ভারতীয় ভারোত্তোলনের ইতিহাসে আরও এক সোনালি অধ্যায় যোগ করলেন অলিম্পিক পদকজয়ী তারকা **মীরাবাই চানু**। গ্লাসগোয় অনুষ্ঠিত **কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬**-এর মহিলা ভারোত্তোলনে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে তিনি টানা তৃতীয়বারের মতো সোনার পদক জিতে নিলেন। এই ঐতিহাসিক সাফল্যের পর দেশজুড়ে তাঁকে অভিনন্দন জানানো হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী **নরেন্দ্র মোদী**-ও সোশ্যাল মিডিয়ায় বিশেষ বার্তায় মীরাবাইয়ের প্রশংসা করেন এবং তাঁর এই কৃতিত্বকে ভারতের জন্য গর্বের মুহূর্ত বলে উল্লেখ করেন।
মহিলাদের নির্ধারিত ওজন বিভাগে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন মীরাবাই। স্ন্যাচ ও ক্লিন অ্যান্ড জার্ক—দুই বিভাগেই ধারাবাহিকভাবে সফল লিফট করে প্রতিদ্বন্দ্বীদের অনেকটাই পিছনে ফেলে দেন। চাপের মুহূর্তেও তাঁর অভিজ্ঞতা এবং নিখুঁত কৌশল স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে। শেষ পর্যন্ত মোট ওজন তুলে তিনি স্বর্ণপদক নিশ্চিত করেন এবং আবারও প্রমাণ করেন কেন তিনি বিশ্বের অন্যতম সেরা ভারোত্তোলক।
এই জয়ের মাধ্যমে মীরাবাই চানু কমনওয়েলথ গেমসে **টানা তিনটি স্বর্ণপদক** জয়ের বিরল কৃতিত্ব অর্জন করলেন। এর আগে তিনি ২০১৮ সালের গোল্ড কোস্ট এবং ২০২২ সালের বার্মিংহাম কমনওয়েলথ গেমসেও দেশের হয়ে সোনা জিতেছিলেন। ২০২৬ সালে সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে তিনি ভারতীয় ক্রীড়া ইতিহাসে নিজের নাম আরও উজ্জ্বল করে তুললেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সামাজিক মাধ্যমে মীরাবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে লেখেন, তাঁর এই সাফল্য দেশের কোটি কোটি তরুণ ক্রীড়াবিদকে অনুপ্রাণিত করবে। কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা এবং দেশের জন্য লড়াই করার মানসিকতার জন্য তিনি মীরাবাইয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী, বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং দেশের একাধিক বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদও তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
মণিপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে এসে আন্তর্জাতিক ক্রীড়ামঞ্চে নিজের পরিচয় তৈরি করেছেন মীরাবাই চানু। আর্থিক প্রতিকূলতা, কঠিন অনুশীলন এবং একাধিক চোটের সঙ্গে লড়াই করেও তিনি কখনও নিজের লক্ষ্য থেকে সরে যাননি। অলিম্পিকে রুপো জয়ের পর তাঁর জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে, আর এবার কমনওয়েলথ গেমসে টানা তৃতীয় সোনা সেই সাফল্যের মুকুটে নতুন পালক যোগ করল।
ভারতীয় কোচিং স্টাফের মতে, প্রতিযোগিতার আগে থেকেই মীরাবাই দারুণ ছন্দে ছিলেন। তাঁর ফিটনেস, শক্তি এবং মানসিক প্রস্তুতি ছিল অসাধারণ। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের চাপ সামলেও যেভাবে তিনি নিজের সেরা পারফরম্যান্স তুলে ধরেছেন, তা তরুণ ভারোত্তোলকদের কাছে শিক্ষণীয়।
ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারতীয় ভারোত্তোলনের মান উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মীরাবাই চানুর ধারাবাহিক সাফল্য সেই উন্নতির অন্যতম বড় উদাহরণ। তাঁর মতো একজন তারকা খেলোয়াড়ের উপস্থিতি নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বাড়াচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভারতের সম্ভাবনাও আরও উজ্জ্বল করছে।
সোশ্যাল মিডিয়াতেও মীরাবাইয়ের জয় উদযাপিত হয়েছে। ক্রীড়াপ্রেমীরা তাঁকে “ভারতের আয়রন লেডি” বলে অভিনন্দন জানিয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ধারাবাহিকভাবে পদক জয় করে তিনি ভারতীয় ক্রীড়া ইতিহাসের অন্যতম সফল মহিলা অ্যাথলিট হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
ভারতের পদক তালিকায় এই সোনা বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। কমনওয়েলথ গেমসের শুরুতেই ভারোত্তোলনে একের পর এক সাফল্য ভারতীয় দলের মনোবল বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে অ্যাথলেটিক্স, বক্সিং, কুস্তি, ব্যাডমিন্টন এবং অন্যান্য ইভেন্টেও ভারতের পদকসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।
সব মিলিয়ে, **মীরাবাই চানুর টানা তৃতীয় কমনওয়েলথ গেমস স্বর্ণপদক** শুধু একটি ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, ভারতীয় ক্রীড়ার জন্যও এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্স, অদম্য লড়াই এবং দেশের জন্য বারবার সাফল্য এনে দেওয়ার মানসিকতা তাঁকে ভারতীয় ক্রীড়াজগতের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। প্রধানমন্ত্রী থেকে সাধারণ ক্রীড়াপ্রেমী—সবার শুভেচ্ছায় এখন ভাসছেন ভারতের এই স্বর্ণকন্যা।


