পশ্চিমবঙ্গে ডিজিটাল রেশন কার্ড সংক্রান্ত সমস্যাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এবার রেশন ডিলারদের সংগঠন অভিযোগ তুলেছে, পুরনো ডেটাবেসের ত্রুটি এবং যৌথ পরিবারের তথ্য হালনাগাদ না হওয়ায় বহু প্রকৃত উপভোক্তার রেশন কার্ড অকারণে বাতিল বা নিষ্ক্রিয় হয়ে যাচ্ছে। এই সমস্যার দ্রুত সমাধানের দাবিতে অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার ফেডারেশন রাজ্যের খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তরের সচিবের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছে।
সংগঠনের দাবি, ডিজিটাল রেশন কার্ডের তথ্যভান্ডার তৈরি হওয়ার সময় বহু পরিবারকে যৌথ পরিবার হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে সেই পরিবারগুলির অনেকেই আলাদা হয়ে পৃথক সংসার গড়ে তুলেছেন। বাস্তবে আলাদা থাকলেও সরকারি নথিতে এখনও তাঁরা একই পরিবারের সদস্য হিসেবে রয়ে গিয়েছেন। ফলে যাচাই প্রক্রিয়ায় একাধিক জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
ডিলারদের অভিযোগ, বর্তমান স্বয়ংক্রিয় যাচাই ব্যবস্থায় একটি পরিবারের একজন সদস্য আর্থিকভাবে সচ্ছল বলে চিহ্নিত হলে, একই প্রোফাইলে যুক্ত অন্য সদস্যদের রেশন কার্ডও অনেক ক্ষেত্রে একসঙ্গে বাতিল বা নিষ্ক্রিয় হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে প্রকৃত দরিদ্র ও যোগ্য উপভোক্তারাও খাদ্য নিরাপত্তা প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সংগঠনের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসুর বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে পরিবার বিভাজন বা পৃথক রেশন কার্ড তৈরির প্রক্রিয়া পর্যাপ্ত গতিতে এগোয়নি। তাই বহু মানুষ এখনও পুরনো তথ্যের ভিত্তিতেই সরকারি ডেটাবেসে নথিভুক্ত রয়েছেন। এর ফলে ডিজিটাল যাচাইয়ের সময় প্রকৃত অবস্থার সঙ্গে সরকারি তথ্যের মিল না থাকায় নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
রেশন ডিলারদের আরও দাবি, এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব তাঁদের উপরও পড়ছে। রেশন কার্ড বাতিল হওয়ার পর বহু গ্রাহক রেশন দোকানে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন এবং ডিলারদের দায়ী করছেন। অথচ কার্ড বাতিল বা ডেটাবেস সংশোধনের বিষয়ে ডিলারদের কোনও ভূমিকা নেই। ফলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়ছেন, অন্যদিকে রেশন ডিলাররাও অযথা জনরোষের মুখে পড়ছেন।
ফেডারেশনের পক্ষ থেকে রাজ্য সরকারের কাছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানানো হয়েছে। তাদের মতে, যৌথ পরিবার ভেঙে পৃথকভাবে বসবাসকারী সদস্যদের জন্য দ্রুত পরিবার বিভাজনের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি রেশন কার্ড বাতিলের আগে প্রকৃত পরিস্থিতি যাচাই করার ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। তাছাড়া প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে যাঁদের কার্ড বাতিল হয়েছে, তাঁদের দ্রুত পুনরায় সক্রিয় করারও দাবি জানিয়েছে সংগঠন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল জনবণ্টন ব্যবস্থা স্বচ্ছতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও পুরনো তথ্য বা অসম্পূর্ণ ডেটাবেস থাকলে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের সমস্যার মুখে পড়তে হতে পারে। তাই নিয়মিত তথ্য হালনাগাদ, পরিবার বিভাজনের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি এবং উপভোক্তাদের অভিযোগ শোনার কার্যকর ব্যবস্থা থাকা জরুরি। একইসঙ্গে সরকারও ভুয়ো ও অযোগ্য রেশন কার্ড শনাক্ত করার জন্য নিয়মিত যাচাই প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে।
রেশন কার্ড সংক্রান্ত কোনও সমস্যা দেখা দিলে উপভোক্তারা সংশ্লিষ্ট খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তর অথবা জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইন (NFSA)-এর অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার মাধ্যমে আবেদন জানাতে পারেন। এতে ভুলবশত বাতিল হওয়া কার্ড বা অন্যান্য প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধান পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
সব মিলিয়ে, যৌথ পরিবারের পুরনো তথ্যের কারণে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের রেশন কার্ড বাতিল হওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রেশন ডিলারদের সংগঠন দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছে, যাতে প্রকৃত উপভোক্তারা কোনওভাবেই সরকারি খাদ্য নিরাপত্তা প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন।


