**কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬**-এ ভারতের পদক জয়ের ধারা অব্যাহত। অ্যাথলেটিক্সে একদিনেই দেশের ঝুলিতে এল একটি ঐতিহাসিক **সোনা** এবং একটি **রুপো**। প্যারা অ্যাথলিট **দিলীপ মহাদু গাভিত** অসাধারণ দৌড়ে গেমস রেকর্ড গড়ে স্বর্ণপদক জিতে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। অন্যদিকে, ভারতের তারকা লং জাম্পার **মুরলি শ্রীশঙ্কর** টানা দ্বিতীয় কমনওয়েলথ গেমসে রুপো জিতে নিজের ধারাবাহিকতার প্রমাণ দিয়েছেন। এই দুই সাফল্যে গ্লাসগোতে ভারতের পদক সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
দিনের সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে পুরুষদের **প্যারা ১০০ মিটার টি৪৭** ইভেন্টে। মহারাষ্ট্রের তরুণ প্যারা অ্যাথলিট **দিলীপ মহাদু গাভিত** দুরন্ত গতিতে দৌড় শেষ করে **১০.৭১ সেকেন্ড** সময় নিয়ে স্বর্ণপদক জেতেন। শুধু সোনা জেতাই নয়, তিনি **কমনওয়েলথ গেমসের নতুন রেকর্ডও** গড়েন। এই পারফরম্যান্স ভারতের প্যারা অ্যাথলেটিক্সের ইতিহাসে অন্যতম সেরা অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
একই ইভেন্টে ভারতের আরেক প্যারা অ্যাথলিট **মহম্মদ বাসিল মরসিংগানাকাঠি** রুপো জিতে ভারতের সাফল্য আরও উজ্জ্বল করেন। ফলে পুরুষদের ১০০ মিটার টি৪৭ ফাইনালে ভারত **১-২ স্থান** দখল করে নজির গড়ে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই ধরনের ফলাফল ভারতীয় প্যারা অ্যাথলেটিক্সের ক্রমবর্ধমান শক্তির পরিচয় বহন করে।
অন্যদিকে, পুরুষদের লং জাম্পে ভারতের অন্যতম ভরসা **মুরলি শ্রীশঙ্কর** আবারও পদক জিতলেন। তিনি নিজের দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় **৮.০৯ মিটার** লাফ দিয়ে রুপো নিশ্চিত করেন। দীর্ঘ সময় পর্যন্ত তিনি প্রতিযোগিতায় এগিয়েও ছিলেন। তবে পরে জামাইকার **তাজে গেইল** ৮.১৫ মিটার লাফিয়ে সোনা জিতে নেন। মাত্র **৬ সেন্টিমিটারের ব্যবধানে** সোনা হাতছাড়া হলেও শ্রীশঙ্করের পারফরম্যান্স ভারতীয় অ্যাথলেটিক্সের জন্য অত্যন্ত গর্বের।
এটি শ্রীশঙ্করের **টানা দ্বিতীয় কমনওয়েলথ গেমস রুপো পদক**। ২০২২ সালেও তিনি রুপো জিতেছিলেন। গত কয়েক বছরে চোট কাটিয়ে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেছেন এই কেরলের অ্যাথলিট। তাঁর ধারাবাহিক সাফল্য প্রমাণ করে যে তিনি এখনও বিশ্বের সেরা লং জাম্পারদের সঙ্গে সমানতালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে সক্ষম।
পদক জয়ের পর দিলীপ গাভিত বলেন, এই সাফল্য তাঁর বহু বছরের কঠোর পরিশ্রমের ফল। তিনি এই পদক দেশের মানুষ এবং তাঁর কোচদের উৎসর্গ করেছেন। অন্যদিকে, শ্রীশঙ্কর জানান, রুপো পেয়ে তিনি খুশি হলেও তাঁর লক্ষ্য ছিল সোনা। ভবিষ্যতে আরও উন্নতি করে বড় প্রতিযোগিতায় দেশের জন্য স্বর্ণপদক জেতাই তাঁর লক্ষ্য।
ভারতের এই সাফল্যে রাষ্ট্রপতি **দ্রৌপদী মুর্মু**-সহ দেশের বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং ক্রীড়া মহল দুই অ্যাথলিটকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমেও তাঁদের প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন ক্রীড়াপ্রেমীরা। বিশেষ করে দিলীপ গাভিতের গেমস রেকর্ড এবং প্যারা অ্যাথলেটিক্সে ভারতের সাফল্যকে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের অ্যাথলেটিক্স দল এবার ধারাবাহিকভাবে ভালো ফল করছে। ট্র্যাক ও ফিল্ড উভয় বিভাগেই ভারতীয় ক্রীড়াবিদরা পদকের লড়াইয়ে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। এর ফলে সামগ্রিক পদক তালিকায়ও ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।
ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, প্যারা অ্যাথলেটিক্স এবং মূল অ্যাথলেটিক্স—দুই ক্ষেত্রেই ভারতীয়দের ধারাবাহিক উন্নতি ভবিষ্যতের অলিম্পিক ও বিশ্ব প্রতিযোগিতার জন্য ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। তরুণ প্রতিভাদের সাফল্য এবং অভিজ্ঞ অ্যাথলিটদের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেশের ক্রীড়া পরিকাঠামোর উন্নতিরও প্রতিফলন।
সব মিলিয়ে, **কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এর সপ্তম দিনে দিলীপ মহাদু গাভিতের ঐতিহাসিক গেমস রেকর্ড-সহ স্বর্ণপদক এবং মুরলি শ্রীশঙ্করের টানা দ্বিতীয় রুপো** ভারতের ক্রীড়া ইতিহাসে স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। এই সাফল্য দেশের পদক সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি ভারতীয় অ্যাথলেটিক্সের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।


