মহিলাদের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে এবং শহরে পুলিশের উপস্থিতিকে আরও দৃশ্যমান করে তুলতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে **কলকাতা পুলিশ**। এবার **দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াডের সদস্যদের জন্য বিশেষ গোলাপি ও কমলা রঙের ইউনিফর্ম** চালু করা হচ্ছে। এই নতুন পোশাক শুধু আলাদা পরিচিতিই দেবে না, বরং প্রয়োজনে সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত পৌঁছনোর ক্ষেত্রেও সহায়ক হবে বলে মনে করছে পুলিশ প্রশাসন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড মূলত মহিলাদের নিরাপত্তা, ইভ-টিজিং রোধ, জনবহুল এলাকায় টহল, সাইবার সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার কাজ করবে। শহরের ব্যস্ত মোড়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার, মেট্রো স্টেশন এবং জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় এই বাহিনীর সদস্যদের নিয়মিত মোতায়েন করা হবে।
নতুন ইউনিফর্মে **গোলাপি (Pink)** এবং **কমলা (Orange)**—এই দুই রঙকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পুলিশের মতে, গোলাপি রঙ নারীর নিরাপত্তা ও সহমর্মিতার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হলেও কমলা রঙ সাহস, সতর্কতা এবং দ্রুত পদক্ষেপের বার্তা বহন করে। এই দুই রঙের সমন্বয়ে তৈরি ইউনিফর্ম সাধারণ মানুষের নজরে সহজেই আসবে এবং বিপদের সময় সাহায্য চাইতেও সুবিধা হবে।
এই উদ্যোগের পাশাপাশি দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াডকে আধুনিক প্রযুক্তি ও বিশেষ প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে। সদস্যদের মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধ মোকাবিলা, আত্মরক্ষা, সাইবার অপরাধ সম্পর্কে সচেতনতা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়ার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও তাঁদের সঙ্গে আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জামও থাকবে।
কলকাতা পুলিশের দাবি, এই বাহিনী শুধু অপরাধ দমনের জন্য নয়, সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া, কর্মজীবী মহিলা এবং রাতের শহরে যাতায়াতকারী নারীদের মধ্যে নিরাপত্তার অনুভূতি বাড়ানোই এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য। প্রয়োজনে দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াডের সদস্যরা ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক সহায়তা দেবেন এবং দ্রুত সংশ্লিষ্ট থানার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।
শুধু টহল নয়, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আবাসন, বাজার এবং জনবহুল এলাকায় সচেতনতামূলক কর্মসূচিও চালাবে এই স্কোয়াড। সাইবার প্রতারণা, অনলাইন হয়রানি, স্টকিং, নারীর প্রতি সহিংসতা এবং জরুরি পরিষেবা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হবে। এর মাধ্যমে অপরাধ প্রতিরোধের পাশাপাশি নাগরিকদের মধ্যে আইনি সচেতনতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
নগর নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের বহু শহরে বিশেষায়িত নারী নিরাপত্তা ইউনিট ইতিবাচক ফল দিয়েছে। দৃশ্যমান পুলিশি উপস্থিতি অপরাধ কমাতে এবং দ্রুত অভিযোগ জানাতে মানুষকে উৎসাহিত করে। কলকাতা পুলিশের এই নতুন উদ্যোগও সেই লক্ষ্যেই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।
পুলিশ প্রশাসনের আশা, নতুন রঙের ইউনিফর্মের কারণে দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াডের সদস্যদের সাধারণ মানুষ সহজেই চিনতে পারবেন। ফলে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাহায্য পাওয়া এবং পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা আরও সহজ হবে। ভবিষ্যতে শহরের আরও বিভিন্ন এলাকায় এই বাহিনীর কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
এছাড়া শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে **পিঙ্ক সিকিউরিটি বুথ** এবং অন্যান্য নারী নিরাপত্তা প্রকল্পের সঙ্গে দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড সমন্বয় রেখে কাজ করবে। এতে মহিলাদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরিষেবাগুলিকে আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে প্রশাসন।
সব মিলিয়ে, **গোলাপি ও কমলা রঙের নতুন ইউনিফর্মে কলকাতা পুলিশের দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াডের আত্মপ্রকাশ** শহরে নারী নিরাপত্তা জোরদারের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আধুনিক প্রশিক্ষণ, দৃশ্যমান উপস্থিতি এবং দ্রুত পরিষেবার মাধ্যমে এই বিশেষ বাহিনী কলকাতার নাগরিকদের আরও নিরাপদ পরিবেশ দেওয়ার লক্ষ্যেই কাজ করবে।


