পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ফের তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবার তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে এবং সেই অর্থের একটি অংশ নাকি কালো টাকা থেকে সাদা টাকায় রূপান্তরের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে এই বিস্ফোরক অভিযোগ করেন ঋতব্রত।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে রাজ্যের একাধিক সরকারি প্রকল্প। তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক সিএজি (CAG) রিপোর্টে আমফান ত্রাণ এবং ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্পে আর্থিক অনিয়মের যে তথ্য উঠে এসেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই রিপোর্টের ভিত্তিতেই তিনি অভিযোগ করেন, প্রকল্পের অর্থের অপব্যবহার হয়েছে এবং সেই অর্থের কিছু অংশ বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলেও তাঁর সন্দেহ। পাশাপাশি, তিনি আরও দাবি করেন যে কালো টাকা সাদা করার জন্য বহু বেনামি সংস্থার ব্যবহার হয়েছে। তবে এই সমস্ত অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনও বিচারিকভাবে প্রমাণিত নথি প্রকাশ করেননি।
বিরোধী দলনেতার বক্তব্য, এই অভিযোগগুলির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে নিরপেক্ষভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষের করের টাকা কীভাবে ব্যয় হয়েছে, সেই বিষয়ে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা থাকা প্রয়োজন। তিনি বলেন, যদি কোনও অনিয়ম হয়ে থাকে, তবে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
অন্যদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই নির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। এর আগে অবশ্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে বিরোধী নেতাদের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তিনি আইনি পদক্ষেপও নিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই ধরনের অভিযোগ-প্রত্যাঘাত নতুন নয়। তবে সিএজি রিপোর্টকে সামনে রেখে বিরোধীদের আক্রমণ রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। আগামী দিনে এই অভিযোগ নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সেগুলি অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হয়। কোনও আদালত বা তদন্তকারী সংস্থা এখনও এই নির্দিষ্ট অভিযোগের সত্যতা প্রতিষ্ঠা করেনি। ফলে বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তদন্ত এবং আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।
এদিকে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিরোধীদের এই আক্রমণের জবাবে তৃণমূল কংগ্রেসও পাল্টা রাজনৈতিক অবস্থান নিতে পারে। রাজ্যে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ইস্যুতে রাজনৈতিক উত্তেজনা রয়েছে। তার মধ্যেই এই নতুন অভিযোগ আগামী দিনের রাজনৈতিক আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক তরজাকে আরও তীব্র করেছে। তবে অভিযোগগুলির সত্যতা নিয়ে এখনও কোনও সরকারি তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশিত হয়নি এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আদালতে প্রমাণিতও হয়নি। তাই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়।


