বাংলার রাজনৈতিক এবং সংবাদমাধ্যমের দুই পরিচিত মুখ—বিজেপি নেতা তথা চলচ্চিত্র পরিচালক শঙ্কুদেব পণ্ডা এবং বিশিষ্ট সাংবাদিক স্বর্ণালী সরকার। দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে নানা জল্পনা চললেও কখনও প্রকাশ্যে তা স্বীকার করেননি কেউই। অবশেষে সমস্ত গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে ১২ জুলাই গঙ্গার বুকে একটি ভাসমান ফ্লোটেলে সাতপাকে বাঁধা পড়েছেন এই দুই পরিচিত ব্যক্তিত্ব। তাঁদের বিয়ের খবর সামনে আসতেই শুভেচ্ছার বন্যায় ভেসে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া। একই সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে তাঁদের প্রায় ১১ বছরের দীর্ঘ প্রেমের কাহিনি।
সূত্রের খবর, শঙ্কুদেব পণ্ডা এবং স্বর্ণালী সরকারের পরিচয় আজকের নয়। শঙ্কুদেব যখন ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তখন থেকেই তাঁদের পরিচয়। ধীরে ধীরে সেই পরিচয় বন্ধুত্বে এবং পরে গভীর সম্পর্কে পরিণত হয়। যদিও দু’জনেই নিজেদের পেশাগত জীবনকে সর্বদা অগ্রাধিকার দিয়েছেন, তাই ব্যক্তিগত সম্পর্ক কখনও প্রকাশ্যে আনেননি। বরং তাঁরা সচেতনভাবেই নিজেদের সম্পর্ককে প্রচারের আলো থেকে দূরে রেখেছিলেন।
দু’জনের ব্যক্তিত্বও একেবারে আলাদা। পরিচিতদের মতে, স্বর্ণালী সরকার শান্ত, সংযত এবং গম্ভীর স্বভাবের মানুষ। অন্যদিকে শঙ্কুদেব পণ্ডা প্রাণবন্ত ও মিশুক। এই স্বভাবগত পার্থক্য কখনও তাঁদের সম্পর্কে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। বরং একে অপরের প্রতি বিশ্বাস, শ্রদ্ধা এবং বোঝাপড়াই তাঁদের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছে।তবে এই দীর্ঘ সম্পর্কে সব সময় যে শুধুই সুখের মুহূর্ত ছিল, তা নয়। জানা যায়, ২০১৮ সালে শঙ্কুদেব পণ্ডা বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর কিছু সময়ের জন্য তাঁদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। সেই সময় স্বর্ণালী একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে কর্মরত ছিলেন। পেশাগত ব্যস্ততা এবং ভিন্ন পরিস্থিতির কারণে সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ২০১৯ সাল থেকে আবারও তাঁরা কাছাকাছি আসেন এবং সম্পর্ক নতুন করে এগিয়ে যায়।
পরিবারের ইচ্ছায় ২০২২ সালে তাঁরা নীরবে আংটি বদল করেছিলেন বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে সেই খবর কখনও প্রকাশ্যে আসেনি। এমনকি পরবর্তীকালে বিয়ের পরিকল্পনা থেকেও সাময়িকভাবে সরে দাঁড়িয়েছিলেন তাঁরা। ফলে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে নানা জল্পনা আরও বাড়তে থাকে।
এরপর স্বর্ণালী সরকারের জীবনে আসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তিনি আইভিএফ পদ্ধতির মাধ্যমে একক মা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং পরে যমজ কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। এই কঠিন সময়ে শঙ্কুদেব পণ্ডা তাঁর পাশে ছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নবজাতকদের বিশেষ পরিচর্যার প্রয়োজন হওয়ায় পরিবারকে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়। সেই সময় মানসিকভাবে স্বর্ণালীকে সাহস জুগিয়েছিলেন শঙ্কুদেব বলেই জানা যায়।
এমনও দাবি করা হয়েছে যে, দুই কন্যার অন্নপ্রাশনের অনুষ্ঠানেও বাবার ভূমিকা পালন করেছিলেন শঙ্কুদেব। যদিও ব্যক্তিগত জীবনের এই বিষয়গুলি নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও বিস্তারিত মন্তব্য করেননি নবদম্পতি। তবে তাঁদের দীর্ঘ সম্পর্কের ভিত যে পারস্পরিক আস্থা ও দায়িত্ববোধের উপর দাঁড়িয়ে ছিল, তা বিভিন্ন মহলের আলোচনায় উঠে এসেছে।
অবশেষে সমস্ত মান-অভিমান এবং ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে ১২ জুলাই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন শঙ্কুদেব পণ্ডা ও স্বর্ণালী সরকার। গঙ্গার বুকে আয়োজিত সেই বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং সংবাদমাধ্যমের বহু পরিচিত ব্যক্তিত্ব। অনুষ্ঠানে বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট অতিথিদের উপস্থিতি নজর কেড়েছে।
বিয়ের ছবি এবং ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুভেচ্ছার বন্যা বইছে। অনেকেই তাঁদের দীর্ঘ ১১ বছরের সম্পর্ককে ধৈর্য, বিশ্বাস এবং পরিণত ভালোবাসার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করছেন। দীর্ঘ পথচলার শেষে নতুন জীবনের সূচনা করেছেন এই তারকা যুগল। ব্যক্তিগত জীবনের নতুন অধ্যায়ে তাঁদের জন্য শুভেচ্ছা জানিয়েছেন অনুরাগী, সহকর্মী এবং শুভানুধ্যায়ীরা।


