এশিয়ান গেমস ২০২৬-কে সামনে রেখে ভারতীয় ক্রীড়া মহলে শুরু হয়েছে জোর প্রস্তুতি। বিভিন্ন ডিসিপ্লিনে সম্ভাব্য পদকজয়ীদের নিয়ে চূড়ান্ত দল গঠন করছে সংশ্লিষ্ট ফেডারেশনগুলি। তবে দল ঘোষণার পর থেকেই শুটিং মহলে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফরম্যান্স করা এক তরুণ ভারতীয় শুটারের নাম চূড়ান্ত স্কোয়াডে না থাকায় অবাক হয়েছেন অনেক ক্রীড়াপ্রেমী এবং বিশেষজ্ঞ।
এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে নজর না দিয়ে কীসের ভিত্তিতে দল নির্বাচন করা হয়েছে? যদিও নির্বাচক কমিটির পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত কোনও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ছিল নজরকাড়াতরুণ এই শুটার গত কয়েকটি জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিকভাবে ভালো ফল করেছেন। একাধিক ইভেন্টে ফাইনালে ওঠার পাশাপাশি পদকও জিতেছেন। তাঁর উন্নতি দেখে অনেকেই মনে করেছিলেন, এশিয়ান গেমসের মতো বড় মঞ্চে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ তিনি নিশ্চিতভাবেই পাবেন।
কিন্তু দল ঘোষণার পর দেখা যায়, তাঁর নাম চূড়ান্ত তালিকায় নেই। পরিবর্তে অভিজ্ঞ কয়েকজন শুটারকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তই এখন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু।
নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্নভারতীয় শুটিংয়ে দল নির্বাচন সাধারণত ট্রায়াল, আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিং, সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স এবং ধারাবাহিকতার ভিত্তিতে করা হয়। তবুও অনেক সময় অভিজ্ঞতা ও বড় টুর্নামেন্টে খেলার সক্ষমতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এই ঘটনায় অনেকের মতে, তরুণ প্রতিভাদের পর্যাপ্ত সুযোগ না দিলে ভবিষ্যতের বড় প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুতি ব্যাহত হতে পারে। অন্যদিকে, নির্বাচকদের একাংশ মনে করেন, বড় আসরে চাপ সামলানোর অভিজ্ঞতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
তরুণদের জন্য কঠিন প্রতিযোগিতাভারতীয় শুটিং বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দলগুলির মধ্যে অন্যতম। প্রায় প্রতিটি ইভেন্টেই একাধিক প্রতিভাবান শুটার রয়েছেন। ফলে একটি স্কোয়াডে জায়গা পাওয়া অত্যন্ত কঠিন।
এই কারণেই অনেক যোগ্য খেলোয়াড়কেও শেষ পর্যন্ত বাইরে থাকতে হয়। তবুও এমন কোনও খেলোয়াড় বাদ পড়লে, যিনি সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিকভাবে ভালো ফল করেছেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে।
অভিজ্ঞতা বনাম তরুণ প্রতিভাক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় টুর্নামেন্টে দল গঠনের সময় অভিজ্ঞতা এবং বর্তমান ফর্ম—দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধুমাত্র অতীতের সাফল্যের উপর নির্ভর করলে ভবিষ্যতের তারকাদের উঠে আসার পথ কঠিন হয়ে যেতে পারে।
আবার শুধুমাত্র তরুণদের নিয়ে দল গঠন করলেও বড় মঞ্চের চাপ সামলাতে সমস্যা হতে পারে। তাই নির্বাচন কমিটির সিদ্ধান্ত সবসময়ই কঠিন।
এশিয়ান গেমসে ভারতের প্রত্যাশাগত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক শুটিংয়ে ভারত ধারাবাহিকভাবে সাফল্য পেয়েছে। অলিম্পিক, বিশ্বকাপ এবং এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতীয় শুটাররা একাধিক পদক জিতেছেন। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এখন প্রধান লক্ষ্য।
এশিয়ান গেমসেও শুটিং ভারতের অন্যতম বড় পদক প্রত্যাশার ইভেন্ট। তাই শক্তিশালী দল গঠন করতে কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না নির্বাচকরা।
সামনে এখনও সুযোগ রয়েছে
যদিও এই তরুণ শুটার এশিয়ান গেমসের দলে জায়গা পাননি, তবুও তাঁর সামনে আন্তর্জাতিক কেরিয়ার শেষ হয়ে যায়নি। আগামী দিনে বিশ্বকাপ, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ এবং অলিম্পিক বাছাইপর্বে ভালো পারফরম্যান্স করে আবারও জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ রয়েছে।
ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি বড় টুর্নামেন্টে সুযোগ না পাওয়া মানেই কেরিয়ারের ইতি নয়। বরং এটি আরও কঠোর পরিশ্রম করার অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারে।
নজর থাকবে ভবিষ্যতের দিকে
ভারতীয় শুটিংয়ে প্রতিযোগিতা যত বাড়ছে, ততই দল নির্বাচনের প্রতিটি সিদ্ধান্ত আলোচনার বিষয় হয়ে উঠছে। এশিয়ান গেমস ২০২৬-এর স্কোয়াডে এই তরুণ শুটারের নাম না থাকলেও, তাঁর প্রতিভা এবং সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ভবিষ্যতের জন্য আশার আলো দেখাচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, আগামী প্রতিযোগিতাগুলিতে তিনি কীভাবে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করে আবারও জাতীয় দলে জায়গা করে নেন।


