পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিল ভারত। **ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর (S. Jaishankar)** ফোনে কথা বলেন **ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি (Abbas Araghchi)**-র সঙ্গে। আলোচনার মূল বিষয় ছিল পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা। ভারত এই আলোচনায় ফের স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, যেকোনও সংঘাতের স্থায়ী সমাধান শুধুমাত্র **আলোচনা, সংযম এবং কূটনীতির মাধ্যমেই সম্ভব।**
বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর সামাজিক মাধ্যমে জানান, ইরানের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তিনি পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের গভীর উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন এবং সমস্ত পক্ষকে সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভারত বরাবরই সংলাপ ও কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে এবং ভবিষ্যতেও সেই অবস্থান বজায় রাখবে।
এই আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল **বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা**। জয়শঙ্কর স্পষ্টভাবে বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বার্থে সমুদ্রপথে চলাচলকারী জাহাজ এবং নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। কোনও পরিস্থিতিতেই বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা উচিত নয়। কারণ মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রপথ বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুট এবং ভারতের জ্বালানি আমদানির বড় অংশও এই পথ দিয়েই আসে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি শুধু ওই অঞ্চলের নয়, গোটা বিশ্বের অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এই অঞ্চলে সংঘাত বাড়লে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি, সরবরাহে বিঘ্ন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সেই কারণেই ভারত শুরু থেকেই শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর জোর দিয়ে আসছে।
ভারতের সঙ্গে ইরানের দীর্ঘদিনের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। জ্বালানি, বাণিজ্য, আঞ্চলিক সংযোগ এবং নিরাপত্তা—বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান পরিস্থিতিতেও ভারত একদিকে যেমন আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, অন্যদিকে সব পক্ষের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখার নীতিও অনুসরণ করছে।
পররাষ্ট্র বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের এই কূটনৈতিক উদ্যোগের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বজায় রাখা নয়, বরং পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি না পায়, সেই দিকেও নজর রাখা। বিশেষ করে ভারতীয় নাগরিক, নাবিক এবং জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
জয়শঙ্কর ও আরাঘচির এই আলোচনা এমন সময়ে হল, যখন পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বিভিন্ন দেশ কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে এবং সংঘাত এড়াতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। ভারতও সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে শান্তি ও সংলাপের বার্তা দিয়েছে।
সব মিলিয়ে, **ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে ফোনালাপে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং সংলাপ, কূটনীতি, বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।** ভারতের অবস্থান স্পষ্ট—আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে সংঘাত নয়, কূটনৈতিক সমাধানই একমাত্র পথ।


