ভারতীয় ক্রীড়ার ইতিহাসে নতুন সোনালি অধ্যায়ের সূচনা করলেন **অস্মিতা দে**। গ্লাসগোয় অনুষ্ঠিত **কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬**-এ মহিলাদের **৪৮ কেজি জুডো** বিভাগে সোনা জিতে ইতিহাস গড়লেন তিনি। এই জয়ের মাধ্যমে অস্মিতা দে হয়ে উঠলেন **কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে জুডো ইভেন্টে ভারতের প্রথম স্বর্ণপদকজয়ী**। তাঁর এই সাফল্যে গোটা দেশ গর্বিত এবং ভারতীয় জুডো নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করল।
ফাইনালে অস্মিতার প্রতিপক্ষ ছিলেন কানাডার **হেইডি কোয়াচ (Heidi Quach)**। শুরু থেকেই দুই প্রতিযোগীর মধ্যে ছিল টানটান লড়াই। নির্ধারিত সময় শেষে স্কোর ছিল ১-১ সমতায়। ফলে ম্যাচ গড়ায় **গোল্ডেন স্কোর** পর্যায়ে। অতিরিক্ত সময়ে অসাধারণ কৌশল এবং দুর্দান্ত মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় দিয়ে একটি **ইউকো (Yuko)** অর্জন করেন অস্মিতা। সেই পয়েন্টই তাঁকে এনে দেয় ঐতিহাসিক স্বর্ণপদক।
ভারতের জুডো ইতিহাসে এটি এক যুগান্তকারী মুহূর্ত। অতীতে ভারত কমনওয়েলথ গেমসে জুডোয় একাধিক রুপো ও ব্রোঞ্জ পদক জিতলেও, স্বর্ণপদক অধরাই ছিল। অস্মিতা দে সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দেশের জুডোকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিলেন।
মাত্র **২৩ বছর বয়সী** অস্মিতা দে দীর্ঘদিন ধরেই ভারতীয় জুডোর অন্যতম সম্ভাবনাময় মুখ হিসেবে পরিচিত। কঠোর অনুশীলন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এবং মানসিক দৃঢ়তার ফল হিসেবেই এসেছে এই সাফল্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই জয় আগামী প্রজন্মের ভারতীয় জুডোকাদের কাছে বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
অস্মিতার এই সাফল্যের দিনটি ভারতের জন্য আরও স্মরণীয় হয়ে ওঠে। একই দিনে পুরুষদের জুডো বিভাগে **হর্ষ সিং**-ও স্বর্ণপদক জিতে ইতিহাস গড়েন। ফলে একদিনেই জুডো থেকে ভারতের ঝুলিতে আসে দুটি ঐতিহাসিক সোনা। পাশাপাশি ইয়ামিনী মৌর্যও পদক জিতে ভারতের সাফল্য আরও সমৃদ্ধ করেন।
ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের মতে, গত কয়েক বছরে ভারতে জুডোর পরিকাঠামো, প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। এই ঐতিহাসিক স্বর্ণপদক সেই অগ্রগতিরই প্রতিফলন।
অস্মিতার এই জয়ের পর দেশজুড়ে শুভেচ্ছার বন্যা বইতে শুরু করেছে। ক্রীড়াপ্রেমী, প্রাক্তন খেলোয়াড়, বিভিন্ন ক্রীড়া সংস্থা এবং রাজনৈতিক নেতৃত্ব তাঁর এই সাফল্যের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমেও তাঁর নাম ট্রেন্ড করতে শুরু করেছে। অনেকে মনে করছেন, এই জয় ভারতের জুডোকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও বড় পরিচিতি এনে দেবে।
বিশ্লেষকদের মতে, কমনওয়েলথ গেমসে এই ঐতিহাসিক সাফল্য ভবিষ্যতে এশিয়ান গেমস, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ এবং অলিম্পিকের মতো বড় প্রতিযোগিতায় ভারতীয় জুডোকাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জুডোর প্রতি নতুন প্রজন্মের আগ্রহও অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে।
সব মিলিয়ে, **কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ অস্মিতা দে-র ঐতিহাসিক স্বর্ণপদক শুধু একটি ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং ভারতীয় জুডোর ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা।** তাঁর এই কীর্তি দীর্ঘদিন ভারতীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের মনে বিশেষ স্থান করে নেবে।


