একটি। ফলে কাজটি অত্যন্ত প্রযুক্তিনির্ভর এবং সময়সাপেক্সা |
ধারণ যাত্রীদের জন্য প্রশাসনের পরামর্শ, যাত্রার আগে কলকাতা ট্রাফিক পুলিশের সর্বশেষ ট্রাফিক অ্যাডভাইজরি দেখে নেওয়া উচিত। বিশেষ করে বিমানবন্দর, রেলস্টেশন বা গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে যাওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সময় হাতে রেখে বের হলে অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি এড়ানো সম্ভব হবে।
সব মিলিয়ে, **২ আগস্ট সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত মোট ৮ ঘণ্টা বিদ্যাসাগর সেতু সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।** সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাই এই সময়ে যাতায়াতের পরিকল্পনা থাকলে বিকল্প রাস্তা ব্যবহার এবং অতিরিক্ত সময় হাতে রেখে বের হওয়াই হবে সবচেয়ে নিরাপদ ও সুবিধাজনক সিদ্ধান্ত।


