পশ্চিম বঙ্গে শহরাঞ্চলে ফুটপাত দখল এবং অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ নতুন নয়। সাধারণ পথচারীদের চলাচলের সমস্যা থেকে শুরু করে যানজট—বিভিন্ন কারণে এই বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। এবার আসানসোলে ফুটপাত দখলকে কেন্দ্র করে সরব হলেন বিজেপি নেত্রী ও বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি প্রশাসন এবং পুলিশকে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে দখলমুক্ত ফুটপাত নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
অগ্নিমিত্রা পালের বক্তব্য সামনে আসার পর থেকেই বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। একদিকে সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচলের প্রশ্ন, অন্যদিকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকা—এই দুই বিষয়ের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে বজায় রাখা হবে, তা নিয়েও শুরু হয়েছে আলোচনা।
ফুটপাত দখল নিয়ে ক্ষোভআসানসোল শহরের একাধিক এলাকায় ফুটপাত দখলের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অভিযোগ, দোকান, অস্থায়ী স্টল এবং বিভিন্ন ধরনের অবৈধ দখলের কারণে পথচারীদের রাস্তা দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
এই পরিস্থিতির পরিবর্তন দাবি করে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, সাধারণ মানুষের স্বার্থে ফুটপাতের মূল উদ্দেশ্য ফিরিয়ে আনতে হবে। প্রশাসন এবং পুলিশকে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ারও আবেদন জানান তিনি।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নঅগ্নিমিত্রা পালের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাঁর মতে, নিয়মিত অভিযান চালালে ফুটপাত পুনরুদ্ধার করা সম্ভব।
তিনি প্রশাসনের কাছে দাবি জানান, শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সমীক্ষা চালিয়ে কোথায় কোথায় অবৈধ দখল রয়েছে, তা চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
পথচারীদের দুর্ভোগফুটপাত দখলের ফলে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে স্কুলপড়ুয়া, প্রবীণ নাগরিক এবং মহিলাদের ব্যস্ত রাস্তায় গাড়ির মাঝখান দিয়ে হাঁটতে বাধ্য হতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, বহু জায়গায় ফুটপাত কার্যত ব্যবহারই করা যায় না। ফলে প্রতিদিন দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়েই চলাফেরা করতে হচ্ছে।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উদ্বেগঅন্যদিকে ফুটপাতে ব্যবসা করা বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর জীবিকা এই ব্যবসার উপর নির্ভরশীল। তাই দখলমুক্ত করার নামে যদি হঠাৎ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়, তাহলে তাঁদের জীবিকা সংকটে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশাসনের উচিত আইন প্রয়োগের পাশাপাশি বিকল্প পুনর্বাসনের বিষয়টিও বিবেচনা করা।
শহর পরিকল্পনায় ভারসাম্যের প্রয়োজননগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, ফুটপাতের মূল উদ্দেশ্য হল পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা। তবে একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য নির্দিষ্ট হকার জোন তৈরি করাও জরুরি।
এভাবে পরিকল্পিত ব্যবস্থা নেওয়া গেলে একদিকে যেমন শহরের সৌন্দর্য বজায় থাকবে, অন্যদিকে বহু মানুষের জীবিকাও সুরক্ষিত থাকবে।
রাজনৈতিক চাপানউতোরঅগ্নিমিত্রা পালের মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে পাল্টা প্রতিক্রিয়া। বিরোধী দল বিষয়টিকে সাধারণ মানুষের স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত করে দেখলেও, শাসক দলের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে ভিন্ন মত প্রকাশ করা হয়েছে।
ফলে ফুটপাত দখল ইস্যু এখন শুধুমাত্র প্রশাসনিক বিষয় নয়, রাজনৈতিক আলোচনারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
প্রশাসনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জবিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের সমস্যার সমাধানে শুধুমাত্র উচ্ছেদ অভিযান যথেষ্ট নয়। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, বিকল্প ব্যবস্থা এবং নিয়মিত নজরদারি জরুরি।
আইন মেনে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা—দুই দিকই সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে প্রশাসনকে।
কী হতে পারে পরবর্তী পদক্ষেপ?অগ্নিমিত্রা পালের বক্তব্যের পর প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে। যদি দখলমুক্ত করার অভিযান শুরু হয়, তাহলে শহরের বিভিন্ন এলাকায় তার প্রভাব পড়তে পারে।
তবে প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বিস্তারিত ঘোষণা করা হয়নি। পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।


